মুন্সিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির অব্যবস্থাপনা ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় একাডেমির অডিটোরিয়াম ও অন্যান্য সুবিধা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, ফলে জেলার নাট্যদল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে গেছে।
শিল্পীরা জানান, ভাঙা চেয়ার, বিকল সাউন্ড সিস্টেম, ফ্যানের সংকট, নষ্ট টয়লেট, জরাজীর্ণ ব্যাক স্ক্রিন, আলোকসজ্জার অভাবসহ নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে একাডেমিটি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে থাকা জেনারেটরটিও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অভিজিৎ দাস ববি বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জের শিল্পীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান বয়ে এনেছেন। অথচ জেলা শিল্পকলা একাডেমির এমন নাজুক অবস্থা নতুন শিল্পী তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঞ্চ, চেয়ার, ব্যাক স্ক্রিন—সবই ভেঙে পড়েছে। নাটক মঞ্চায়নের জন্য স্থানটি মোটেই উপযুক্ত নয়।’
মুন্সিগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ঢালী বলেন, ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো সুবিধা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, স্ট্যান্ড ফ্যান ভেঙে চুরমার, পারটেক্স খসে পড়েছে। অনুষ্ঠান করতে হলে বাইরে থেকে লাইট, সাউন্ড, এমনকি পর্দাও ভাড়া করতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বেসরকারি নাট্যদলই নয়, সরকারি অনুষ্ঠানেও বাইরে থেকে যন্ত্রপাতি এনে চলতে হয়। এমনকি জেলা প্রশাসকের অনুষ্ঠানেও সাউন্ড ও লাইট ভাড়া করতে হয়।’
জানা গেছে, শিল্পকলার পেছনের সাদা ব্যাক স্ক্রিনটি বহু পুরনো ও ছেঁড়া অবস্থায় রয়েছে। এটি দেখতে যেমন অপ্রতুল, তেমনি কার্যকারিতাও হারিয়েছে।
এই বিষয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমির দায়িত্বপ্রাপ্ত কালচারাল অফিসার মো. এরশাদ হাসান জানান, ‘আমি মাত্র দুই মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। জনবল সংকট চরম। কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই, বাইরে থেকে ভাড়া করে আনতে হয়। ইতোমধ্যে গণপূর্ত বিভাগে সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা দ্রুতই উপস্থাপন করা হবে।’

সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন প্রশাসন, সংস্কৃতি বিভাগ, শিল্পী এবং প্রশিক্ষকদের সমন্বিত উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কমিটি না থাকাও একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত একটি নির্বাচিত কমিটি গঠন করে একাডেমিকে সংস্কৃতি চর্চার উপযোগী রূপে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
প্রতিনিধি/একেবি




