শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ঢাকা

রেস্তোরাঁ সচল রাখতে সূর্যমুখী চাষ, লাভ দ্বিগুণ

আশিকুর রহমান মিঠু
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:১৪ এএম

শেয়ার করুন:

রেস্তোরাঁ সচল রাখতে সূর্যমুখী চাষ, লাভ দ্বিগুণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের গোকর্ণ এলাকা থেকে রসুলপুর যাওয়ার সড়কের দুই পাশ বছরের অর্ধেক সময় পানিতে টইটম্বুর থাকে। বর্ষাকালে সড়কটি হয়ে উঠে আরও বেশি নান্দনিক। স্বচ্ছ জলরাশির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে এসে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। আর বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় গঠে উঠেছে মিনি পার্ক ও রেস্তোরাঁ। তবে পানি শুকিয়ে গেলে পার্ক-রেস্তোরাঁগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীও কমে যায়।

এবার পর্যটক টানতে পার্ক-রেস্তোরাঁগুলোর পক্ষ থেকে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। এর ফলে পানি না থাকলেও সূর্যমুখীর বাগানগুলো পর্যটকদের কাছে টানবে। রসুলপুর এলাকার মেলা রসুলপুর পার্ক ও ক্যাফে ডটকম নামে দুইটি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ সূর্যমূখী ফুলের চাষ করেছে। পার্ক-রেস্তোরাঁর পাশেই সূর্যমুখী বাগানের অবস্থান। প্রতিদিন বাগানগুলোতে দর্শনার্থীরা এড়ে ভিড় জমাচ্ছেন।

শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন রসুলপুর এলাকায় গিয়ে দেখে যায়, মেলা রসুলপুর পার্ক ও ক্যাফে ডটকম রেস্তোরাঁর পশ্চিম পাশের কয়েকটি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। বাগানগুলোতে বাতাসে দুলছে হলুদ সূর্যমুখী ফুল। নান্দনিক এই দৃশ্য দেখছেন দর্শনার্থীরা। তবে ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে কেউ কেউ ফুল ছিঁড়ে ফেলেন। এজন্য বাগানের পাহারায় লোক নিয়োগ করা হয়েছে।

সূর্যমুখীর বাগান দেখতে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বাসিন্দা বাহাদুর আলম জানান, পানির সময় রসুলপুর সড়কটি অনেক বেশি সুন্দর লাগে। দুই পাশে স্বচ্ছ জলরাশির সৌন্দর্যে যে কারও মন ভরে যাবে। তবে এখন পানি না থাকলেও সূর্যমুখীর বাগান দেখে ভালো লাগছে। মিষ্টি রোদে বাতাসে দুলছে সূর্যমুখী ফুল। এই দৃশ্য খুবই চমৎকার।

আরেক দর্শনার্থী হাসান মিয়া জানান, সূর্যমুখীর বাগান দেখার উদ্দেশ্যে পরিবার নিয়ে তিনি মেলা রসুলপুর পার্কে এসেছেন। পার্কের ঘোরার পাশাপাশি সূর্যমুখীর বাগান দেখে অভিভূত হয়েছে তার পরিবার।

flower-2


বিজ্ঞাপন


ক্যাফে ডটকমের মালিক খায়রুল আলম বলেন, বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে রসুলপুরে কয়েকটি মিনি পার্ক ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। জেলা সদরের কাছাকাছি হওয়ায় পরিবার নিয়ে একটু সময় কাটাতে মানুষজন চালে আসেন রসুলপুরে। তবে যখন পানি থাকে না, তখন পার্ক- রেস্তোরাঁগুলোতে বেচাকেনা কমে যায়। সেজন্য পর্যটক টানতে এবার আমরা সূর্যমুখীর বাগান করেছি।

খায়রুল বলেন, আমার বাগানটি প্রায় ২০ শতাংশ জায়গায়। পর্যটকরা এখন সূর্যমুখী দেখার জন্য আমাদের পার্ক-রেস্তোরাঁয় আসছেন। এখন পার্ক-রেস্তোরাঁ সচল থাকার কারণে আমাদের বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। অন্যদিকে পতিত জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করার কারণে সেই ফুলের বীজ বিক্রি করেও লাভবান হবো। সেদিক বিবেচনা করলে আমাদের লাভ দ্বিগুণ।

টিবি/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর