ঈদের পর দিন একদিনের সফরে রাজবাড়ী এসেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য-সচিব আলোচিত চিকিৎসক তাসনিম জারা।
ডা. তাসনিম জারা একদিনের হৃদয়স্পর্শী অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন তার ভেরিভাইড ফেসবুক পেজে। পোস্টটি করার এক ঘণ্টার মধ্যে ৫৯ হাজার লাইক, ৩৫০০ কমেন্ট ও ৬০০ শেয়ার হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঈদের পরের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার একদিনের সফরের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৩ এপ্রিল রাতে বাংলা এবং ইংরেজিতে দেওয়া তার বাংলা পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
ঈদের পরদিন রাজবাড়ীতে ছিলাম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একশ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছি। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে, এক উঠোন থেকে আরেক উঠোনে গিয়েছি।
বিজ্ঞাপন
কোনো মঞ্চ ছিল না, কোনো মাইক্রোফোন ছিল না। আমরা গোল হয়ে বসেছি মানুষের ঘরের উঠোনে। কখনও খোলা আকাশের নিচে, কখনো টিনের চালার নিচে, আবার কখনো গাছতলায়। আশপাশের বাড়ির মানুষরা এসে বসেছেন। বলেছেন তাদের জীবনের গল্প, ছোট ছোট সমস্যার কথা যার সমাধান হলে জীবনটা হয়ত একটু সহজ হয়ে উঠত।
এর মধ্যে একটা বৈঠকে পারভীন আপা এমন একটা গল্প বললেন যা আমি সহজে ভুলতে পারব না। উনি দুই মাস আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। গ্রামের সরু, ভাঙা পথে গাড়ি চলার উপায় নেই, তাই গাড়ি দিয়ে স্বামীর মরদেহ বাড়িতে আনতে পারেননি। আনতে হয়েছে ভ্যানে করে। কথাগুলো বলার সময় পারভীন আপা কেঁদে ফেললেন। তার কথায় ছিল গভীর এক অসহায়ত্ব।
পারভীন আপার এই কথাগুলো বারবার মনে পড়ে। ঘুমাতে গেলে চোখ বুজতেই তার মুখটা দেখতে পাই। সেই অসহায় চোখ, যেখানে সম্মান হারানোর কষ্ট বড় ক্ষত হয়ে বসে গেছে।
আমরা দুর্নীতি নিয়ে অনেক কথাই বলি। বলি যে দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। কিন্তু সেদিন আমি নিজের চোখে দেখে এসেছি, কার কাছ থেকে টাকাগুলো লুট করা হয়েছে। সেই টাকা লুট করা হয়েছে পারভীন আপাদের মতো মানুষের কাছ থেকে, যারা সামান্য একটু রাস্তা, একটু সম্মান ছাড়া আর কিছুই চান না। অথচ সেটুকুও তারা পান না।
যারা দেশটাকে লুট করেছে, আমার মনে হয় না কখনও তারা পারভীন আপার মতো কারও উঠানে বসে জীবনের গল্প শুনেছেন। শুনলে হয়তো তারাও রাতে ঘুমাতে পারতেন না।
প্রতিনিধি/এসএস