শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

অষ্টগ্রামে সংখ্যালঘু’র দোকান দখল, অভিযোগেও মিলছে না প্রতিকার

জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ 
প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৫, ০২:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img

কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলা সদরের বড় বাজারে এক হিন্দু মালিকের দোকান জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে। দখলদাররা পুরনো মালিকের নামে ব্যানার ঝুলিয়ে দোকানটি নিজেদের নামে দাবি করছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পায়নি। ক্ষুব্ধ পরিবারটি বিষয়টি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য নিতাই চন্দ্র বণিকের ভাই গৌরাঙ্গ বণিক বলেন, ‘আমার ভাই নিতাই চন্দ্র বণিক ২০০০ সালের ১৪ জুন সোনাই দীঘিরপাড় এলাকার আব্দুল হেকিমের কাছ থেকে অষ্টগ্রাম বড় বাজারে আধা শতাংশ জায়গাসহ দোকানটি কিনেছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে মৃত নিতাই বণিকের ছেলে মানিক চন্দ্র বণিক এবং তার ভাই আরাধন চন্দ্র বণিকের নামে দোকানটি খাজনা করা হয়েছে।’


বিজ্ঞাপন


দোকানটি এলাকায় জসিম মিয়ার কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল। তিনি মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক সামগ্রির ব্যবসা করতেন। তবে গত ৭ ফেব্রুয়ারি মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে ওয়াজ মিয়া, দানা মিয়া ও জয় মিয়া জোরপূর্বক জসিম মিয়াকে বের করে দিয়ে দোকানে তালা লাগিয়ে দেন। এর সাথে তারা দোকানের উপরে মৃত আব্দুল হাকিমের নাম লেখা একটি ব্যানারও ঝুলিয়ে দেন।

এছাড়া গৌরাঙ্গ বণিক অভিযোগ করেন, ‘এখন দখলদাররা আমাদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, ফলে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষয়ে আমরা ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ওসির কাছে আবেদন করলেও প্রতিকার পাইনি।’

অন্যদিকে, মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে ওয়াজ মিয়া দাবি করেন, ‘নিতাই চন্দ্র বণিকের কাছ থেকে আধা শতাংশ জায়গা কিনলেও আমাদের দখলে আরও আধা শতাংশ জায়গা রয়েছে, যা ফেরত দেওয়ার জন্য বারবার বললেও তারা দিতে চাইছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে নিতাই বণিকদের ক্রয় করা জায়গা অক্ষত রয়েছে, এবং ১৪৪ ধারা পাশের জায়গায় জারি করা হয়েছিল।’

অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানিয়েছেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ আমরা বসেছিলাম কিন্তু মীমাংসা করতে পারিনি। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।’


বিজ্ঞাপন


এ ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার এবং তাদের সমর্থকরা।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন