রোববার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ঝিনাইদহে ট্রিপল মার্ডার: ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও নেই কোনো সুখবর

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৩২ এএম

শেয়ার করুন:

ঝিনাইদহে ট্রিপল মার্ডার: ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও নেই কোনো সুখবর

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা ঝিনাইদহ। স্বাধীনতার পরবর্তী  বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠনের অভয়ারণ্য বলা হয় এ জেলাকে। জেলার দক্ষিণে যশোর, উত্তরে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি, পূর্বে মাগুরা এবং পশ্চিমে চুয়াডাঙ্গা জেলা দিয়ে বেষ্টিত এ জেলা। এক সময়ের সর্বহারা, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ গণবাহিনী, লাল পতাকা বাহিনী, এমএলসহ আরও বেশ কয়েকটি চরমপন্থি সংগঠনের ব্যাপক দৌরাত্ম্য চলে নব্বুইয়ের দশকের শেষ দিক পর্যন্ত। ২০০০ সালের পর থেকে তাদের অস্তিত্ব বিভিন্ন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এদের ব্যাপকতা কমতে থাকে। হঠাৎ গত শুক্রবারের ট্রিপল মার্ডারে এদের অস্তিত্ব নতুন করে জানান দেয়। সেখানে একটি হোয়্যাটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা ঘটনার প্রেক্ষাপট বদলে দেয়।

বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় একটি হুমকিমূলক ক্ষুদে বার্তা । যেখানে লেখা রয়েছে, ‘ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনাবাসীর উদ্দেশে জানানো যাচ্ছে, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি নামধারী কুখ্যাত ডাকাত বাহিনীর শীর্ষ নেতা অসংখ্য খুন, গুম, দখলদারি, ডাকাতি, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হরিণাকুন্ডুনিবাসী হানিফ তার দুই সহযোগীসহ জাসদ গণবাহিনীর সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। এই অঞ্চলের হানিফের সহযোগীদের শুধরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো, অন্যথায় আপনাদের একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’ কুষ্টিয়া এলাকার জাসদ গণবাহিনীর নেতা কালু দায় স্বীকার করে।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

ঝিনাইদহে গোলাগুলিতে শীর্ষ চরমপন্থী নেতাসহ তিনজন নিহত

যে স্থানে হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়, ঝিনাইদহের শৈলকুপার রামচন্দ্রপুর শ্মশানঘাটে ঘটে এ ঘটনা। এই একই স্থানে গত ২৪ বছর আগে ফাইভ মার্ডার সংগঠিত হয়েছিল। তখনও এই ঘটনার দায় স্বীকার করে জাসদ গণবাহিনী।

ট্রিপল মার্ডারে নিহত তিনজন হলেন- ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার আহাদননগর গ্রামের রাহাজ উদ্দিনের ছেলে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি জনযুদ্ধের (লাল পতাকা) সামরিক কমান্ডার হানিফ আলী (৫৬), তার শ্যালক একই উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের উন্মাদ আলীর ছেলে লিটন হোসেন (৩৮) ও কুষ্টিয়া ইবি থানার পিয়ারপুর গ্রামের আরজান হোসেনের ছেলে রাইসুল ইসলাম রাজু (২৮)।

জানা যায়, জনযুদ্ধের সামরিক কমান্ডার হানিফ ৯০ দশকে হরিণাকুন্ডু, ঝিনাইদহ সদর, চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় হত্যা ডাকাতির মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৪টি হত্যাসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে।  ২০১৪ সালে তিনি জেল থেকে বের হন। তিনি হরিণাকুন্ড উপজেলার মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।


বিজ্ঞাপন


shaoilkupa_20250222_072139560

নিহত হানিফের ছোট ভাই হরিণাকুন্ডু উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাজেদুল ইসলাম ইশা জানান, আমার আল্লাহ কাছে বিচার দিলাম। তবে, তার ভাইয়ের নিষিদ্ধ সংগঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখানে দু’টি পয়েন্ট রয়েছে। একটি প্রতিপক্ষরা এ ঘটনা সংগঠিত করেছে। আর অন্যটি, নিজেরাই গ্রুপিং করে সংগঠিত করে অন্যদের দোষ চাপাচ্ছে।

নিহত হানিফের স্ত্রী শান্তি বেগম অবশ্য দাবি করেন, আমার স্বামী কারও কোনো ক্ষতি করেননি। তাবে কেন তার স্বামী ও ভাই লিটনকে এভাবে জীবন দিতে হলো? ঘটনার পরের দিন শনিবার রাতে লাশ পোস্টমর্টেম শেষ করে হরিণাকুন্ডুর আহাদনগর গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এরপর থেকেই তিনি অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চ রক্তচাপজনিত ভর্তি রয়েছেন।

শৈলকূপা থানা ওসি মাসুম খান জানান, ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩ মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে এখনও মামলা হয়নি। কোনো আটকের খবরও তিনি দিতে পারেননি।

ঝিনাইদহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া জানান, ক্ষুদে বার্তাটির ব্যাপারে ব্যাপকভাবে তদন্ত চলছে। আমাদের সঙ্গে র‍্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। ঘটনাটি সত্যিই কোনো চরমপন্থি সংগঠনের কি না অথবা মামলার ক্লু ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কোনোভাবেই জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর