শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

আবার শুরু নেত্রকোনা বাইপাস সড়কের নির্মাণ কাজ

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

আবার শুরু নেত্রকোনা বাইপাস সড়কের নির্মাণ কাজ

নেত্রকোনার বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি হলো বাইপাস সড়ক। জেলা শহরের জ্যাম কমাতে  ২০২২ সালে বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন সরকার। ১৩.২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই সড়কটি শহরের পূর্বপ্রান্তে বাংলা এলাকা হয়ে কয়েকটি গ্রামের ভেতর দিয়ে শহর পার হয়ে চল্লিশা এলাকায় নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে সড়কে গিয়ে মিশেছে।  

সড়কটি নির্মাণ শেষ হলে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, মধ্যনগর, নেত্রকানার বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, কলমাকান্দাসহ আরও বেশ কয়েকটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ শহরের যানজট এড়িয়ে নির্বিঘ্নে ঢাকা-ময়মনসিংহ যেতে পারবেন।


বিজ্ঞাপন


natrokona_1

তবে প্রকল্পটি শুরুর পর জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় একদফা কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আরেক দফা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় কাজ। এতে কাজের মেয়াদ বাড়াতে হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। তবে সব বাধা কাটিয়ে সম্প্রতি পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে এ প্রকল্পের।

নির্ধারিত সময়ে ২০২৬ সালের জুন মাসেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আলনূর সালেহীন।

বাইপাস সড়কটি নির্মাণ হলে এর আশপাশে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি হবে। হোটেলসহ নানা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে। এতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান হবে। সেইসঙ্গে বাড়বে জমিজমার দাম। তাই দ্রুত বাইপাস সড়কটি নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।


বিজ্ঞাপন


natrokona_2

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, মধ্যনগর, নেত্রকোনার বারহাট্টা, খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দাসহ আরও বেশ কয়েকটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ জেলা শহরের ভেতর দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ যাতায়াত করেন। সেইসঙ্গে পণ্যবাহী ভারী যানবাহনও শহর দিয়ে যাতায়াত করে। শহরের সরু সড়কে বড় বড় যানবাহন চলাচল করায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। শহরকে যানজটমুক্ত করতেই বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহগামী বড় বড় যানবাহন বাইপাস সড়ক দিয়ে চলে যাবে। ফলে শহর যানজট মুক্ত হবে।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা শহরের পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েক উপজেলার লাখো মানুষ ঢাকা-ময়মনসিংহ যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনে শহরের ভেতর যানজটে পড়তে হয়। জনভোগান্তি লাঘবে ২০২২ সালে বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন সরকার। ১৩.২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাইপাস সড়কটি শহরের পূর্বদিকে বাংলা এলাকা দিয়ে শুরু হয়ে শহরের পশ্চিম দিকে চল্লিশা দিয়ে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের সাথে মিশে গেছে। জমি অধিগ্রহণসহ পুরো কাজের বরাদ্দ ধরা হয় ২৯৪ কোটি টাকা। কাজটি পায় ঢাকার দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহের ব্রাদার্স লিমিটেড ও মেসার্স জামিল ইকবাল। ২০২২ সালে মে মাসে বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়, শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালের জুনে। তবে জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় কাজ আটকে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সময় বাড়ানো হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।  গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আরেক দফা আটকে যায়  প্রকল্পের কাজ। দেখা দেয় অনি নিশ্চয়তা। তবে সব বাধা কাটিয়ে সম্প্রতি পুরো দমে কাজ শুরু হয়েছে জেলাবাসীর সপ্নের এ প্রকল্পের। ইতিমধ্যে সড়কের অনেক অংশ দৃশ্যমান হয়েছে। সড়কের সেতু কালভার্টও তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।

natrokona_3

এ বিষয়ে সদর উপজেলার বাদে আমলি গ্রামের সুমন মিয়া ও ছমেদ মিয়া বলেন, বাইপাস সড়কটি আমাদের গ্রামের অবস্থাই বদলে দিয়েছে। গ্রামের  অনেক অংশই বিল-ডোবা ছিল। জমির তেমন কোনো দাম ছিল না। জমি কেনার মতো কোনো গ্রাহক পাওয়া যেত না। কিন্তু সড়ক নির্মাণ শুরু হওয়ার পর জমির দাম দশগুণ বেড়ে গেছে। এখন নিয়মিত জমি কেনার গ্রাহক আসে, তবে কেউ আর জমি বিক্রি করতে চায় না।

পাশের কুনিয়া গ্রামের রফিকুল মিয়া ও হানিফ মিয়া জানান, সড়কটি নির্মাণ হলে আমাদের ভাগ্য বদলে যাবে। কিছুটা পায়ে হেঁটে তারপর অটো দিয়ে শহরে গিয়ে পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ যেতে হতো। এখন আমার বাড়ির সামনে থেকে গাড়িতে করে সব জায়গায় যেতে পারব। ছেলে-মেয়েরাও সহজে স্কুলে যেতে পারবে। বাড়ির পাশেই স্কুলকলেজ হবে নিশ্চই। ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয়দের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। জমির দাম তো ইতোমধ্যেই বহুগুণ বেড়ে গেছে। আরও কত সুবিধা বলে শেষ করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন থাকবে তারা যেন দেরি না করে দ্রæত সড়কের কাজ শেষ করেন।

natrokona_4

এ বিষয়ে নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আলনূর সালেহীন বলেন, ভূমি অধিগ্রহণসহ সকল জটিলতা কেটে গেছে। ভূমি মালিকরা টাকা পাচ্ছেন তাই তারা জায়গা খালি করে দিচ্ছেন। এখন পুরোদমে কাজ চলছে। এই মুহূর্তে সামনে আর কোনো বাধা নেই। ফলে আর সময় বাড়াতে হবে না। নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

প্রতিনিধি/ এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর