নেত্রকোনায় জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক তারিফুর রহমান রিপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে তা বন্ধে শ্রমিকদের আয়োজিত মানববন্ধনে হামলা হয়েছে।
এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিসহ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে পরিবহন শ্রমিকদের ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজনে এই ঘটনা ঘটে।
আহত সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক নান্টু মিয়া, মিন্টু মিয়া, ট্রাক পরিবহন শ্রমিক আজগর আলী, নির্মাণ শ্রমিক সুজন মিয়া, জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তৌফিক নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন।

এদিকে গত ৪ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু স্বাক্ষরিত এক পত্রে অসাংগঠনিক ও সংগঠন বিরোধী কাজের অংশ হিসেবে স্থানীয় পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি, দখল ও হুমকি-ধমকিসহ একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারিফুর রহমান রিপনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়।
শ্রমিক ও পুলিশ জানায়, সকালে বিভিন্ন পরিবহনের সাধারণ শ্রমিকেরা জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তারিফুর রহমান রিপনের বিরুদ্ধে পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করেন। আয়োজক শ্রমিকেরা ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অপরপক্ষ হামলা চালায়। এসময় উভয়পক্ষ হাতাহাতিসহ সংঘর্ষে জড়ান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় উভয়পক্ষের ৮জন আহত হন।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক নান্টু মিয়া বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের পরিবহন সেক্টর চাঁদাবাজমুক্ত হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক তারিফুর রহমান রিপন স্থানীয় পরিবহন খাতের অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে চাঁদাবাজি শুরু করেন। এতে আমরা শ্রমিকেরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। তার এই চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে আমরা শ্রমিকেরা আজ জেলা প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করি। মানববন্ধন শুরু করার মুহূর্তে তারিফুর রহমান রিপনের লোকজন হামলা চালিয়ে আমাদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। তাদের হামলায় আমাদের লোকজন আহত হন। আমরা রিপনের চাঁদাবাজি বন্ধ চাই এবং এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার চাই।

উভয় পক্ষে মারামারিতে আহত জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তৌফিক বলেন, আমি ১৯ বছর ধরে দেখিনি যারা আজকে প্রোগ্রাম করতে আসছে তারা বিএনপির কোনো প্রোগ্রাম করতে। আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়া আজকে তারা আক্রমণ করে আমাকে মারছে। বিগত দিনে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে চলে সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছে। আমাদেরকে স্ট্যান্ড থেকে বের করে দিয়েছিল। আমাদের দাবি, বিগত দুর্দিনে তারিফুর রহমান রিপনকে নিয়ে আমরা চলেছি, মাঠে ছিল তারাই এখন থাকবে। নতুন করে কেউ যাতে না আসতে পারে সেটাই আমাদের দাবি।
জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক তারিফুর রহমান রিপনের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ জানান, সকালে একদল শ্রমিক অপর গ্রুপের শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে চাইলে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি।
প্রতিনিধি/এসএস




