শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

প্রধান শিক্ষকের গাফলতির কারণে অনিশ্চয়তায় ৫৩ পরীক্ষার্থী

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রধান শিক্ষকের গাফলতির কারণে অনিশ্চয়তায় ৫৩ পরীক্ষার্থী

সাতক্ষীরা সদরের বল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের বিরুদ্ধে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে গাফলতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তায় পড়েছে ভোকেশনাল বিভাগের ৫৩ শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় বুধবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যালয়ের সভাপতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন অভিভাবকরা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেন।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২০২৫ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) শাখার পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা ১০ নভেম্বর শেষ হয় এবং প্রধান শিক্ষক ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি ভোকেশনাল ফরম ফিলাপের শেষ তারিখ ঘোষণা দিয়ে নোটিশ প্রদান করেন। এত কম সময়ে অভিভাবকরা ধার দেনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম ফিলাপ বাবদ টাকা পরিশোধ করেন। তবে প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের অবহেলা ও ভোকেশনাল শাখার প্রধান ট্রেড ইন্সট্রাক্টর আহসানউল্লাহ ও কম্পিউটার প্রদর্শক নাসরিন সুলতানার উদাসিনতার কারণে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইনে ফরম ফিলাপ করা হয়নি। ফলে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এদিকে, শিক্ষার্থী প্রতি তিন'শ টাকা হারে বিলম্ব ফি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপর বিলম্ব ফি চাপানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাছাড়া বিলম্ব ফি উত্তোলনে প্রধান শিক্ষক কোচিং ফি’র মাধ্যমে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক দায়িত্বে অবহেলা কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

একাধিক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুল তাড়াহুড়া করে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে টাকা জমা দেওয়ার কথা জানান। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিয়েছি। তবে বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত নোটিশে দেখা যায় ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বোর্ডে টাকা জমা দেননি। ফলে ৫৩ শিক্ষার্থী এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এখন বিলম্ব ফি নেওয়ার জন্য নানা ধরনের তালবাহানা করছে। যেহেতু প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, তাই তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্তপূর্বক দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুল জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোর্ডে ফি জমা দেওয়া হয়নি। তবে পরে জমা দেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র জানান, ইউএনও স্যার অভিযোগপত্রটি আমার কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে ওই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপ করেছি। প্রধান শিক্ষক অন্য শিক্ষকদের উপর দোষারোপ করে বলেন- তিনি বিলম্ব ফি মওকুফ করে ফরম পূরণের বিষয়টি দেখবেন। এসময় কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। এখানে দায়িত্ব অবহেলা হয়েছে, এটার প্রমাণ মিলেছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রদান করা হবে, যেহেতু তিনি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, তাই তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর