শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

নারী দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেফতার ৫

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

loading/img

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিত্তবানদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে ফরিদপুরে। জেলার সদরপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি একাধিক ব্যক্তিকে নিঃস্ব করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এ চক্রের খপ্পরে পড়েন সদরপুরের মুজাহিদ মৃধা। এ ঘটনায় রোববার (৮ ডিসেম্বর) তিনি বাদী হয়ে সদরপুর থানায় ৯ জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোনে হঠাৎ অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে মুজাহিদ মৃধার ফোন নম্বরে। সেখান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে কয়েকদিন ফোনে কথাবার্তা হয়। একপর্যায়ে মেয়েটি তাকে কল করে বাইশরশি জমিদার বাড়িতে আসতে বলে। মুজাহিদ ওই স্থানে গেলে তাকে অটোবাইকে উঠতে বলে মেয়েটি। ঘোরাফেরার একপর্যায়ে কৌশলে পূর্ব শৌলডুবী এলাকার সাবেক মেম্বার শেখ ফারুকের বাড়িতে একটি টিনের ঘরে নিয়ে মুজাহিদকে আটক করা হয়। এরপর চক্রের কয়েকজন মুজাহিদকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং প্রাণনাশের ভয় দেখায়। পরে তার কাছ থেকে মুক্তিপণ বাবদ ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে জোর করে চারটি সাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেয়।


বিজ্ঞাপন


বিষয়টি মুজাহিদের স্বজনরা জানতে পেরে স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে রাতের বেলা ফারুক মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে সোহরাব খালাসি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে এবং মুজাহিদকে উদ্ধার করে। ওই সময় চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি সদরপুর থানা পুলিশকে অবহিত করলে তারা সোহরাব খালাসীকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের নাম-ঠিকানা জানা যায়।

এ মামলায় ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি লিমা আক্তার, শেখ ফারুক মেম্বারের স্ত্রী রেনু বেগম, সোহরাব খালাসী, রবিন খান ও মৌসুমী আক্তারকে গ্রেফতার করে ফরিদপুর জেলহাজতে প্রেরণ করে সদরপুর থানা পুলিশ।

কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তিতাস বলেন, আমার ইউনিয়নে এমন একটি চক্র আছে, আমি আগে অবগত ছিলাম না। এই চক্রকে যদি দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না আনা হয়, তবে আরও বহু ব্যক্তি এদের খপ্পরে পরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ ব্যাপারে ওই মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই তানভীর জানান, অভিযান চালানোর জন্য ফোর্সের সংকট রয়েছে, তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন
ফুলশয্যার আগে দেনমোহরের টাকা নিয়ে পালালেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোতালেব বলেন, এই মামলায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, অপহরণ চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নারী সদস্যকে দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতো। তারপর কৌশলে ডেকে নিয়ে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করত।

প্রতিনিধি/ এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন