কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসছে বিপুল পরিমাণ ময়লা- আবর্জনা। এসব আবজর্নার কারণে সৈকতের বালিয়াড়ি ও চারপাশের পরিবেশ দূষিত ও শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে জোয়ারের সময় এসব বর্জ্য সমুদ্র থেকে উপকূলে ভেসে আসে।
বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী, কবিতা চত্বর, শৈবাল ও ডায়াবেটিস পয়েন্টের বালিয়াড়িজুড়ে পড়ে আছে প্লাস্টিকের বোতল, খড়, নাস্তার প্যাকেট, কাঁচের বোতল, পলিথিন, প্লাস্টিকের দড়ি, কাঠ ও বাঁশের টুকরো। এসব বর্জ্যের কারণে পর্যটকদের হাঁটাচলায় বিঘ্ন ঘটছে, সেই সঙ্গে পর্যটকদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে এসব আবর্জনা।

বুধবার সকাল পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন স্থানে এসব ময়লা আবর্জনার অস্তিত্ব দেখা যায়। ময়লাগুলো অপসারণের উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের।
সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটক জিল্লুর রহমান জানান, এসব ময়লা সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে। বালিয়াড়িতে ময়লাগুলো দেখতে খুব বিশ্র লাগছে। সংশ্লিষ্টদের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব আবর্জনা পরিস্কার করে নেওয়া।

সি সেইফ লাইফ গার্ডের কর্মী জয়নাল আবেদীন টিপু বলেন, দুপুরে জোয়ারের পানিতে এসব বর্জ্য ভেসে আসে। যা কলাতলী থেকে ডায়াবেটিস পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু বর্জ্য পরিস্কারে কোনো তৎপরতা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চোখে পড়েনি।

সৈকতের পর্যটকরা জানান, বালিয়াড়িতে পড়ে থাকা বর্জ্যের কারণে চলাফেরা করতে সমস্যা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৈকতের সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। তাই এসব বর্জ্য অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আতাউল গণি ওসমানী বলেন, আবর্জনাগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সন্ধ্যা থেকে ওইসব এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছে। আশা করছি বুধবার সকালের মধ্যেই সমুদ্র সৈকতের ময়লাগুলো পরিস্কার হয়ে যাবে।

এর আগে, ২০২৩ সালে মার্চ মাসে টানা কয়েক দিন একই ধরনের বর্জ্য সৈকতে ভেসে এসেছিল। ওই সময় বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বোরি) দায়িত্বে থাকা মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর জানিয়েছিলেন, সমুদ্রে নিম্নচাপ, বায়ুপ্রবাহ, পানির ঘূর্ণায়ন (এডি), সমুদ্রের পানির গতি প্রবাহসহ সমুদ্র পৃষ্ঠের ধরনের ওপর ভিত্তি করে সমুদ্র উপকূলের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ভাসমান প্লাস্টিকসহ ও অন্যান্য বর্জ্য জমা হয়েছে।

এসব নিম্নচাপে জোয়ারের সময় সমুদ্রের উপরি পৃষ্ঠের পানি অতি মাত্রায় বেড়ে গিয়ে ফুলে ওঠে এবং ঘূর্ণনের ফলে সমুদ্রের ভাসমান বর্জ্য একসঙ্গে জমা হয়ে ভেসে আসে সৈকতে।
প্রতিনিধি/ এজে




