কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, ভোগান্তি

জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ২২ মে ২০২২, ০২:৩১ পিএম
কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, ভোগান্তি

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গত কয়েকদিন ধরে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা ও তিস্তাসহ সবকটি নদ নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে নিমাঞ্চল ডুবে ফসলি আবাদ তলিয়ে বিপাকে পড়ছেন কৃষক। বিশেষ করে বোরো আবাদ ঘরে তোলা নিয়ে অসহনীয় বিপাকে পড়ছেন জেলার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার মোগলবাসা চর কৃষ্ণপুর, কদমতলায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তীরবর্তী নিমাঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ায় কৃষকরা পানিতে নেমে ধান কেটে ঘরে তুলছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামের ধরলা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৮৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদে বিপদসীমার ১০৪ সে.মি. নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার শঙ্কা নেই। তবে আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে মাঝারি বন্যা হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

কদমতলা গ্রামের হাসেন আলী বলেন, ‘বাড়ি আশে পাশে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ধান ঘরে তুললেও খড় নিয়ে বিপাকে পড়েছি। দুটো দিন আকাশ ভালো থাকলে কৃষকের অনেক উপকার হতো।’

কৃষ্ণপুরের জয়নাল মিয়া বলেন, ‘নদ-নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বোরো আবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। আমার ২ বিঘা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে আধা পাকা অবস্থায় ধান কাটতে বাধ্য হয়েছি।’

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত এবং সীমান্তবর্তী ভারতীয় অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস নেই।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বন্যা মৌসুম এসে গেছে। আমরা জেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সভা করেছি। সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

টিবি