শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪, ঢাকা

‘চাকরিকে আমি ইবাদত মনে করি’

জেলা প্রতিনিধি, যশোর 
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৮:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

‘চাকরিকে আমি ইবাদত মনে করি’
যশোরের নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম

পুলিশের চাকরিকে ‘ইবাদত’ মনে করেন যশোরের নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেছেন, ‘এই চাকরিকে রুটি-রুজির পাশাপাশি আমার ইবাদত মনে করি। এই কাজের মাধ্যমে আমি জান্নাতে যেতে চাই।’

বুধবার (১০ জুলাই) বিকালে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


এর আগে সোমবার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম যশোরে যোগদান করেন। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে নিজে বাইসাইকেল চালিয়ে জেলা প্রশাসকের বাংলোয় যান। ওখানকার গার্ড তাকে জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া ঢুকতে দেননি। পরে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন জেল রোড ট্রাফিক অফিসে। এখানে ফটকে কাউকে না পেয়ে তিনি চলে যান চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে। সেখানে পুলিশ ফাঁড়ির গেট দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে গেট ঝাকাঝাকি করেন। কিন্তু কেউ গেট খুলতে আসেননি। এরপর তিনি যান কোতোয়ালি মডেল থানায়। সেখানে তিনি পরিচয় গোপন রেখে কোতোয়ালি মডেল থানায় ডিউটি অফিসারের কক্ষে যান। মোবাইল হারিয়ে গেছে জানিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছে জিডি করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে ডিউটি অফিসার একজনকে দেখিয়ে দিয়ে বলেন, জিডি করতে হলে ৫০০ টাকা লাগবে। টাকা না দেওয়ায় তিনি জিডি করতে পারেননি।

এরপর তিনি মোটরসাইকেলে চলে যান পুলিশ লাইনে। গেটে কর্মরত কনস্টেবল তাকে দাঁড় করান এবং ব্যারাকে কার সাথে দেখা করবেন তা জানতে চান। তখন ছদ্মবেশী পুলিশ সুপার ওই কনস্টেবলকে বলেন, ব্যারাকে কামাল নামে এক বন্ধু আছে। তার সাথে দেখা করতে চাই। তখন কনস্টেবল গার্ড তাকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেন। কনস্টেবলদের ব্যারাকের তিনতলায় গিয়ে তিনি সবার সাথে খিচুড়ি খান এবং অনেকের সাথে আলাপ করেন।

বুধবার বিকেলে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই ছদ্মবেশি অভিযানের বিষয়টিও উঠে আসে। অভিযানের বিষয়টি স্বীকারও করেন তিনি।

পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বলেছেন, চাকরিতে রুটি-রুজির পাশাপাশি আমার ইবাদত মনে করি। এই কাজের মাধ্যমেই আমি জান্নাতে যেতে চাই।’


বিজ্ঞাপন


মতবিনিময়কালে তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকরা হলেন সমাজের আয়না। জাতির বিবেক। পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের সহায়ক। আমরা যশোরকে শান্তি ও স্বস্তির জেলায় পরিণত করতে পারি, যদি আপনারা আমাদের সহায়তা করেন। সাংবাদিকদের সহযোগিতা পেলে যশোরকে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং মুক্ত করা সম্ভব।’

আরও পড়ুন

রংপুর হবে শান্তির জেলা: নতুন পুলিশ সুপার

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সত্য, সুন্দর, ন্যায় ও কল্যাণের সঙ্গে থাকতে চাই। আপনার সত্য তথ্য দিবেন যাচাই করে শতভাগ পদক্ষেপ নেব। আমি তদবির করে পোস্টিং নিই নাই। আমার বদলির ভয় নেই। বদলির অর্ডার হলে চলে যাবো। তবে আমি যখন এসেছি, কাজ করতে চাই। আমাদের কাছে সন্ত্রাসীদের যে তালিকা আসবে, আমরা সেই তালিকা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে কাজ করবো। সন্ত্রাসীদের কার রঙ কালো, কার রঙ সাদা সেটি বিবেচ্য হবে না।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি নূর ইসলাম, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনোতোষ বসু, সাধারণ সম্পাদক এইচআর তুহিন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ, সাংবাদিক ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, সাইফুর রহমান সাইফ, সাকিরুল কবীর রিটন, তৌহিদ জামান, জুয়েল মৃধা, মনিরুল ইসলাম,  ইন্দ্রজিৎ রায় প্রমুখ।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম গত ৮ জুলাই যশোরে যোগদান করেছেন। এর আগে তিনি মাদারীপুরে দায়িত্ব পালন করেন। বুধবার সাংবাদিকদের পাশাপাশি পৃথক পৃথকভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন নতুন এসপি মো. মাসুদ আলম।

প্রতিনিধি/একেবি

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর