সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

শহরে চুরির হিড়িক, আইনশৃঙ্খলা সভায় ক্ষোভ

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

শহরে চুরির হিড়িক, আইনশৃঙ্খলা সভায় ক্ষোভ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরশহরে চুরির হিড়িক পড়েছে। প্রতিদিন কারো না কারো বাসায় চুরি হচ্ছে। 

সাধারণ মানুষের ঘরে তো চুরি হচ্ছেই, বাদ যাচ্ছে না জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা কারো ঘর। এমনকি পুলিশ সদস্যদের বাসায়ও দিন-দুপুরে ঘটছে চুরির ঘটনা।


বিজ্ঞাপন


এছাড়া উপজেলার গ্রামগুলোতে কৃষকের গরু, সেচের মেশিনসহ নানা জিনিসপত্র ছুরির ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।

এতে স্থানীয়দের মধ্যে চুরির আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

চুরির এমন ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রতিনিধিসহ সচেতন নাগরিকেরা।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জনপ্রতিনিধিসহ সভার অন্য সদস্যরা।


বিজ্ঞাপন


উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. হাফিজা জেসমিন সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহীদ ইকবাল, ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপ দত্ত, এসিল্যান্ড মো. জাহাঙ্গীর আলম, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুজ্জামান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারাসহ উপজেলার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, দুই দিন আগে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের পৌরশহরের বাসার তালা ভেঙে চুরি হয়েছে।  এর ৪-৫ আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে চুরি হয়েছে। এছাড়া দুইজন পুলিশ সদস্যর বাসায়ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাসা থেকে টাকা স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ নিয়ে গেছে চোর। এসব ঘটনায় একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হয়নি মালামাল। এছাড়া শহরে প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে। শহরে চুরির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চোর ধরতে পুলিশের ব্যর্থতার বিষয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ইউপি চেয়ারম্যানরা বলেন, শহরে কিশোর গ্যাং তৈরি হয়েছে। এরা মাদকসেবী হওয়ায় নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। এদের অপরাধে বাধা দেওয়ায় দুইদিন আগে এক ব্যক্তির বাসায় দলবদ্ধ হামলা চালিয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে। ভুক্তভোগী পুলিশে অভিযোগ দিয়েছে কিন্তু কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। যদিও হামলাকারীরা চিহ্নিত।

তারা আরও বলেন, মাদকসেবীরাই চুরি সাথে জড়িত। মাদকের টাকা জোগাতেই চুরি করে। তাই মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশকে তাগিদ দেন তারা। এছাড়া শহরে এত চুরির ঘটনা গটার পরেও পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সভায় বোরো ফসলের সেচের সংযোগ নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের গ্রাহক হয়রানির বিষয়ে অবগত করেন একজন সাংবাদিক। অভিযোগে বলা হয়- বিদ্যুৎ অফিস একজন দালালের হাতে জিম্মি। অফিসের লোকজনের যোগসাজশে জাল ছাড়পত্র বানিয়ে অবৈধ সেচ সংযোগ নিয়ে অনেকে প্রতারণা করছে। অফিসের এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার বিষয়ে সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

fdd

থানা পুলিশর পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুজ্জামান বলেন, চুরি রোধে পুলিশ সোচ্ছার রয়েছে। তাদের ধরাও হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আরও তৎপর থাকবে পুলিশ। মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের প্রায়ই গ্রেফতার করা হচ্ছে। চুরি ও মাদক রোধে সবার সহযোগীতা চান তিনি।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর