বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

যৌতুকের জন্য স্ত্রীর গায়ে গরম পানি ঢেলে শিক্ষক স্বামীর নির্যাতন

জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৬ এএম

শেয়ার করুন:

যৌতুকের জন্য স্ত্রীর গায়ে গরম পানি ঢেলে শিক্ষক স্বামীর নির্যাতন

জামালপুরে মায়া আক্তার নিশি (১৮) নামে এক গৃহবধূ হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। শরীরে বুক, পিঠ ও পেট ঝলসানো। হাত বেঁধে নির্যাতনের এক পর্যায়ে শরীরে ঢেলে দেন গরম পানি। পরে স্ত্রীকে চিকিৎসা না করে সাতদিন ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। স্ত্রীর শরীরে গরম পানি ঢেলে দিয়ে হাসতে থাকেন শিক্ষক স্বামী। এমন অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে ওই কিশোরী গৃহবধূকে।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ওই গৃহবধূকে তার পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। এর আগে গত সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুর শহরের গেটপাড় একটি ভাড়া বাড়িতে এ অমানবিক নির্যাতন ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জামালপুর থানায় ওই গৃহবধূর বড় বোন মৌসুমী আক্তার বাদী হয়েছে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় গৃহবধূর শ্বশুর আশেক আলীকে আটক করেছে পুলিশ


বিজ্ঞাপন


অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আল আমিন (৩৩)। তার বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের চর মল্লিকপুর এলাকায়। তিনি শাহবাজপুর ইউনিয়নের জাফর শাহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি পালাতক রয়েছেন।

জানা যায়, মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের নাগেরপাড়া এলাকার যদি প্রবাসী আব্দুল মান্নানের মেয়ে নিশির সঙ্গে পরিবারিকভাবে বিয়ে হয় আল-আমিনের। প্রায় ১০ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় ঝগড়া বিবাদ। গত ৩ মাস আগে জামালপুর শহরের গেটপাড় এলাকায় ভাড়া বাসা নেন শিক্ষক আল-আমিন। এরপর ওই ভাড়া বাসায় স্ত্রী নিশিকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে নিশিকে ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে মারতে শুরু করেন। পরে চা তৈরির জন্য রাখা গরম পানি নিশির শরীরে ঢেলে দেন। গরম পানিতে মুহূর্তে ঝলছে যায় শরীর। পরে ওষুধের দোকান থেকে কিছু ওষুধ কিনে এনে দেন। এরপর নিশিকে এই ঘটনা কাউকে না জানাতে বলে ঘরের তালাবদ্ধ করে রাখেন।

৭ দিন তালাবদ্ধ থাকার পর অসুস্থ বেশি হয়ে পড়লে শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য নিশিকে নিয়ে যান। এ সময় নিশি কৌশলে তার বড় বোনকে ফোন করলে ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যায় আল-আমিন। পরে গত সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


বিজ্ঞাপন


মায়া আক্তার নিশি বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে যৌতুকের টাকা দাবি করে কথা কাটাকাটি হয় আমাদের। পরে আমরা গলায় টিপ দিয়ে ধরে। হাত বেঁধে মারতে শুরু করে। এক পর্যায়ে চা বানানোর জন্য করা গরম পানি আমার শরীরে ঢেলে দেন। গরম পানি ঢেলে আমাকে ছেড়ে দিলে আমি ওয়াশরুমে গিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে বের হই। এ সময় কান্না করলে,আমাকে দেখে হাসতে থাকেন। পরে ওষুধের দোকান থেকে কয়েকটা ওষুধ এনে দেন। এবং এই ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য আমাকে ভয় দেখান। পরে সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় বাহির থেকে রুমে তালা মেরে স্কুলে চলে যান। বিকেল বাসায় আসেন। এভাবে সাত দিন আমাকে তালা মেরে রেখে চলে যেতেন। শরীরের পিঠে, বুকে, পেটে পোড়া জায়গায় ক্ষত বেশি হলে তখন আমাকে গ্রীন লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন অন্যজনের মোবাইল দিয়ে আমি বড় বোনকে ফোন করি। পরে আমার বোন আসলে আমার স্বামী ওই জায়গা থেকে পালিয়ে চলে যা। পরে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, মানুষ কতটা নির্মম হলে এতটা নির্যাতন করতে পারে। গরম পানি ঢেলে দিয়ে স্বামী হাসতে থাকেন। এ সময় তাকে চিকিৎসা না করে উল্টো ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখে। একজন শিক্ষক হয়ে তিনি এই কাজ কিভাবে করতে পারেন। দ্রুত আল আমিনকে গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছি।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, নিশির শরীরের পিছনে ও সামনে অংশ পুড়ে গেছে। শরীরের বিশ শতাংশ জায়গা পুড়ে গেছে। এই মুহূর্তে আর রোগীর খারাপ আশঙ্কা নেই। চিকিৎসা চলছে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।

জামালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহব্বত কবীর বলেন, এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার প্রধান অসামি আলামিন তিনি পলাতক রয়েছেন। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর