নেত্রকোনার দশ উপজেলার কৃষি জমির সেচ সংযোগের জন্য লাগানো পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৯৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত জেগে ট্রান্সফরমার পাহারা দিচ্ছেন এলাকাবাসী। কিন্তু এতেও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।
গতবছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে এসব ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মাসুম আহমেদ। চুরি যাওয়া এসব ট্রান্সফরমারের মূল্য ৫৯ লাখ ২৯ হাজার ৬৪১ টাকা বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবি, প্রত্যেকটি চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। কিন্তু এত দিনে একটিও ট্রান্সফরমার উদ্ধার হয়নি, এমনকি একজন চোরও গ্রেফতার হয়নি।
এদিকে পুলিশের দাবি, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা শুধু থানায় মৌখিকভাবে অবহিত করে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত কাগজ নিয়ে যায়।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত জেলা সদর উপজেলা থেকে ১৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়, মদন থেকে ১০টি, মোহনগঞ্জ থেকে একটি, দুর্গাপুর থেকে ১৩টি, কেন্দুয়া থেকে ১৭টি, কলমাকান্দা থেকে ৫টি, বারহাট্টা থেকে ২টি, পূর্বধলা থেকে ২৫টি ও শ্যামগঞ্জ জোনাল অফিস থেকে ১০টিসহ মোট ৯৬টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। জেলায় পল্লী বিদ্যুতের আওতায় তাদের ৬ লাখ ৩২ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সেচ সবমিলিয়ে মাঠ পর্যায়ে স্থাপন রয়েছে ২৯ হাজার ট্রান্সফরমার। এরমধ্যে কৃষক অর্থাৎ সেচের জন্যই রয়েছে ১৬ হাজার গ্রাহক।
ভুক্তভোগী কৃষক ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেচের জন্য ঘর-বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে জমিতে খুঁটি বসিয়ে ট্রান্সফরমার লাগানো হয়। রাতে সুযোগ বুঝে সেচ সংযোগের ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাচ্ছে চোর। রাত জেগে গ্রামবাসী পাহাড়া দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না কিছুতেই পল্লী বিদ্যুতের এই ট্রান্সফরমার চুরি। এতে কৃষকদের জমিতে সেচের বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি নতুন ট্রান্সফরমার কিনতে গিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। ধারদেনা করেও ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা দূরে থাক লোকসানের বোঝা ঘাড় থেকে নামাতে পারছেন না তারা। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সুদৃষ্টি কামনা করছেন কৃষক। তারা বলছেন, একমাত্র পুলিশ আন্তরিক হলেই এই বিপদ থেকে তারা রক্ষা পেতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মাসুম আহমেদ বলেন, এই সেচ মৌসুমে জেলায় ট্রান্সফরমার চুরি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে কৃষকরা জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রত্যেকটা চুরির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। কিন্তু এতদিনে একটি ট্রান্সফরমারও উদ্ধার হয়নি। এসব ঘটনায় কোনো চোরকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি অবহিত করলে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. লুৎফর রহমান বলেন, এতগুলো ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি জানা ছিল না। এসব ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা শুধুমাত্র চুরির বিষয়টি থানায় মৌখিকভাবে অবহিত করে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত কাগজ নিয়ে যায়। কিন্তু মামলা করতে চায় না। এখন থেকে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা নেওয়ার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। তবে চুরি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
তিনি বলেন, কোনো সাধারণ মানুষ তো ট্রান্সফরমার চুরি করতে পারবে না। কারণ তারা এটার কাছে যেতে বা ছুঁতে ভয় পাবেন। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট লোকজনই এসব চুরির সাথে জড়িত বলে তিনি ধারণা করেন।
প্রতিনিধি/টিবি




