মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

দিনাজপুরের তৈরি হস্তশিল্পে সাবলম্বী নারীরা, সুনাম ছড়িয়েছে বিশ্ববাজারে

সুমন চন্দ্র, দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

দিনাজপুরের তৈরি হস্তশিল্পের সুনাম বিশ্ববাজারে

উত্তরের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গ্রামের ঘরে ঘরে কাঁশফুল আর পাটের দড়ি বা রশি দিয়ে বিভিন্ন হস্তশিল্প পণ্য তৈরি করে নারীরা তাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। বাড়িতে বসেই অবসরে বাড়তি আয় করে বিভিন্ন বয়সী অনেক নারী তাদের সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। মান ভালো ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে নারীদের হাতে তৈরি এসব পণ্যের। 

এসব নারীরা নিপুণ হাতে তৈরি করছেন হোগলা বাস্কেট, রাক্স, ফ্লোর ম্যাট, পাপশ, ডোর ম্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প পণ্য। হস্তশিল্পের এসব পণ্য মুগ্ধ করেছে দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের। তাই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানি, ঢাকা, খুলনা ও রংপুরের বিভিন্ন শোরুমে প্রতিনিয়ত পণ্য সরবরাহ করা হয়।


বিজ্ঞাপন


427021290_1389819085241326_4250058543413576601_n

অসচ্ছল নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলায় গড়ে তোলা ‘রংজুট বিডি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

কর্মসংস্থানে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা কারিগর শান্তি ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি এখানে আড়াই বছর ধরে কাজ করি। আমি আট হাজার টাকা বেতন পাই। আমার এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে ও আমার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। এখানে কাজ করে আমি ছেলে মেয়ের পড়ালেখা করার জন্য বেতন দিতে পারি। নিজেরও যেটুক কেনাকাটার ইচ্ছা থাকে সেটাও দিতে পারি ও সংসার খরচও  চালাতে পারি।

426984897_242535472259864_3193763877689153760_n


বিজ্ঞাপন


রংজুট বিডির আরেক কারিগর ঢাকা মেইলকে বলেন, আমার সংসারে আট জন সদস্য। এই আট জন সদস্যের খরচ চালাতে হিমশিম খেতাম। তাই আমি এক বছর আগে এই কোম্পানিতে যোগদান করি। যোগদান করার পর থেকে আমি এখানে ৮ হাজার টাকা করে বেতন পাই। এতে আমার সংসারের খরচ চলে এবং ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারি।

কর্মসংস্থানে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানে কর্মে ব্যস্ত থাকা আরেক নারী ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা এখানে হস্তশিল্পে কাজ করে যে রোজগার হয় তা দিয়ে অনেক ভালো আছি। কাজ করতে পারছি। কাজের বিনিময়ে যে রোজগার হয় তা দিয়ে খাবার পাচ্ছি। এখন আমাদের কর্মসংস্থান হওয়ায় সম্মানও বেড়েছে।

427021301_3604953193053761_605240186023358220_n

রংজুট বিডির তরুণ উদ্যোক্তা প্রকৌশলী কাইদুজ্জামান আজাদ বলেন, আমি ২০১৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। এই প্রতিষ্ঠানটি যখন শুরু হয়েছিল তখন বিভিন্ন প্রতিকূলতার উপর পড়তে হয়েছিল। আস্তে আস্তে আল্লাহর রহমতে আমি ওভারকাম করতে পেরেছি। আমি নারীদের কাজ করাতে পারছি। আমার এই কোম্পানিতে ভিতরে ৪০ থেকে ৫০ জন কাজ করে এবং বাইরে বাসা বাড়িতে ৫০০ থেকে ৬০০ জন নারীর কর্মসংস্থান করতে পেরেছি। এই কাজগুলো বিশেষ করে আমাদের নারীরা করে। আর এই প্রোডাক্টগুলো আমাদের বিশেষ করে এক্সপোর্ট প্রোডাক্ট। আমরা বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি থেকে এই কাজগুলো নিয়ে আসি।

429073948_1110704890080254_5072006959728009046_n

তিনি আরও বলেন, এই পণ্যগুলো আমাদের শতভাগ এক্সপোর্ট প্রোডাক্ট। এ কাজগুলো করতে গেলে অনেক ফান্ডিং দরকার হয়, যা আমাদের নেই। এটাতো অর্থমন্ত্রীর এলাকা, মন্ত্রী যদি একটু সহযোগিতা করে তাহলে তার বাড়ির পাশে একটি বড় ধরনের কোম্পানি করতে পারব। এতে এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এতে এলাকার উন্নয়ন হবে। 

টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর