শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে বিনোদনের নবদিগন্ত ‘স্বপ্নতরী’ জাহাজ

তাহজীবুল আনাম, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০৪ এএম

শেয়ার করুন:

কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে বিনোদনের নবদিগন্ত ‘স্বপ্নতরী’ জাহাজ

কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের বিনোদনে নবদিগন্তের সূচনা করেছে ‘এমবি স্বপ্নতরী’ জাহাজ।

বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘিরে জেলার পর্যটন শিল্প বিকাশে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘স্বপ্নতরী’ নামের এই জাহাজ। যেটি কক্সবাজারে আগত পর্যটকসহ ভ্রমণপিয়াসু মানুষকে দিবে সমুদ্র, পাহাড়, নদী ও কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ। কাঠের তৈরি এই ‘স্বপ্নতরী’ হাউজ বোট নিয়ে পর্যটকদের পাশাপাশি ভ্রমণ করছেন স্থানীয়রাও। সমুদ্র ভ্রমণে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে  ‘এমবি স্বপ্নতরী’। 


বিজ্ঞাপন


কক্সবাজারে সর্বপ্রথম কাঠের তৈরি স্বপ্নতরী নামের এই নৌযানটির ধারণ ক্ষমতা ১৪৬ জন। প্রতিদিন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সমুদ্রে যাত্রা করে এটি। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট হয়ে যাত্রা শুরু করে মহেশখালী-সোনাদিয়া ঘুরে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট হয়ে ঘাটে ফিরে আসে। এছাড়াও সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাট নতুন ব্রিজ, নাজিরারটেক, এয়ারপোর্ট রানওয়ে হয়ে মহেশখালীর আশপাশে ঘুরে ঘাটে ফিরে আসে। নিরাপত্তার জন্য এই নৌযানটিতে সবসময় টুরিস্ট পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া ও অগ্নিনির্বাপকসহ যাবতীয় সরঞ্জাম রাখা হয়েছে এ জাহাজে।

এই নৌযানটিতে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্যে সকালের যাত্রায় দুপুরের খাবারসহ জনপ্রতি এক হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়ে। এখানে পরিবেশন করা দুপুরের খাবারের আইটেমগুলো হল— মুরগী, চিংড়ি, ডিম কারি, সবজি, ডাল, সালাদ, ‍পানি ও মহেশখালীর মিষ্টি পান। রাতের ভ্রমণে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। রাতে স্থানীয় শিল্পিদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খাবারের মেনুতে কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী নানা ধরনের পিঠাপুলি ও প্রসিদ্ধ খাবার রাখা হয়েছে।

কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক হাসান আলী বলেন, স্বপ্নতরী জাহাজে ভ্রমণ করে খুবই আনন্দ পেয়েছি। কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের জন্যে এটি চমৎকার একটি উদ্যোগ। জাহাজের সার্ভিস ভালো ছিল।

আরেক পর্যটক মরিয়ম চৌধুরী বলেন, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সমুদ্রে ঘুরেছি এই জাহাজ নিয়ে। জাহাজের খাবারগুলোও বেশ মুখরোচক ছিল। কক্সবাজার এসে নতুন অভিজ্ঞতা হল এই জাহাজে ভ্রমণের মাধ্যমে।


বিজ্ঞাপন


ফারহান এক্সপ্রেস ট্যুরিজমের জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ হোসেন বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের জন্যে স্বপ্নতরী জাহাজ একটি ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে। শুরুতেই আমরা ভাল সাড়া পাচ্ছি। চাইলে এই নৌযানে মানুষ রাত্রি যাপন করতে পারবেন। দেশি-বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয়রা কম খরচে জন্মদিন পার্টি, গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান, এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠান, সেমিনার, পিকনিক, ইফতার মাহফিল, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের নানা সুযোগ-সুবিধা পাবেন। দ্বিতল এই বোটের নিচতলায় রয়েছে একটি কেবিন ও কফি সপ। হাউসবোটে চড়ে সমুদ্রে পর্যটকরা দুপুর বা রাতের খাবার সেরে নিতে পারবেন অনায়াসে। বোট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে স্থানীয় উপকরণ ও কাঠ।

কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের তরুণ উদ্যোক্তা ও ‘এমবি স্বপ্নতরী’ জাহাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকত এবং সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ছাড়া পর্যটকদের জন্যে আর কোনো মাধ্যম ছিল না। পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ এবং প্রাকৃতিক মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করার প্রয়াসে আমি এই খাতকে এগিয়ে নিতে হাউজ বোট চালু করেছি। দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর অবশেষে গত ২ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করা হয় এই নৌযান। স্থানীয় ও সচেতন মানুষ ও উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে হাউসবোট কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশে সম্ভাবনা রয়েছে আরও বহু ক্ষেত্রে।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়াস্থ বিআইডব্লিউটি ঘাটে স্বপ্নতরী জাহাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর