বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ঢাকা

আফ্রিকান কনে দেখতে নারায়ণগঞ্জে এলাকাবাসীর ভিড়

ইউসুফ আল আজিজ, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০২ এএম

শেয়ার করুন:

আফ্রিকান কনে দেখতে নারায়ণগঞ্জে এলাকাবাসীর ভিড়
গত শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে তোলা এই ছবিকে অনেকে সাজেন-ফান্সসিসক’র বিয়ের ছবি বলে প্রচার করেছে।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার বিল্লাল হোসেন সাজেন জীবিকার তাগিদে ৮ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানেই পরিচয় আফ্রিকান তরুণী ফান্সসিসক’র সঙ্গে। পরিচয় থেকে প্রেম ও বিয়ে। দুই পরিবারের সম্মতিতে ২০২১ সালে তাঁদের বিয়ে হয় আফ্রিকায়। বিয়ের পর এই প্রথম ফান্সসিসক বাংলাদেশে শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী উচ্ছ্বসিত।

সাজেন বাড়িতে এসেছেন গত ১৬ জানুয়ারি। আর ফ্রান্সসিসক ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে বিদেশি বধূকে বরণ করে বাড়ি নিয়ে যান সাজেন ও তার পরিবারের সদস্যরা।


বিজ্ঞাপন


বিল্লাল হোসেন সাজেন উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়নের ত্রিবেনী গ্রামের আবদুস সাত্তারের একমাত্র ছেলে। বিদেশি বউ আসার খবর জানাজানি হলে তাঁকে দেখতে বাড়িতে প্রতিদিন ভিড় জমান উৎসুক জনতা। ইতোমধ্যে এই বিদেশি বধূ ফ্রান্সসিসকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়েছে। নেট দুনিয়ায় রীতিমত ভাইরাল নারায়ণগঞ্জ-আফ্রিকান দম্পতি।

সাজেন বলেন, আট বছর আগে আমি দক্ষিণ আফ্রিকা যাই। সেখানে কাজের সূত্র ধরেই ফান্সসিসকের সঙ্গে পরিচয় হয়। আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আমি বাড়ি আসার পর আমার টানে সে বাংলাদেশে চলে আসে। সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এতে আমার পরিবারের সবাই খুশি। আবার আমরা একসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাব।’

সাজেনের বাবা আবদুস সাত্তার বলেন, আমার ছেলে আফ্রিকান মেয়ে বিয়ে করেছে ২০২১ সালে। ফ্রান্সসিসক মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করছে। তার নাম রাখা হয়েছে মনি হোসাইন। আমার ছেলে তার বউ নিয়ে দেশে ফিরেছে। ছেলে ও বৌমাকে দেখে আমি অনেক খুশি। আমার খুব আনন্দ লাগছে। বৌমা অনেক ভালো মেয়ে।

কিন্তু অনেক জায়গায় খবর বের হয়েছে যে দেশে আশার পর চলতি মাসে এই বিয়ে হয়েছে।  এ সম্পর্কে আবদুস সাত্তার বলেন, গত শুক্রবার আমাদের এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে সাজেন তার বউকে নিয়ে গিয়েছিল। ওই ছবি দেখেই অনেক ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। 


বিজ্ঞাপন


সাজেনের মা আফসানা আক্তার জানান, সাজেন আমাদের একমাত্র ছেলে। ছোটবেলা থেকে ছেলে বলতো সে বিদেশে যাবে। বিদেশি মেয়ে বিয়ে করবে। আল্লাহ তার ইচ্ছা পূরণ করেছেন। আমাদের বিদেশি বৌমা অনেক লক্ষ্মী। কোনো অহংকার নেই। আমার পরিবারের সবাইকে খুব আপন করে নিয়েছে। মুরুব্বিদের সম্মান দিয়ে কথা বলে। তার আন্তরিকতা ও ব্যবহারে সবাই বিদেশি বৌমার খুব ভক্ত হয়ে গেছে। এমন ছেলের বউ পেয়ে আমরা খুবই গর্বিত।

ফান্সসিসকা (৩০) আফ্রিকার বংশোদ্ভূত তরুণী। তিনি দেশটির স্থানীয় একটি বিমানবন্দরের সিনিয়র ম্যানেজার ও ট্রাভেলস এন্ড ট্যুর প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদে কর্মরত আছেন।

ফ্রান্সসিসকা বলেন, বিল্লাল খুবই ভালো ছেলে। তার পরিবারের সদস্যরাও আমাকে খুব স্নেহ করেন। আমি মুগ্ধ। স্বামীর বাড়ির মানুষ আমাকে এতো আদর যত্ন করছেন, এতো ভালোবাসা দিচ্ছেন, এতে আমি মুগ্ধ। আমি ভাবতেই পারিনি বাংলাদেশের মানুষ এতো ভালো, এতো আন্তরিক এবং এতো উদার। আমি যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই খুব আদর ভালোবাসা ও সম্মান পাচ্ছি। স্বামীর পরিবারের মধ্য দিয়ে বুঝে নিয়েছি পুরো বাংলাদেশের মানুষ ওদের মতোই। 

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর