পর্যটকের পদভারে মুখর পার্বত্য জেলা পাহাড় কন্যা বান্দরবান। ঈদের ছুটিতে যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসেছেন পর্যটকরা। দুই বছর করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা ভ্রমণ করতে না পারলেও এবার চিত্র ভিন্ন। এবার ঈদের লম্বা ছুটিতে পাহাড় ও মেঘের মিতালি উপভোগ করতে বান্দরবান ভ্রমণ করছেন পর্যটকরা।
এ কারণে জেলার সব পর্যটন স্পটে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। অপরূপ সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলোও। প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে জেলার মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, নীলগিরি, রোয়াংছড়ির দেবতাখুম, রুমার বগালেক, থানছির তমাতুঙ্গি-নাফাখুমে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
জেলার পর্যটন স্পটের মধ্যে মেঘের রাজ্য নীলাচল বিখ্যাত। এখানে বৃষ্টির দিনে নীলাচলের সৌন্দর্য একেবারে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। হালকা বৃষ্টির পর দূর আকাশের মেঘের সারি ভেসে আসে নীলাচলের চূড়ায়। পাহাড় চূড়া থেকে দেখলে মনে হবে, এ যেন মেঘের সঙ্গে পাহাড়ের লুকোচুরি খেলা। চারিদিকে সবুজে মোড়ানো প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের দৃশ্য আর বিশেষ করে মেঘকে কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখতে ভ্রমণ পিপাসুরা নীলাচলে ভিড় করে থাকেন।

ঈদের ৩য় দিন বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রে কথা হলো ঢাকার ব্যবসায়ী মো. ওমর (৫৫) এর সঙ্গে। ১২ জনের টিম নিয়ে তিনি বান্দরবান ঘুরতে এসেছেন। জানালেন, নীলাচল এক কথায় অপূর্ব। এখানে না আসলে জানতেই পারতাম না যে, এ দেশ এতো সুন্দর।
পরিবারের সঙ্গে বান্দরবান এসেছেন শিক্ষার্থী মো. মাহিন হোসেন। তিনি বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার অপার সৃষ্টি এই পাহাড়। এখানকার সৌর্ন্দয্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এতোদিন শুধু বইয়েই পড়েছি যে, এ দেশ অনেক সুন্দর। এখানে না আসলে এই সত্যটা গভীরভাবে উপলব্ধিই করতে পারতাম না।’
বিজ্ঞাপন
পাবনা থেকে আসা সরকারি চাকরিজীবী সঞ্জীব বিশ্বাস বলেন, ‘তিন বছর আগে একবার বান্দরবান বেড়াতে এসে ভালো লেগেছিল। তাই এবার পরিবার নিয়ে এসেছি। বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এক কথায় অসাধারণ। কক্সবাজারের চাইতেও সুন্দর এই জায়গা। একবার আসলে বারে বারে আসতে মন চায়। তাই এবার পরিবার নিয়ে এসেছি। ওরা সবাই খুব উপভোগ করছে।’
কুষ্টিয়ার কলেজশিক্ষক রাজীব পাল বলেন, ‘বান্দরবানের প্রকৃতি সব সময় ছবির মতোই সুন্দর। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি যে এতো সুন্দর, এতো নিখুঁত তা এখানে না আসলে বোঝা যায় না। তবে এখানে একটু বিনোদনের ব্যবস্থা করলে আরও ভালো হতো।’

নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের টিকেট কাউন্টারে কর্মরত আদীব বড়ুয়া জানান, গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২২শ টিকিট বিক্রি হয়েছে। আজ (৫ মে) থেকে আরও পর্যটক বাড়বে বলে। তাদের সার্ভিস দিতে সবার হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের টিকেট কাউন্টারে দায়িত্বরত সুকুমার তঞ্চঙ্গ্যা জানান, আজ (৪ মে) ১৮শ টিকেট বিক্রি হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরও পর্যটক বাড়বে।
বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বান্দরবানের প্রতিটি পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সাদা পোশাকে আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত আছে। তাছাড়া প্রত্যেক পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃংখলা বাহিনীর মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। পর্যটকরা কোনো সমস্যায় পড়লে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারবেন। তাই ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকরা নির্বিঘ্নে আনন্দে ভ্রমণ করতে পারবেন। তাদের নিরাপত্তার কোনো সমস্যা হবে না।
বান্দরবান জোন ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বেশ কয়েকদিন টানা ছুটি রয়েছে। সেই ছুটি উপভোগ করার জন্য পর্যটকেরা বান্দরবানে আসছেন। পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পর্যটকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
টিবি




