শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ঢাকা

দুই কূলই হারলেন ঝুমা তালুকদার

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

দুই কূলই হারলেন ঝুমা তালুকদার
জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা তালুকদার

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দুই কূলই হারিয়েছেন নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ওরফে ঝুমা তালুকদার।

সংসদ নির্বাচন করতে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যহতি দিয়েছিলেন ঝুমা। সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরে দুই কুলই গেল তার।


বিজ্ঞাপন


রোববার (৭ জানুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঝুমা তালুকদারের ট্রাক প্রতীক পেয়েছে মাত্র ২৫ হাজার ২১৯ ভোট। আর ওই আসনে নৌকার প্রার্থী মোশতাক আহমেদ রুহী পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৯ ভোট। অর্থাৎ রুহীর চেয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮শ ভোট কম পেয়েছেন ঝুমা। ফলে ভোটের মাঠে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেননি তিনি।

তবে রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন ঝুমা তালুকদার।

জানা গেছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনেনয়ন পেতে গত ৬ নভেম্বর দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন ঝুমা তালুকদার। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন তার কপালে জোটেনি। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও নৌকার প্রার্থীর কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঝুমা তালুকদার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি। পরে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সে সময় নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে উপজেলার প্রথম নারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গত ৬ নভেম্বর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন ঝুমা, কিন্তু এবারও দলের মনোনয়ন জোটেনি তার। এ কারণে ট্রাক প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই ভোটের মাঠে অবতীর্ণ হন।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঝুমা তালুকদার যতটা প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন, সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি তার কিছুই দেখাতে পারেননি। উপরন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানের পদটিও হারাতে হয়েছে তাকে।

ঝুমা তালুকদারের দাবি, তার আসনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। নৌকার সমর্থকরা তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছেন; ভোটারদের হুমকি দিয়েছেন। কারচুপি করে তারা ভোটে জিতেছেন। ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, ঝুমা তালুকদারের বাবা প্রয়াত জালাল উদ্দিন তালুকদার নেত্রকোনা জেলার একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নেত্রকোনা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর