নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চট্টগ্রামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের টহল শুরু হয়েছে। তবে উপকুলীয় এলাকা সন্দ্বীপে টহলে নেমেছে কোস্টগার্ড সদস্যরা।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোররাত থেকে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের টহল শুরু হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
সন্দ্বীপের স্থানীয় লোকজন জানান, সাগরে ঘেরা সন্দ্বীপে এমনিতে কোস্টগার্ডের আনাগোনা ছিল। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শনিবার ভোর থেকে কোস্টগার্ড সদস্যদের তৎপরতা আরো বেড়েছে। বিশেষ করে সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়ন, আজিমপুর ইউনিয়ন, রহমতপুর ইউনিয়ন, মাইটভাঙা ইউনিয়ন ও কালাপানিয়া ইউনিয়নে কোস্টগার্ড অবস্থান নিয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম মহানগরী ও উপজেলা সদরেও বিজিবি সদস্যদের তৎপরতা বেড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমান বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চট্টগ্রামের ১৫ আসনে (সন্দ্বীপ ছাড়া) শুক্রবার থেকে ৯৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ওইদিন নগরীর হালিশহরে ব্যাটালিয়ন থেকে বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেন। বিজিবি ছাড়াও এই ১৫টি সংসদীয় এলাকায় র্যাবের ৩২টি টহল টিম এবং সঙ্গে একটি করে গোয়েন্দা টিমও মাঠে নেমেছে। তারা নির্বাচনী এলাকাগুলোতে টহল দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে সেনাবাহিনীও মাঠে নামবে। সন্দ্বীপে দায়িত্ব পালন করবে কোস্ট গার্ড। স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার এর আওতায় ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশের নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
র্যাব–-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম জানান, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার ১৬টি আসনে র্যাবের দুইটি করে টহল টিম ও একটি করে গোয়েন্দা টিম মাঠে নেমেছে। আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। যেন নির্বাচনের আগে কিংবা নির্বাচন পরবর্তী যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোর হস্তে দমন করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বপালনকারী টিমগুলোর সঙ্গে নির্বাচনের দিন বাড়তি কিছু ফোর্স যুক্ত করা হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৫-১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং আফিসার ও চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তারা। এছাড়াও স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবে সশস্ত্র বাহিনী।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, কমিশনের ভেটিং (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পরিপত্র জারি করে।
পরিপত্রে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় মেট্রোপলিটন এলাকা, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ও পার্বত্য এবং দুর্গম এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রের সর্বোচ্চ ১৫-১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১৬-১৭ জন পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা চাইলে সংখ্যা বাড়াতে বা কমাতে পারবেন।
দুর্গম এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে-চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা, মহালছড়ি উপজেলা, মাটিরাঙা, রামগড় উপজেলা, গুইমারা ইপজেলা, লক্ষীছড়ি, খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালা উপজেলা, রাঙামাটি জেলার নানিয়াচর উপজেলা, বরকল উপজেলা, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি সদর, রাজস্থলী, লংগদু, কাউখালী, কাপ্তাই, জারাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলা, বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলা, বোয়াংছড়ি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান সদর, রামু ও লামা উপজেলা।
এছাড়া চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনের সারিকাইত ইউনিয়ন, আজিমপুর ইউনিয়ন, রহমতপুর ইউনিয়ন, মাইটভাঙা ইউনিয়ন, কালাপানিয়া ইউনিয়ন, কক্সবাজার-২ আসনের কুতুবদিয়া, বড়ঘোনা, উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, কৈয়ারবিল, আলি আকবর ডেইল, লেমসিখালী উপজেলা ও কক্সবাজার-৪ আসনের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিনে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবে কোস্টগার্ড।
টিবি

