শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নওগাঁর ঈদ বাজার

সুমন আলী 
প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২২, ১১:১৩ এএম

শেয়ার করুন:

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নওগাঁর ঈদ বাজার

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নওগাঁর ঈদ বাজার। জেলা শহরের প্রতিটি মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলোতে দেখা গেছে ঈদের আমেজ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কাপড়ের দোকানে নারী ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে ক্রেতা বিক্রেতায় বাজার এখন সরব। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নওগাঁর মার্কেটগুলোতে কেনাবেচা জমে উঠছে। ঈদে ক্রেতার চাহিদা মাথায় রেখে বিক্রেতারাও আগেভাগেই পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন। শহরের বড় শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেড়েছে বেচা-কেনা। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। বেচাকেনাও ততই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।


বিজ্ঞাপন


এ বছর ছেলেদের পছন্দের তালিকায় জিন্স প্যান্ট, প্রিন্টের শার্ট, পাঞ্জাবি ও কাবলি। আর মেয়েদের পোশাকের মধ্যে সারারা-গাড়ারা এবং কাঁচাবাদাম পোশাকের চাহিদা রয়েছে। তবে ক্রেতাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাই বেশি।

শহরে তৈরি পোশাকের জন্য অভিজাত বিপণী বিতানগুলোর মধ্যে নওগাঁর কাপড়পট্টি, গীতাঞ্জলি শপিং প্লাজা, জহির প্লাজা, হাসনাহেনা মক্কা মার্কেট, শুভ প্লাজা, ইসলাম মার্কেট, সৌদিয়া সুপার প্লাজা, মাজেদা সুপার মার্কেট, বসাক শপিং কমপ্লেক্স, দেওয়ান বাজার, কুমারখালি বস্ত্রালয়, ইসলাম মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে জমে উঠেছে ঈদবাজার। ক্রেতাদের পছন্দের বিষয় মাথায় রেখেই নতুন মডেলের পোশাক সংগ্রহ করেছে দোকনিরা। ছেলেদের শেরওয়ানী ও পাঞ্জাবি ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা, বাচ্চাদের পোশাক ৮০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা। মেয়েদের ক্ষেত্রে ভারতীয় পোশাক সারারা-গাড়ারা, লেহাঙ্গা, ডিভাডার ও থ্রি-পিসের দাম ৫০০ টাকা থেকে ৪৫০০ টাকার মধ্যে।

naogaon

ঈদের কেনাকাটা করতে পত্নীতলা থেকে তিন মেয়ে নিয়ে নওগাঁ এসেছেন রওশন আরা বেগম। তিনি বলেন, ‘তিন মেয়েই বায়না ধরেছে, এবার ঈদে তাদের কাঁচা বাদাম ড্রেস লাগবে। তাই আবদার পূরণ করতে কাঁচা বাদাম ড্রেস কিনে দিলাম।’


বিজ্ঞাপন


গীতাঞ্জলি শপিং প্লাজায় তানিয়া রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘প্রতি বছরই ঈদের আগে নানা নামে পোশাক আসে। এবার কাঁচা বাদাম নামে এসেছে। শুনতে হাস্যকর লাগলেও ভালো লাগছে পোশাকটি কিনতে পেরে।’

কামরুজ্জামান নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘বাচ্চার জন্য কাঁচা বাদাম ড্রেস কিনতে এসেছি। ড্রেস পেয়ে বাচ্চা খুশি হয়েছে।’

শৈলগাছী গ্রাম থেকে ২ বাচ্চা নিয়ে গৃহবধূ শামীমা আক্তার বিউটি (৩৫) ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন শহরে। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের সঙ্গে আনছি, তাদের পছন্দ মতো পোশাক কেনার জন্য। প্রতিবছর রোজার শুরুতেই কেনাকাটা করে ফেলি। তবে এবার একটু দেরি হয়ে গেল। তবে গেল বছরের চাইতে এবার একটু বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে।’

naogaon

কলেজছাত্রী আফিয়া তাবাসসুম বলেন, ‘মার্কেটে ঘুরছি। এখনও পোশাক পছন্দ করতে পারিনি। বাজারে দামটা বেশি। তাই নিতে পারছি না।’

গীতাঞ্জলি মার্কেটের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, করোনার কারণে গত ২ বছর দোকান ঠিকমতো চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বেচাকেনা ছিল অনেক কম। এ কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এ বছর আমরা অনেক খুশি। রমজানের শুরু থেকেই বেচা বিক্রি হচ্ছে। এবার ক্রেতারা এসে কাঁচা বাদাম, সারারা, জারারা পোশাক খোঁজে। এগুলোর চাহিদা ও বেচা বিক্রি বেশ ভালো।

মদিনা মার্কেটে শাড়ি বিক্রেতা ইন্দ্রজিৎ সরকার জানান, এ বছর পোশাক বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম যেমনই হোক কোয়ালিটি প্রোডাক্ট চান ক্রেতারা। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে গত দু’বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।  

জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া জানান, ঈদ কেনাকাটাকে ঘিরে যেন শহরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি না হয় সেজন্য বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও ক্রেতারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে কেনাকাটা করতে পারে, তার শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও পুলিশ রয়েছে।

টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর