রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ: তুসুকা কারখানা ভাঙচুর মামলায় আসামি ২২৪

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ: তুসুকা কারখানা ভাঙচুর মামলায় আসামি ২২৪

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাবাড়ি এলাকার তুসুকা কারখানা ভবনে ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ বাদী হয়ে গতকাল শনিবার রাতে মামলাটি করেন।


বিজ্ঞাপন


মামলায় ২৪ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ দুষ্কৃতকারীকে আসামি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আশরাফ উদ্দিন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় তুসুকা গার্মেন্টস কারখানা ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।

তুসুকা গ্রুপের পরিচালক মো. তারিক হাসান বলেন, ভাঙচুর করে কারখানাটি মিসমার করে ফেলা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ হেড অফিসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা ২৪ জনকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন, যারা সবাই কারখানার শ্রমিক। অন্যদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর বহিরাগত প্রায় দুই শতাধিক দুষ্কৃতকারী কাজ চলাকালে কারখানায় প্রবেশ করে। পরে বহিরাগত দুষ্কৃতকারীরা কারখানার শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সব কটি ফ্লোরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।


বিজ্ঞাপন


এসময় কারখানার কর্মকর্তাদেরও মারধর করা হয়। তাদের মারধরে অন্তত ৮জন আহত হন। এসময় কারখানার প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। এ ছাড়া কারখানার অ্যাকাউন্ট থেকে নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা।

কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আশরাফ উদ্দিন বলেন, কারখানায় ভাঙচুরের মামলায় ২৪ জনের নামোল্লেখসহ   অজ্ঞাতনামা ২০০ দুষ্কৃতকারীকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, তবে গ্রেফতাররের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, রোববার কোনাবাড়ি শিল্প এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তুসুকা, ইসলাম গার্মেন্টসসহ কয়েকটি কারখানা বন্ধ থাকলেও অন্যান্য কারখানায় শান্তিপূর্ণ ভাবে শ্রমিকরা কাজ করেছেন। কোথাও শ্রমিক বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাড়তি পুলিশের সতর্ক অবস্থান রয়েছে। এছাড়া বিজিবি, র্যাব এবং জেলা প্রশাসনের নানামুখী তৎপরতা বিদ্যমান।

প্রসঙ্গত, গাজীপুরে শ্রমিকেরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে গত ২৩ অক্টোবর বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু করেন। পরে মজুরি বোর্ডে বেতন সাড়ে ১২ হাজার টাকা ঘোষণা করা হলে সেটি প্রত্যাখ্যান করে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

ওইদিন তুসুকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকেরা ভাঙচুর চালান। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার ঘটনায় অর্ধশতাধিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ১২৩টি কারখানায় ভাঙচুর হয়েছে। এসব ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত মামলার হয়েছে ২৩টি। গ্রেফতার করা হয়েছে ৮৮ জনকে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর