মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০২৪, ঢাকা

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রংপুরে জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি, রংপুর
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৩:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রংপুরে জনজীবন

টানা বৃষ্টিতে রংপুরের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নগরীর প্রধান সড়কে পানি জমে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। কাজ করতে না পেরে বিপাকে শ্রমজীবী মানুষজন। সেই সাথে আশ্বিনের এই ভারী বৃষ্টিতে ধানের উপকার হলেও সবজি খেতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে সর্বমোট ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ ২৫৯.৪ মিলিমিটার। সবমিলিয়ে এটি এ মৌসুমে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক অরজিৎ কুমার রায়।


বিজ্ঞাপন


টানা বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর  তাজহাট, বাবুপাড়া, কামারপাড়া, আদর্শপাড়া, নগর মীরগঞ্জ, শালবন, মিস্ত্রিপাড়া, কলাবাড়ি দর্শনা,  কামাল কাছনা, মাহিগঞ্জ, বোতলা, নিউ জুম্মাপাড়া, পূর্ব জুম্মাপাড়া, মর্ডান মোড় সংলগ্ন বিভিন্ন মহল্লা, মুন্সিপাড়া, হনুমানতলা, মুলাটোল, মেডিকেল পাকার মাথা ও জলকর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ঘর থেকে বের হতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষজন।

bsss

রংপুর নগরীর নীলকণ্ঠ আটিয়াটারী এলাকার ওসমান গণি বলেন, খুব সকালে নগরীতে এসে সাইকেল গ্যারেজ খোলা হয়। আজকে বৃষ্টির কারনে কোনমতে নগরীতে আসলেও টানা বৃষ্টির কারনে খোলাস্থানে গ্যারেজ হওয়ায় দোকান খোলা সম্ভব হয়নি। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা রোজগার হলেও আজকে একটাকাও আয় হয়নি। খালি হাতে ফিরতে হবে বাড়ি।

টাউনহল চত্বরের পান দোকানদার আব্দুস সাত্তার বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে পান দোকান খোলা সম্ভব হয়নি। তবে দোকান খুললেও কাষ্টমার পাওয়া যাবে না, কেননা টাউনহল চত্বরেই যত পানি, এতে মানুষ কিভাবে আসবে।


বিজ্ঞাপন


জলকর এলাকার রিকশাচালক রহিদুল ইসলাম বলেন, একদিন রিক্সা নিয়ে বের হতে না পারলে ধারদেনা বেড়ে যায়। শনিবার থেকে টানা বৃষ্টির কারণে বাইরে মানুষের চলাফেরা কমে গেছে। রিকশা বন্ধ করে ঘরে বসে দিন পার করছি। এই বয়সে ভিজলে অসুস্থ্য হতে হবে নির্ঘাত। আগের মতো শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নাই। গতকাল থেকে রিক্সা বের করতে না পারায় সমস্যা তৈরী হয়েছে। রাতের খাবার নিয়ে চিন্তায় আছি।

ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন বলেন, ভারি বর্ষনের ফলে কাপড়ের দোকান খোলা সম্ভব হয়নি। অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষায় আছি, বৃষ্টি কমলে দোকান খুলবো। কিন্তু বৃষ্টি কমার কোন সম্ভাবনা নেই। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। বাড়িতে ছেলেমেয়েদের সময় দেই।

এদিকে শনিবার থেকে টানা বর্ষনের কারনে রংপুর নগরীর অনেক এলাকায় বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করছে। অনেকের খাট পর্যন্ত পানি উঠেছে। আবার অনেকের ঘরের আসবাবপত্র ভিজে গেছে ইতোমধ্যে। অনেকেই আবার উচু স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে আসবাবপত্র।

বকুলতলার এস আই মুকুল বলেন, বাড়িতে পানি উঠছে, শুধু বাড়িতে নয়, ঘরের ভিতরেও পানি উঠছে। এরকম বৃষ্টি আর দুই এক ঘন্টা হলে রাতে বাড়িতে থাকার মতো কোন অবস্থাই থাকবে না। এখনই খাট পর্যন্ত পানি উঠছে। পানি না নেমে গেলে রাতে এই অবস্থাতেই থাকা সম্ভব না। 

gff

তাজহাটের রহিমা বেগম বলেন, শনিবার বিকেল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। ব্স্তি এলাকা হওয়ায় এমনিতে নিচু জায়গা তাতে আবার টানা বৃষ্টি ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে আমাদের মতো অনেকেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

অন্যদিকে টানা বৃষ্টির কারণে নগরীতে অটো রিক্সার সংখ্যা অনেক কম। ফলে অটো রিক্সা চালকরা ভাড়া চাচ্ছেন ইচ্ছামতো। বাড়তি অর্থ গুণতে গিয়ে অনেকেই জড়িয়ে পড়ছেন বাক-বিতণ্ডায়। বাড়তি ভাড়া দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম রবি বলেন, বাড়ি থেকে কলেজ আসা রিক্সা ভাড়া ৩০ টাকা, অটো ভাড়া ১০ টাকা। অথচ আজকে বৃষ্টির কারনে রিক্সা ভাড়া ৫০ টাকা চাচ্ছে, অটো ভাড়া ২০ টাকা চাচ্ছে। বাধ্য হয়েই সকালে বেশি ভাড়া দিয়ে কলেজে আসতে হয়েছে। এখন বেশি ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে।

এমন অভিযোগ করলেন আরো কয়েকজন। তাদের দাবি, এখন তো বৃষ্টিতে রিক্সাচালক, অটো চালকদের ভিজতে হয় না। কেননা উপরে পলিথিন দেয়ার কারনে ভিজতে হয় না। তারপরও অটো রিক্সাচালকরা সুযোগ পেলেই বাড়তি ভাড়া নেন।

টানা বৃষ্টিতে ধান ও সবজি খেতে পানি জমেছে। এই পানি ধানের পোকা দমনসহ অন্যান্য উপকার হলেও ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে সবজি খেতে। শফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক টাকা থরচ করে বাড়ির সামনে সবজির চাষ করেছিলাম। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারনে সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমন অনেকের সবজি খেতের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

b-sss

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, এখন ধানের মৌসুম। এই বৃষ্টি ধান খেতের জন্য উপকারী। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সবজি খেতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। যেটা পানি নেমে যাওয়ার পর বোঝা যাবে। তবে পানি জমে থাকলে অবশ্যই ক্ষতির মুখে পরবে সবজি চাষিরা।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, পূর্বের আবহাওয়া অনুযায়ী শনিবার থেকে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে এ বৃষ্টিপাত আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

প্রতিনিধি/একেবি

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর