মাত্র ৫০ টাকায় এক প্লেট চিকেন বিরিয়ানি। সঙ্গে রয়েছে কাঁচামরিচ। বসে খাওয়া অথবা পার্সেল দুই ব্যবস্থা আছে। ছোট থেকে বড় প্রায় সবার খাদ্য তালিকায় বিরিয়ানি বেশ পছন্দের। এমন দোকানের সন্ধান মিলেছে রাজবাড়ীতে। জেলা শহরের ২নং রেলগেটে উৎপল সাধুর ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানে ভিড় করছেন ভোজন রসিকেরা। ছাড়াও এখানে রয়েছে ১২০ টাকা প্লেট খাসি মাংসের বিরিয়ানি।
মঙ্গলবার (১১ জুলাই) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই ভ্রাম্যমাণ দোকানটিতে এসেছেন বিরিয়ানি খেতে। অনেকে আবার পার্সেল করে নিয়ে যাচ্ছেন বাসায়।
বিজ্ঞাপন
দোকানে আসা ৫০ টাকার বিরিয়ানি খেয়ে ক্রেতারা বলছেন বেশ সুস্বাদু। খুব বেশি তফাৎ নেই ১০০ বা ১৫০ টাকার বিরিয়ানি সঙ্গে, পরিমাণও নেহাত কম নয়।
রিকশাচালক সহিদ হাসান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এ বাজারে ভাতের হেটেলে গিয়ে দুপুরের খাবার খেতে এক থেকে দেড়শ টাকা লাগে। তবুও পেট ভরে তৃপ্তি সহকারে খাওয়া হয় না। কিন্তু ঊৎপল সাধুর এই ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানে মাত্র ৫০ টাকায় যে পরিমাণ বিরিয়ানি পাওয়া যায়, তাতে পেট ভরে খাওয়া হয়ে যায়।
আরেক ক্রেতা সজিব শেখ বলেন, আমি একজন অটো চালক। আমার বাড়ি শহর থেকে অনেক দূরে। দুপুরের খাবার আগে হোটেলে খেতাম। কদিন ধরে এ দোকানে আসি। মাত্র ৫০ টাকায় ভরপেট খেতে পারি।
বাড়িতে নেওয়ার জন্য বিরিয়ানি কিনছেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহায়ক ফজলু মিয়া। তিনি বলেন, এক প্যাকেট বিরিয়ানি কিনতে গেলে দুইশ টাকা লাগে। আর এই বিরিয়ানির দোকানে লাগছে ৫০ টাকা। খাবারের মান,পরিমাণ ও স্বাদ অনেক ভালো।
বিজ্ঞাপন
দোকানি উৎপল সাধু আগে বাসা-বাড়িতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রান্নার বাবুর্চির কাজ করতেন। পরে আমি ভ্যানগাড়িতে করে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান করেন। পোলাও চাউল দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করেন। তার প্রতিদিন ৫ কেজি চাউলের বিরিয়ানি বিক্রি হয়।
ঊৎপল সাধু জানান, কম টাকায় ভালোমানের ও স্বাদের খাবার পেয়ে ক্রেতার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আমি নিজে একজন দরিদ্র মানুষ। তাই সকলের কথা চিন্তা করে খাবারের দাম কম রাখছি।
বর্তমান এই মূল্যবৃদ্ধিতে ৫০ টাকা বিরিয়ানি বিক্রি কীভাবে করা সম্ভব তা বুঝে উঠতে পারছেন না অনেকে। ঊৎপল সাধু জানিয়েছেন,এতে তার লাভের পরিমাণ কম হচ্ছে। তবে তিনি মানসিকভাবে শান্তি পান।
দ্রব্যমূল্যের দাম যেভাবে বেড়েছে এভাবে চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর বলে জানালেন।
প্রতিনিধি/এইচই




