যারা আগে কখনোই বিমান ভ্রমণ করেননি, তারা মনে করেন বিমানের খাবার বুঝি বিস্বাদ! বিমানের খাবার নিয়ে মনে এমন ধারণা জন্ম নেয়ার কারণ ‘কান কথা’। ইন্টারনেটে বিমানের খাবার লিখে সার্চ দিলে প্রথমে গুগল যেটা দেখায় সেটা হচ্ছে ‘বিমানে খাবার কেন বিস্বাদ লাগে?’। আগে বিমাণ ভ্রমণ করেছেন এমন কারো কাছেও হয়তো উড়ানের খাবার সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন হয়তো। কিন্তু সত্যিটা কী? আসলেই কি বিমানের খাবার বিস্বাদ?
উত্তরটা নির্ভর করবে আপনার উপর। চলুন বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
বিজ্ঞাপন
আমরা খালি চোখে যা দেখি, কানে যা শুনি-তা সব সময়ে সত্যি হয় না। বিজ্ঞান বলছে, বিমানের মধ্যে থাকা বাতাসে মাত্র কুড়ি শতাংশ আর্দ্রতা থাকে বাকিটা খুব শুষ্ক। যদি তুলনা করে দেখা যায় তা হলে সাহারা মরুভূমিতে আর্দ্রতার পরিমাণ হয় ২৫ শতাংশ।
আর্দ্রতার এই অভাবের ফলেই বিমানে থাকা খাবার খুবই বিস্বাদ হয়ে যায়। বিমানের খাবারের কোনো দোষ নেই। দোষটা পরিবেশ-পরিস্থিতির।
কেননা, বিমানের মধ্যকার এই শুষ্ক পরিস্থিতি খাবারকেও শুকনো করে ফেলে। গবেষণা বলছে বাতাসে যত আর্দ্রতা থাকবে, ততই ঘ্রাণ অনুভব করা যায়। সাধারণ ভাবে মাটিতে বসে যে ভাবে আপনি খাবার কে অনুভব করতে পারেন তা মাঝ আকাশে উড়ন্ত বিমানে সম্ভব হবে না।
একটি সমীক্ষা বলছে, বিমানে আমাদের স্বাদ বোঝার ক্ষমতা অনেকটা ঠান্ডার জায়গায় গেলে যেমন হয় তেমনটাই হয়ে যায়। যত দামি উপাদান ব্যবহার করেই খাবার রান্না করা হোক না কেন, মাটিতে বসে খাওয়ার আনন্দ মাঝ আকাশে পাওয়া সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
২০১৪ সালের একটি গবেষণা হয়েছিল যার আয়োজন করেছিলেন অক্সফোর্ডের সাইকোলজিস্টরা। তারাও সমীক্ষায় দেখিয়েছেন, বিমানের মধ্যে একটা ক্রমাগত আওয়াজ হতে থাকায় তার প্রভাব স্বাদ গ্রন্থির ওপরে পড়ে। মাটিতে বসে খাবার খেলে তার যে স্বাদ অনুভব করা যায় তার তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি লবণ ও চিনি যোগ করলে মাঝ আকাশের খাবারে স্বাদ খানিকটা খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু তা আবার স্বাস্থের পক্ষে একেবারেই ভালো না।
এজেড




