মাঝ আকাশে উড়ে গেল বিমানের ছাদ, অতপর...

এভিয়েশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:২১ পিএম
মাঝ আকাশে উড়ে গেল বিমানের ছাদ, অতপর...

মাঝ আকাশে উড়ছে বিমান। হঠাৎই উড়ে গেল বিমানের ছাদ। বাতাসের চাপে উড়ে গেলেন বিমানবালা। 

ঘটনাটি ১৯৮৮ সালের ২৮ এপ্রিলের। আলোহা এয়ারলাইনসের বিমানে ছিলেন ৮৯ জন যাত্রী। নিশ্চিত মৃত্যুর আতঙ্কে তখন তারা কাঁপছিলেন।

এই বুঝি ছিটকে পড়লেন নিচে। যদিও শেষ পর্যন্ত সবাইকে নিয়ে নিরাপদেই নেমেছিল বিমানটি। মৃত্যু হয়েছিল এক বিমানবালার। বিমানযাত্রীদের রক্ষা পাওয়ার সেই গল্প কোনও সিনেমার থেকে কম নয়।

planeবিমানটি ছিল আলোহা এয়ারলাইনসের। হাওয়াইয়ের হিলো থেকে হনলুলু যাচ্ছিল সেটি। বিপত্তির পর মাওয়িতে জরুরি অবতরণ করে সেই বিমান।

বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি তৈরি হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। ওই বছরই আলোহা বিমান সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয় সেই বিমান। ১৯৮৮ সালে দুর্ঘটনার সময় বিমানটির বয়স ছিল ১৯ বছর।

দুর্ঘটনার দিন বিমানটি চালাচ্ছিলেন ৪৪ বছরের রবার্ট স্কর্নসথেইমার। ৮৫০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল তার। এর মধ্যে বোয়িং ৭৩৭ চালিয়েছিলেন ৬৭০০ ঘণ্টা। সহকারী চালক ম্যাডেলিন মিমি টম্পকিনসও যথেষ্ট অভিজ্ঞ চালক ছিলেন।

২৮ এপ্রিল দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে হিলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮৯ জন যাত্রী এবং ছয় জন ক্রু বা বিমানবালা নিয়ে উড়েছিল বিমানটি। সে সময় বিমানে কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি কারও।

দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটে ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠে বিমানটি। তখনই ভয়ঙ্কর শব্দে উড়ে যায় বিমানের ছাদের বাঁ দিকের অংশ।

চালক বুঝতে পারেন, বিমানটি এক বার ডান দিকে, এক বার বাঁ দিকে দুলছে। এর ফলে নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকেন পাইলট। সহকারী পাইলট লক্ষ করেন, মাথার উপর দিয়ে ধূসর রঙের কিছু ভেসে বেড়াচ্ছে।

planeঠিক তখনই ভেঙে যায় ককপিটের দরজা। বিমান চালাতে চালাতেই পাইলট দেখেন তাঁ পাশে নীল আকাশ। ক্রমে হাওয়ার চাপে বিমানের পুরো ছাদটাই উড়ে যায়।

সে সময় যাত্রীদের আসনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিমানবালা ক্লারাবেল। ছাদ উড়তেই নিমেষে ছিটকে যান ৫৮ বছরের ওই মহিলা। কোনও দিন তার দেহ উদ্ধার হয়নি। ৩৭ বছর ধরে বিমানবালার কাজ করছিলেন তিনি।

ছাদ যখন উড়ে যায়, তখন বিমান চালাচ্ছিলেন সহকারী পাইলট টম্পকিনস। তাকে সরিয়ে ককপিটে বসে পড়েন অভিজ্ঞ স্কর্নসথেইমার।

জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। কাহুলুই বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করে বিমানটি। অবতরণের সময় বিমানের বা দিকের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।

ছাদ উড়ে যাওয়ার ১৩ মিনিটের মাথায় কোনও মতে অবতরণ করে সেই বিমান। ৬৫ জন যাত্রী জখম হন। ছোট্ট দ্বীপে মাউয়িতে এত জনের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি পুরো দ্বীপে ছিল মাত্র দুইটি অ্যাম্বুল্যান্স।

aviationএয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল থেকে কাছের শহর আকামাইতে যোগাযোগ করা হয়। পর্যটকদের ভ্যানে চাপিয়ে আহতদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুর্ঘটনায় বিমানটি এতটাই বিকল হয়ে গিয়েছিল যে, পরে তা আর মেরামত করা যায়নি। আমেরিকার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড দুর্ঘটনার তদন্ত করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, ১৯ বছর ধরে নোনা সামুদ্রিক আবহাওয়ার মধ্যে দিয়ে চলাচল করেছিল বিমানটি। ফলে তার ধাতব আবরণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণও ঠিক ভাবে হয়নি। তাই এই বিপত্তি।

এজেড