বাংলাদেশের এভিয়েশনকে সমৃদ্ধ না করলে দেশ কখনোই উন্নত হবে না এমন মন্তব্য করেছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি দেশের এভিয়েশন খাতকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও চেয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারের একটি হোটেলে ইউএস বাংলার এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, এভিয়েশন মানে হচ্ছে কানেক্টিভিটি। এভিয়েশনকে সমৃদ্ধ করা ছাড়া এই দেশ কখনোই উন্নতি করবে না। এইটাকে সবার আগে প্রায়োরিটি দিতে হবে। আপনি কি জানেন বাংলাদেশ থেকে কার্গো রফতানি সবচেয়ে এক্সপেন্সিভ? এক কেজি পটল রফতানি করবেন, সেখানে আপনাকে ২৫ সেন্ট দিয়ে দিতে হবে দুই অথরিটিকে। যেখানে ব্যাংকক নেয় ৫ সেন্ট, দিল্লি নেয় ৫ সেন্ট, সেখানে আমাদের এখানে নেয় ২৫ সেন্ট। ঢাকা থেকে যদি আপনার একটা কার্গো সবজি যায় তাহলে এই হারে এত বেশি খরচ হয়। বাংলাদেশের জন্য সবজি খাতটা বিশাল জায়গা।
তিনি দেশের এভিয়েশন খাত নিয়ে অবহেলার অভিযোগ এনে বলেন, বাংলাদেশে আমরা আসলে কোনো ক্রান্তিকালে (করোনা মহামারি ও ফুয়েল প্রাইজ বৃদ্ধি) অথরিটি বা সরকার থেকে সহযোগিতা পাই না। বাংলাদেশের এভিয়েশন হচ্ছে একলা চলো নীতি। এখানে এয়ারলাইন্স একটাই, মালিক একটাই। আমি একা হয়ে একলা চলছি। সেজন্য আমরা সবার সহযোগিতা চাচ্ছি।
ইউএস-বাংলার এমডি আরও বলেন, আমি মাঝে মাঝে সব অপারেটরদের বলি যে দেখো আমাদের তো কিছু হচ্ছে না, আমরা এয়ারপোর্টে এক মিনিট আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দাঁড়াই। আল্লাহ যদি কিছু করে এই এভিয়েশনটাকে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আশা আপনারা দেশীয় এয়ারলাইন্সকে প্রমোট করেন। তবেই দেখবেন আমরা সাহস পাব, আমরা সাহস করব আরও বড় করার জন্য। আপনারা আমাদের দেশীয় এয়ারক্রাফটের টেকনিক্যাল সামান্য সমস্যা হলেই সেটা নিয়ে নিউজ করেন। কিন্তু ইন্ডিগোর এয়ারক্রাফট নিয়ে নিউজ হয় না। দেশি-বিদেশি সব এয়ারক্রাফটই টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে। এটা কমন বিষয়। অথচ তাদের সমস্যায় নিউজ না হলেও আমাদের সমস্যা হলেই হয়। একজন ফেসবুকে একটা কিছু বলেছে বা দিয়েছে সেটাই নিউজ হয়ে গেছে৷ তাই বলব আপনারা একটু আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে নজর দেন। আমরা এখন সাউথ এশিয়ান কাউকে নিজেদের প্রতিযোগী মনে করি না। সবার সহযোগিতায় আমরা দেশীয় থেকে গ্লোবাল প্রোডাক্টে পরিণত হবো।
বিইউ/এএস




