রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করল আয়াটা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করল আয়াটা

বাংলাদেশে বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোর সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আয়াটা)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ভাড়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। এতে যাত্রীদের খরচ বৃদ্ধি, আকাশপথের সংযোগ দুর্বল হওয়া এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

চলতি মাসের ১৪ জানুয়ারি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে আয়াটা এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


বিজ্ঞাপন


চিঠিতে আয়াটা উল্লেখ করেছে, প্রস্তাবিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬ ’-এর ৪৩এ ধারায় এয়ারলাইনগুলোর ভাড়া সংক্রান্ত তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়ার যে বিধান রাখা হয়েছে, তা পরোক্ষভাবে মূল্যনিয়ন্ত্রণের পথ খুলে দিতে পারে। সংস্থাটি জানতে চেয়েছে, এই ভাড়া জমার ব্যবস্থা কেবল তথ্য সংগ্রহের জন্য, নাকি তা ব্যবহার করে ভাড়া নির্ধারণ বা সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হবে।

আয়াটা আরও বলেছে, যদি এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাড়ায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, তবে তা মুক্ত বাজার অর্থনীতির পরিপন্থী হবে এবং এয়ারলাইন শিল্পের স্বাভাবিক বাজার গতিশীলতা ব্যাহত করবে। এতে এয়ারলাইনগুলোর বাণিজ্যিক টেকসইতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও এয়ার অ্যাস্ট্রাসহ বিশ্বের প্রায় ৩৬০টি এয়ারলাইনের প্রতিনিধিত্বকারী আয়াটা জোর দিয়ে বলেছে, উচ্চ স্থায়ী ব্যয়, জ্বালানির অস্থির মূল্য এবং যাত্রী চাহিদার ওঠানামা সামাল দিতে এয়ারলাইনগুলোর ভাড়া নির্ধারণে স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি।

সংস্থাটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, সত্তরের দশকের শেষ দিকে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে নিয়ন্ত্রণমুক্ত ব্যবস্থা (ডিরেগুলেশন) চালুর পর থেকে প্রকৃত অর্থমূল্যে গড় বিমানভাড়া অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণই দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।


বিজ্ঞাপন


আয়াটা সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেয়, তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এতে এয়ারলাইনগুলোর বিনিয়োগে আগ্রহ কমবে, আসনসংখ্যা হ্রাস পাবে এবং শেষ পর্যন্ত আয় ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ন্যূনতম ভাড়া আরও বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি কম যাত্রীঘন বা প্রান্তিক রুটগুলো অলাভজনক হয়ে পড়ায় দ্বিতীয় সারির শহরগুলোর সঙ্গে বিমান যোগাযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আয়ের চাপ বাড়লে সেবার মান অবনতির ঝুঁকিও তৈরি হবে।

ভাড়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিমান খাতে বিভিন্ন চার্জ ও লেভি নির্ধারণে ‘অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আয়াটা। সংস্থাটি বলেছে, এসব চার্জ নির্ধারণ অবশ্যই আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)-এর নীতিমালা অনুযায়ী ব্যয়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন এবং শিল্পখাতের অংশীজনদের সঙ্গে অর্থবহ পরামর্শের মাধ্যমে হতে হবে।

চিঠির শেষাংশে আয়াটা সরকারকে প্রস্তাবিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে বাংলাদেশে এয়ারলাইনগুলোর বাণিজ্যিক স্বাধীনতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর