হাওয়ার পরিবর্তে বিমানের চাকায় ভরা হয় গ্যাস, কিন্তু কেন?

এভিয়েশন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ মে ২০২২, ০২:২৪ পিএম
হাওয়ার পরিবর্তে বিমানের চাকায় ভরা হয় গ্যাস, কিন্তু কেন?

সভ্যতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার চাকা। এটা আবিষ্কারের পর থেকে সভ্যতা তড়তড়িয়ে এগিয়েছে। সাধারণত গাড়ি বা অন্যান্য যানবাহনে যে চাকা ব্যবহার করা হয় তা রাবারের। এই রাবার প্রাকৃতিক। এছাড়াও এতে বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক্স ও রাসায়নিক উপাদান থাকে। এই চাকা বাতাসে পরিপূর্ণ করা হয়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বিমানের চাকাও কি তাহলে বাতাস দিয়ে পরিপূর্ণ করা হয়?

উত্তর হলো- না। উড়োজাহাজ বা অন্যান্য আকাশযানের চাকায় সাধারণ বাতাস ভরা হয় না। এটি পূর্ণ করা হয় বিশেষ গ্যাসীয় উপাদান দিয়ে। বিমানের চাকায় সাধারণ গ্যাসের পরিবর্তে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়। কিন্তু কেন? সাধারণ হাওয়া ব্যবহার করলে কী হতো? নাইট্রোজেন ব্যবহারেই বা লাভ কী? 

tireউঁচু উচ্চতার নিম্ন তাপমাত্রা 

একটি বিমানের ওঠা-নামার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি অংশ এর ল্যান্ডিং গিয়ার। এখানেই যুক্ত থাকে এর চাকাগুলো। যাত্রীবাহী বিমানগুলো সাধারণত ৩০ হাজার ফুট থেকে ৬৫ হাজার ফুট উচ্চতায় চলাচল করে। এই উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৪৪ ডিগ্রি কিংবা তারও কম। আর বাতাসে স্বাভাবিকভাবেই অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্প থাকে। 

বিমানের চাকায় যদি সাধারণ হাওযা ভরা হয়, তাহলে এই নিম্ন তাপমাত্রায় জলীয় বাষ্প জমাট বেঁধে ছোট ছোট বরফের টুকরায় পরিণত হত। এতে চাকার আকার পরিবর্তন ঘটত। বিমান যখন অবতরণ করত তখন চাকা রানওয়ে স্পর্শ করলেই ঘটত মারাত্মক দুর্ঘটনা। 

tireঅক্সিজেনের পরিমাণ 

অন্যদিকে, সাধারণ বাতাসে শতকরা ২০ ভাগ অক্সিজেন থাকে। বিমানের চাকায় এই বাতাস ভরা হলে তা টায়ারের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে টায়ারের রাবারকে অক্সিডাইজ করে ফেলত। অক্সিডাইজ রাবারের সহনশীলতা অনেক কম থাকে। ফলে যেকোনো সময় টায়ার ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। 

এছাড়াও, একটি বিমান যখন অবতরণ করে তখন এর প্রতিটি চাকায় প্রায় ৩৮ টন চাপ পড়ে। এসময় বিমানের গতি থাকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। এই বিপুল পরিমাণ চাপ এবং প্রচণ্ড গতিবেগের কারণে বিমান রানওয়ে স্পর্শ করলে চাকা আর রানওয়ের প্রচণ্ড ঘর্ষণ তৈরি হয়। এই ঘর্ষণের ফলে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ও প্রচুর তাপের সৃষ্টি হয়। যেহেতু অক্সিজেন দহন সহায়ক গ্যাস তাই সহজেই আগুন লেগে দুর্ঘটনা ঘটত। 

tireযে কারণে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয় 

মূলত নিষ্ক্রিয় ধর্মের কারণে বিমানের চাকায় নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এই গ্যাসের মেল্টিং পয়েন্ট মাইনাস ২১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই মাইনাস ৪৪ ডিগ্রি বা তারও কম তাপমাত্রায় নাইট্রোজেনের চাপের কোনো পরিবর্তন হয় না। অন্যদিকে, নিষ্ক্রিয় হওয়ায় অতিরিক্ত চাপ ও তাপে এটি আগুন লাগাতে পারে না। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে বিমান রক্ষা পায়। 

বিমানের পাশাপাশি এখন রেসিং কারের টায়ারেও নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। নিষ্ক্রিয় ধর্মের কারণের সমাদৃত হচ্ছে এটি। 

এনএম/এজেড