বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

১০ মিনিটে ৩০০ কিলোমিটার চলবে মার্সিডিজ বেঞ্জের এই ইলেকট্রিক গাড়ি

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

শেয়ার করুন:

১০ মিনিটে ৩০০ কিলোমিটার চলবে মার্সিডিজ বেঞ্জের এই ইলেকট্রিক গাড়ি
বাজারে নতুন জিএলসি ইলেকট্রিক (GLC Electric) লঞ্চ করল মার্সিডিজ-বেঞ্জ (Mercedes-Benz)।

ভারতের বাজারে নতুন জিএলসি ইলেকট্রিক (GLC Electric) লঞ্চ করল মার্সিডিজ-বেঞ্জ (Mercedes-Benz)। গাড়িটির এক্স-শোরুম দাম রাখা হয়েছে ৭৮ লাখ ৫০ হাজার রুপি। ভারতেই গাড়িটি অ্যাসেম্বল করা হচ্ছে। সংস্থার বৈদ্যুতিক এসইউভি (SUV) লাইনআপে এটিই এখন সবচেয়ে সাশ্রয়ী মডেল। নামের মিল থাকলেও পেট্রোল ও ডিজেল চালিত জিএলসি-র সঙ্গে এই বৈদ্যুতিক এসইউভি-র প্রযুক্তিগত সম্পর্ক নেই বললেই চলে। সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক প্ল্যাটফর্মের উপর তৈরি গাড়িটিতে রয়েছে ৪০০ ভোল্ট আর্কিটেকচার এবং ৯৪ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি। সংস্থার দাবি, একবার সম্পূর্ণ চার্জে ডব্লিউএলটিপি (WLTP) পদ্ধতিতে ৭১১ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে এটি।

লঞ্চের আগেই গাড়িটি ঘিরে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্সিডিজ-বেঞ্জ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত জিএলসি ইলেকট্রিকের জন্য এক হাজারের বেশি বুকিং জমা পড়েছে। ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত গাড়িটির বুকিং পূর্ণ হয়েছে। 

safmu4u8_mercedesbenzelectricglcdevendrafadnavis_625x300_04_November_26

গাড়িটির সামনের আলোকিত গ্রিলে রয়েছে ৯১৪টি পৃথক পিক্সেল লাইটিং এলিমেন্ট। গাড়ি পার্ক করা, চালু করা বা বন্ধ করার সময় এই আলো বিভিন্ন প্যাটার্নে জ্বলে ওঠে। হেডল্যাম্প ও টেলল্যাম্পের এলইডি ডেটাইম রানিং লাইটে রয়েছে মার্সিডিজের তিনমুখী তারার নকশা। ভারতের বাজারে জিএলসি ৪০০ মডেলটি এএমজি লাইন (AMG Line) প্যাকেজসহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবেই থাকছে ২০ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল এবং স্পোর্টি এএমজি ডিজাইনের সামনের ও পেছনের বাম্পার। আকারের দিক থেকেও পেট্রোল-ডিজেল জিএলসি-র তুলনায় বড় বৈদ্যুতিক সংস্করণটি। দৈর্ঘ্য ১৪০ মিলিমিটার, প্রস্থ ২৩ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১২ মিলিমিটার বেড়েছে। হুইলবেস ৮৪ মিলিমিটার বেড়ে হয়েছে ২,৯৭২ মিলিমিটার।

গাড়ির কেবিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ৩৯.১ ইঞ্চির হাইপারস্ক্রিন। ড্যাশবোর্ডের প্রায় সম্পূর্ণ প্রস্থ জুড়ে বিস্তৃত এই ডিসপ্লেটি কোনো আলাদা স্ক্রিনের সমষ্টি নয়, বরং কোনো দৃশ্যমান বিভাজন ছাড়াই তৈরি একটি একটানা প্যানেল। তবে এর ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো কিছু ফিচারের জন্যও ফিজিক্যাল বোতাম খুব কম রাখা হয়েছে। স্ক্রিনটির গ্রাফিক্স স্পষ্ট এবং হাই-ডেফিনিশন। কেবিনে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ, ধাতু এবং লেদারের মতো প্রিমিয়াম উপকরণ। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে আটটি ক্যামেরা ও পাঁচটি রাডারসহ লেভেল ২ এডাস (Level 2 ADAS), অটো পার্কিং অ্যাসিস্ট, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা এবং নয়টি এয়ারব্যাগ। মালপত্র রাখার জন্য পিছনে ৫৭০ লিটারের বুট স্পেস এবং সামনে ১২৮ লিটারের ফ্রাঙ্ক রয়েছে।

car

ভারতে জিএলসি ইলেকট্রিকের ৪০০ ফোরমেটিক (4Matic) সংস্করণটি লঞ্চ হয়েছে। এতে রয়েছে ৯৪ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি প্যাক এবং দুইটি বৈদ্যুতিক মোটর, যা থেকে অল-হুইল ড্রাইভ ব্যবস্থা পাওয়া যাবে। দুইটি মোটর মিলিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি ৪৯০ হর্সপাওয়ার এবং টর্ক ৮০০ নিউটন-মিটার। 

আরও পড়ুন: আসছে নতুন টয়োটা ইনোভা হাইক্রস, কী কী বদল থাকছে?

কোম্পানির দাবি, মাত্র ৪.৩ সেকেন্ডে ঘণ্টায় শূন্য থেকে একশ কিলোমিটার গতি তুলতে পারবে গাড়িটি। ডব্লিউএলটিপি শংসাপত্র অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জে ৭১১ কিলোমিটার চলবে এই গাড়ি। স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ২২ কিলোওয়াট এসি চার্জার দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ৩৩০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করলে মাত্র ১০ মিনিটে ৩০০ কিলোমিটার চলার মতো চার্জ যোগ করা সম্ভব বলে দাবি মার্সিডিজের। বর্তমানে ভারতে গাড়িটির সরাসরি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও আগামী বছর বিএমডব্লিউ আইএক্স৩ (BMW iX3) বাজারে আসার কথা রয়েছে। পেট্রল ও ডিজেল চালিত জিএলসি-র তুলনায় এর দাম সামান্য বেশি হওয়ায় নতুন এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি ক্রেতাদের বাড়তি নজর কাড়বে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর