নতুন ডিজাইন, সম্ভাব্য এডিএএস (ADAS) প্রযুক্তি এবং রিয়ার ডিস্ক ব্রেক নিয়ে পরীক্ষামূলক অবস্থায় রাস্তায় দেখা গেল মারুতি সুজুকি ফ্রংক্স ফেসলিফ্টকে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা স্পাই ছবি অনুযায়ী, বর্তমান মডেলের তুলনায় এই নতুন সংস্করণের সামনের গ্রিলের নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি গাড়িটির সামনে পার্কিং সেন্সর এবং পেছনের চাকায় ডিস্ক ব্রেকও নজরে এসেছে। ব্যালানো ফেসলিফ্টে সাম্প্রতিক আপডেটের পর এবার ফ্রংক্সেও একই ধরনের কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও মারুতি সুজুকি এখনও পর্যন্ত নতুন এই মডেলটির ফিচার বা আনুষ্ঠানিক লঞ্চের তারিখ ঘোষণা করেনি।
নতুন গ্রিল ও এডিএএস সেন্সরের ইঙ্গিত
পরীক্ষামূলক গাড়িটির সামনের অংশে নতুন ডিজাইনের গ্রিল দেখা গিয়েছে, যার মাঝখানে একটি বাক্সের মতো অংশ রয়েছে। এটি সম্ভাব্য অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস-এর রাডার সেন্সর হতে পারে। তবে স্পাই ছবির ভিত্তিতে সেন্সরটির সঠিক কাজ বা গাড়িতে ঠিক কোন কোন এডিএএস ফিচার থাকবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বর্তমান ফ্রংক্সের এলইডি হেডল্যাম্প ও ডিআরএল অপরিবর্তিত থাকলেও সামনের বাম্পারে কিছু সংশোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া গাড়িতে নতুন করে পার্কিং সেন্সর যুক্ত হতে পারে, যা বর্তমান মডেলে অনুপস্থিত।
পেছনের চাকায় ডিস্ক ব্রেকের সম্ভাবনা
গাড়ির পাশে বর্তমান ফ্রংক্সের মতো ডুয়াল-টোন অ্যালয় হুইল দেখা গেলেও পেছনের চাকায় ডিস্ক ব্রেকের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। বর্তমান মডেলে পেছনে ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয় না। উৎপাদন সংস্করণেও এই বৈশিষ্ট্য বজায় থাকলে ব্রেকিং সিস্টেমে এটি একটি বড় আপডেট হবে। এছাড়া পেছনের টেলল্যাম্প ও বাম্পারের ডিজাইনেও সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে।
ভেন্টিলেটেড সিট ও উন্নত সাউন্ড সিস্টেম
নতুন ফ্রংক্সের কেবিনের ছবি সামনে না এলেও, ব্যালানো ফেসলিফটের আদলে এতে সামনের ভেন্টিলেটেড সিট এবং ক্ল্যারিয়ন ব্র্যান্ডের সাউন্ড সিস্টেম যুক্ত হতে পারে। সিটে লেদারেট আপহোলস্ট্রি ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকলেও ড্যাশবোর্ডের সামগ্রিক নকশায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
আরও পড়ুন: হুন্দাই কম দামের এসইউভি আনছে, এতে পাবেন জ্বালানি সাশ্রয়ী ইঞ্জিন
নতুন ইঞ্জিন ও মাইলেজ
ফেসলিফ্ট সংস্করণের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে। বর্তমানের ১.২ লিটার চার-সিলিন্ডার পেট্রল ইঞ্জিনের বদলে এতে নতুন زی১২ই (Z12E) ১.২ লিটার তিন-সিলিন্ডার ইঞ্জিন দেওয়া হতে পারে, যা ইতিমধ্যে ব্যালানোতে ব্যবহার করা হয়েছে। এই নতুন ইঞ্জিনটি ৮৩hp ক্ষমতা এবং ১১২Nm টর্ক উৎপন্ন করে। এর সঙ্গে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল ও এএমটি (AMT) গিয়ারবক্সের পাশাপাশি ৭০hp ক্ষমতার সিএনজি (CNG) সংস্করণও আসতে পারে। ক্ষমতা সামান্য কমলেও নতুন এই ইঞ্জিনে জ্বালানি সাশ্রয় ও মাইলেজ অনেক বেশি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বর্তমান ১.০ লিটার বুস্টারজেট টার্বো-পেট্রল ইঞ্জিনটি বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দাম
বর্তমানে মারুতি সুজুকি ফ্রংক্সের এক্স-শোরুম দাম ৬.৯০ লাখ থেকে ১২.০৩ লাখ রুপির মধ্যে। নতুন মডেলে এডিএএস, রিয়ার ডিস্ক ব্রেক এবং উন্নত ফিচার যুক্ত হলে দাম কিছুটা বাড়তে পারে। বাজারে গাড়িটি টয়োটা টেইসর, রেনল্ট কাইগার, নিসান ম্যাগনাইট এবং সিট্রোয়েন সি৩-এর মতো মডেলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তবে চূড়ান্ত বিবরণের জন্য মারুতি সুজুকির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
এজেড




