বৈদ্যুতিক স্কুটারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে নিজেদের জনপ্রিয় মডেল ‘চেতক’ (Chetak)-এর উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাজাজ অটো (Bajaj Auto)। ২০২৭ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৭) প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার চেতক ই-স্কুটার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। বর্তমানে তাদের মাসিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬২ হাজারের কিছু বেশি।
সংস্থার যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকেশ শর্মা সম্প্রতি দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাঁর মতে, কারখানায় উৎপাদন বাড়ানো হলেও বাজারে ই-স্কুটারের চাহিদা বর্তমানে যোগানের তুলনায় অনেক বেশি।
সরবরাহ সংকট কাটিয়ে উৎপাদনে গতি
পূর্বে বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহজনিত জটিলতার কারণে চেতকের উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। তখন মাসে ৬০ হাজার ইউনিট তৈরির সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন নেমে এসেছিল প্রায় ৪০ হাজারে। রাকেশ শর্মা জানান, বর্তমানে সেই সংকট কাটিয়ে কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু করেছে। তবে বর্তমান বাজার চাহিদা মেটাতে ২০২৭ সালের জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকের মধ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এটি সম্পন্ন হলেই মাসিক উৎপাদন ৮০ হাজারের ঘরে পৌঁছাবে।

কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ষষ্ঠ প্ল্যান্টের পরিকল্পনা
উৎপাদন বাড়াতে বর্তমান কারখানার অবকাঠামোগত গতি বাড়ানোর (debottlenecking) ওপর জোর দিচ্ছে বাজাজ। এর ফলে নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ কারখানা তৈরি হওয়ার আগেই বিদ্যমান পরিকাঠামো থেকেই বেশি সংখ্যক স্কুটার বাজারজাত করা সম্ভব হবে। তবে কেবল চেতকই নয়, প্রিমিয়াম মোটরসাইকেল এবং পেট্রোলচালিত অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রেও বাজাজের বর্তমান কারখানাগুলোতে উৎপাদন সীমার চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতে তাদের ষষ্ঠ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সংস্থাটি। রাকেশ শর্মার মতে, নতুন কারখানার উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের জন্য কয়েকটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বিনিয়োগের তথ্য ঘোষণা করা হয়নি।
আরও পড়ুন: ১২৫ ও ২৫০ সিসির বাজারে আধিপত্য বাড়াতে দুই নতুন ব্র্যান্ড আনছে বাজাজ
আগামী ছয় মাসে আসছে চেতকের নতুন মডেল
উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে চেতকের মডেল ও ভ্যারিয়েন্ট সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বাজাজের। বাজার বৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন আয়ের গ্রাহকদের নাগালের মধ্যে নতুন বিকল্প আনা হবে। তবে আগামীতে আসতে যাওয়া এই মডেলগুলোর স্পেসিফিকেশন, ডিজাইন, ব্যাটারি বা মাইলেজের বিবরণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতীয় স্কুটার বাজারে ই-স্কুটারের অবস্থান
রাকেশ শর্মার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ভারতে মোট স্কুটার বিক্রির প্রায় ২৫ শতাংশই ইলেকট্রিক স্কুটারের দখলে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এটি বেড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওড়িশায় স্কুটার বিক্রির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং মহারাষ্ট্রে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশই ইলেকট্রিক, যদিও গুজরাটে এই হার ১০ থেকে ১২ শতাংশের কাছাকাছি। সব মিলিয়ে, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন ভ্যারিয়েন্ট আনার এই উদ্যোগ ই-স্কুটারের বাজারে বাজাজকে আরও সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাবে।
এজেড




