সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নতুন গাড়ি কত কিলোমিটার চালানোর পর বিক্রি করে দেওয়া উচিত?

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

শেয়ার করুন:

নতুন গাড়ি কত কিলোমিটার চালানোর পর বিক্রি করে দেওয়া উচিত?
অনেকেই গাড়ি পুরনো হলেই বিক্রি করে দেন।

একটি গাড়ি ১ লাখ বা ২ লাখ কিলোমিটার চলার পর অনেকেই সেটি বিক্রি করার কথা ভাবেন। তাদের ধারণা, এতটা পথ চলার পর ইঞ্জিনের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে এবং মেরামতের খরচও অনেকটাই বেড়ে যায়। কিন্তু বাস্তবটা সব সময় এমন নয়। শুধুমাত্র গাড়ির ওডোমিটারে কত কিলোমিটার দেখাচ্ছে, তা দিয়ে গাড়ির প্রকৃত অবস্থা বিচার করা যায় না। গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ কেমন হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের বর্তমান অবস্থা কেমন, সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

২ লাখ কিলোমিটার চললেই কি গাড়ি বিক্রি করা জরুরি?

২ লাখ কিলোমিটার চললেই গাড়ি বিক্রি করে দিতে হবে, এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। সময়মতো সার্ভিসিং করা হলে এবং ইঞ্জিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ভালো অবস্থায় থাকলে অনেক গাড়িই ২ লাখ কিলোমিটারের পরেও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে চলতে পারে। অন্যদিকে, সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করলে কম কিলোমিটার চলা গাড়িতেও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গাড়ি কতটা পথ চলেছে, তার পাশাপাশি ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, সাসপেনশন, ব্রেক ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের অবস্থার দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

car_maintanance

কখন নতুন গাড়ি কেনার কথা ভাববেন?

আপনার গাড়ি যদি বারবার খারাপ হতে থাকে এবং প্রতিবার মেরামতের জন্য মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হয়, তবে নতুন গাড়ি কেনার কথা ভাবতে পারেন। বিশেষ করে কিছু লক্ষণ কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। ইঞ্জিনে নতুন ধরনের কোনো শব্দ বা কম্পন দেখা দিলে দ্রুত তা পরীক্ষা করান। বারবার ইঞ্জিন অয়েল কমে যাওয়া, তেল লিক হওয়া বা ইঞ্জিনের ভেতরে তেল পুড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকতে পারে। এছাড়া এক্সহস্ট থেকে অস্বাভাবিক ধোঁয়া বের হলে কিংবা গিয়ারবক্সে ত্রুটি দেখা দিলে মেরামতের খরচ অনেক বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন: ১ লিটার ডিজেলে কত কিলোমিটার চলে ট্রাক? ৫০০ কিমি পাড়ি দিতে খরচের হিসাব

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যা করা প্রয়োজন অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ মেরামত করতে হলে মোট খরচের হিসাব করা জরুরি। তবে এই লক্ষণগুলোর কোনো একটি দেখা গেলেই সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি বদলে ফেলতে হবে, এমন কোনো মানে নেই। প্রথমে কোনো অভিজ্ঞ মেকানিকের সাহায্যে সমস্যাটি সঠিকভাবে নির্ণয় করান। মেরামতের সম্ভাব্য খরচ, গাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য এবং ভবিষ্যতে আরও কী কী খরচ হতে পারে—সব দিক ভালোভাবে বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

kwid-2_20240110_095936014

গাড়ির দীর্ঘস্থায়িত্ব বজায় রাখার উপায়?

গাড়ির আয়ু বাড়াতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। গাড়ি প্রস্তুতকারকের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর সার্ভিসিং ও ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করতে হবে। টায়ারের ক্ষয়, বাতাসের সঠিক চাপ এবং ব্রেকের কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। এ ছাড়া ব্যাটারি, কুল্যান্ট, ফিল্টার ও সাসপেনশনের যত্ন নিন। ইঞ্জিনের সতর্কবার্তা, অস্বাভাবিক শব্দ বা মাইলেজ হঠাৎ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত সারিয়ে তুলুন। অকারণে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো বা হঠাৎ ব্রেক কষা এড়িয়ে চললে গাড়ি অনেক দিন ভালো থাকে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর