নতুন গাড়ি কেনা প্রত্যেকেরই স্বপ্ন। কিন্তু অনেকেই গাড়ি কেনার সময় ভাবেন, ডিজেল গাড়ি এবং পেট্রোল গাড়ি দেখতে তো প্রায় একই রকম, তাহলে ডিজেল গাড়ি পেট্রোল গাড়ির তুলনায় বেশি দামি হয় কেন? শোরুমে একই মডেলের দুটি ভ্যারিয়েন্ট পাশাপাশি রাখা থাকলেও ডিজেল ভ্যারিয়েন্টের দাম অনেকটাই বেশি হয়। অনেকেরই মনে হয় কোম্পানি অতিরিক্ত লাভ করছে, কিন্তু আসল কারণ হলো ইঞ্জিনের গঠন এবং সরকারের কঠোর নিয়ম।
ডিজেল ইঞ্জিনকে বেশি চাপ সহ্য করতে হয়, তাই এতে শক্তিশালী যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে হয় এবং ধোঁয়া কমানোর জন্য বিভিন্ন সিস্টেমও যুক্ত করতে হয়। সঠিক গাড়ি বেছে নেওয়ার জন্য এই পার্থক্যগুলো বোঝা জরুরি। চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক, কোম্পানি কোন কোন কারণে অতিরিক্ত টাকা নেয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই অতিরিক্ত খরচ উঠে আসে কি না।

সাধারণত একই গাড়ির ডিজেল ভ্যারিয়েন্ট পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বেশি দামি হয়। এই পার্থক্য মডেল, ভ্যারিয়েন্ট এবং গিয়ারবক্সের উপর নির্ভর করে বদলে যায়। অর্থাৎ গাড়ি কেনার সময় আপনাকে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়। এই অতিরিক্ত খরচের বড় অংশ ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ এবং ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণকারী সিস্টেমের জন্য হয়।
আরও পড়ুন: মাহিন্দ্রার মাইলফলক: ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রি হলো ১ লাখ
পেট্রোল ইঞ্জিনের তুলনায় ডিজেল ইঞ্জিনে বেশি কম্প্রেশন থাকে। অর্থাৎ জ্বালানি পোড়ানোর জন্য বাতাসকে অনেক বেশি সংকুচিত করা হয়। ফলে ইঞ্জিনের গঠন এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশের জন্য আরও শক্তিশালী পার্টস প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে টার্বোচার্জার এবং ইন্টারকুলারও রয়েছে। বর্তমান ডিজেল ইঞ্জিনে Common-Rail Injection System ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত উচ্চচাপে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ করে। এই চাপ ২,০০০ বার বা তারও বেশি হতে পারে। এত নির্ভুল এবং শক্তিশালী যন্ত্রাংশ তৈরি করা বেশ ব্যয়বহুল।

ডিজেল থেকে নির্গত ধোঁয়া তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিকর হওয়ায় ডিজেল গাড়ির জন্য নির্গমন সংক্রান্ত নিয়মও বেশি কঠোর। নিয়ম চালু হওয়ার পর ডিজেল গাড়িতে DPF (Diesel Particulate Filter) প্রয়োজনীয় হয়েছে, যা ধোঁয়ার সূক্ষ্ম কণা আটকে রাখে। অনেক গাড়িতে SCR System এবং AdBlue-ও ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী ধাপে রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে Emission Test করাও প্রয়োজনীয় হয়েছে। এই অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক সংস্থা ডিজেল ইঞ্জিনের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।

ভারতের দিল্লিতে ডিজেলের দাম পেট্রোলের তুলনায় প্রায় ৭ টাকা প্রতি লিটার কম এবং ডিজেল গাড়ি সাধারণত বেশি মাইলেজও দেয়। তবুও একটি হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ১৫,০০০ কিলোমিটার গাড়ি চালালে অতিরিক্ত খরচের টাকা উঠে আসতে ৫ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। ডিজেল গাড়ির সার্ভিসিংয়ের খরচও বেশি, কারণ টার্বোচার্জার, DPF এবং ইনজেক্টরের রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। ফলে যাঁরা প্রতিদিন অনেকটা পথ গাড়ি চালান, তাঁদের জন্য ডিজেল গাড়ি বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে, অন্যদিকে শহরের মধ্যে কম দূরত্বে গাড়ি চালালে পেট্রোল গাড়ি তুলনামূলকভাবে উপযুক্ত হতে পারে।
এজেড




