হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস ভারতের অন্যতম সর্বাধিক বিক্রিত মোটরসাইকেল। বর্তমানে কলকাতার বাজারে এটি ৭৭ হাজার ৫৫৩ রুপি প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দামে কেনা যায়। আপনি যদি আগামী দিনে স্প্লেন্ডার প্লাস কেনার পরিকল্পনা করেন এবং আপনার বাজেট সীমিত হয়, তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য সহায়ক হবে। এই প্রতিবেদনে বাইকটির অন-রোড দাম, মাসিক কিস্তি বা ইএমআই বিবরণীর পাশাপাশি এর ডিজাইন, স্পেসিফিকেশন, ইঞ্জিন ও মাইলেজের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।
কলকাতায় নতুন স্প্লেন্ডার প্লাসের প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দামের সঙ্গে ৮৪৮০ রুপি পরিবহন বা আরটিও চার্জ এবং সর্বোচ্চ ৬৩৭৯ রুপি পর্যন্ত ইনস্যুরেন্স বা বিমার খরচ যুক্ত হয়। ফলে বাইকটির অন-রোড দাম দাঁড়ায় ৯২ হাজার ৪১২ ভারতীয় রুপি। তবে শহর, ডিলারশিপ, আরটিও এবং বিমা সংস্থা ভেদে এই দামে কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
মাসিক কিস্তি বা ইএমআই এবং লোনের হিসাব
আপনি যদি নতুন স্প্লেন্ডার কেনার সময় ২০ হাজার রুপি ডাউন পেমেন্ট করেন, তবে বাকি ৭২ হাজার ৪১২ রুপির ওপর বাইক লোন বা ঋণ নিতে হবে। আপনার ক্রেডিট স্কোর ভালো থাকলে প্রায় ১০ শতাংশ সুদের হারে এই লোন পাওয়া যেতে পারে। আপনি যদি এই লোন ২ বছরের জন্য নেন, তবে প্রতি মাসে ৩৬২১ ভারতীয় রুপির মোট ২৪টি কিস্তি বা ইএমআই পরিশোধ করতে হবে।

এইভাবে দুই বছরে মোট প্রায় ১৪ হাজার ৪৯২ রুপি সুদ দিতে হবে। সুদ যোগ হওয়ার পর বাইকটির মোট দাম দাঁড়াবে ১ লাখ ৬ হাজার ৯০৪ রুপি। যার মধ্যে ২০ হাজার রুপির ডাউন পেমেন্টও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এগুলো শুধুমাত্র একটি উদাহরণ। সঠিক সুদের হারে লোন পাওয়া আপনার মাসিক আয় এবং ক্রেডিট স্কোরের ওপর নির্ভর করে। এছাড়া আপনি যদি বাংলাদেশে এই বাইকটি কিনতে চান, তবে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহজ কিস্তি সুবিধায় এটি কিনতে পারবেন, যদিও সে ক্ষেত্রে টাকার অংক ও সুদের হার ভিন্ন হবে।
ডিজাইন, স্পেসিফিকেশন এবং ফিচার্স
এটি ক্ল্যাসিক এবং ব্যবহারিক ডিজাইনের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় কমিউটার বাইক। এতে রয়েছে বক্স আকৃতির রেকট্যাঙ্গুলার হেডল্যাম্প (বেস মডেলে হ্যালোজেন এবং এক্সটেক সংস্করণে এলইডি ও এইচ-শেপড ডিআরএল), সাধারণ বডি গ্রাফিক্স, লম্বা একক বা সিঙ্গল সিট, টিউবুলার ডাবল ক্র্যাডল ফ্রেম, ১৮ ইঞ্চি অ্যালয় হুইলে টিউবলেস টায়ার এবং ৫-স্টেপ অ্যাডজাস্টেবল রিয়ার সাসপেনশন। ড্রাম ব্রেক, ১৬৫ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, ৭৮৫ মিলিমিটার সিট উচ্চতা এবং ১১২ কেজি ওজন বাইকটিকে প্রতিদিনের যাতায়াতে অত্যন্ত আরামদায়ক করে তুলেছে। এক্সটেক সংস্করণগুলিতে ডিজিটাল ক্লাস্টার, ব্লুটুথ, ইউএসবি পোর্ট, সাইড-স্ট্যান্ড ইন্ডিকেটর এবং হ্যাজার্ড লাইট পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস এক্সটেক: মাইলেজের রাজা এই মোটরসাইকেল, জানুন দাম
ইঞ্জিন এবং মাইলেজ
বাইকটিতে রয়েছে ৯৭.২ সিসি এয়ার-কুলড, ৪-স্ট্রোক, একক সিলিন্ডার ওএইচসি ইঞ্জিন। এটি প্রায় ৮ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ৮.০৫ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। প্রোগ্রামড ফুয়েল ইনজেকশন, ৪-স্পিড গিয়ারবক্স এবং আইডল স্টপ-স্টার্ট প্রযুক্তির সঙ্গে বাইকটি বাজারে আনা হয়েছে। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এর প্রতি লিটারে ৭০ কিলোমিটার মাইলেজের দাবি করা হয় এবং এর জ্বালানি ট্যাঙ্কের ধারণক্ষমতা ৯.৮ লিটার।
এজেড




