ভারতের হ্যাচব্যাক বাজারে নতুন এসইউভির দাপটে একসময়ের জনপ্রিয় মডেলগুলোর উপস্থিতি কিছুটা কমলেও, প্রথম গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এখনও অনেক ক্রেতার প্রথম পছন্দ হ্যাচব্যাক। এই সেগমেন্টে অন্যতম জনপ্রিয় নাম মারুতি সুজুকি ব্যালেনো। সম্প্রতি নিজেদের এই সর্বাধিক বিক্রিত মডেলটিকে নতুন রূপ দিতে ফেসলিফ্ট সংস্করণ এনেছে মারুতি সুজুকি। নতুন ডিজাইনের পাশাপাশি এতে যোগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ফিচার, নতুন ইঞ্জিন এবং একাধিক পাওয়ারট্রেন অপশন। ফলে কোন ভ্যারিয়েন্টে কোন ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স পাওয়া যাচ্ছে, তা জেনে নেওয়া জরুরি।
ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী পাওয়ারট্রেনের বিন্যাস
নতুন ব্যালেনোর বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে পাওয়ারট্রেনের অপশনগুলো রাখা হয়েছে এভাবে: সিগমা মডেলে রয়েছে ১.২-লিটার পেট্রোল ম্যানুয়াল (MT)। ডেল্টা ও জিটা মডেলে পাওয়া যাচ্ছে ১.২-লিটার পেট্রোল এমটি, ১.২-লিটার পেট্রোল এএমটি (AMT) এবং ১.২-লিটার সিএনজি এমটি। এছাড়া আলফা এবং আলফা ও ভ্যারিয়েন্ট দুটিতে রয়েছে ১.২-লিটার পেট্রোল এমটি ও ১.২-লিটার পেট্রোল এএমটি।
তালিকা থেকে স্পষ্ট যে, বেস মডেল সিগমা ছাড়া বাকি সব ভ্যারিয়েন্টেই এএমটি গিয়ারবক্সের সুবিধা রয়েছে। তবে ব্যালেনোর প্রিমিয়াম বা টপ-স্পেক আলফা এবং আলফা ও ভ্যারিয়েন্টে সিএনজি পাওয়ারট্রেন রাখা হয়নি। ফলে যাঁরা টপ ভ্যারিয়েন্টের আধুনিক ফিচারের সঙ্গে সিএনজির মাইলেজ চান, তাঁদের জন্য বিষয়টি কিছুটা হতাশাজনক হতে পারে। একমাত্র ডেল্টা এবং জিটা ভ্যারিয়েন্টেই তিনটি পাওয়ারট্রেন অপশন একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।

নতুন ১.২-লিটার ইঞ্জিনের বিশেষত্ব
২০২৬ মারুতি সুজুকি ব্যালেনো ফেসলিফটে ব্যবহার করা হয়েছে নতুন ১.২-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিন, যার সঙ্গে সিএনজি সংস্করণও রয়েছে। পেট্রোল সংস্করণে ইঞ্জিনটি থেকে সর্বোচ্চ ৮৩ পিএস শক্তি এবং ১১২ এনএম টর্ক পাওয়া যায়, যা ৫-স্পিড ম্যানুয়াল অথবা ৫-স্পিড এএমটি গিয়ারবক্সের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, সিএনজি সংস্করণে সর্বোচ্চ শক্তি ৭০ পিএস এবং ১০২ এনএম টর্ক পাওয়া যায়, যা ৫-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সে চালিত হয়। এই নতুন ইঞ্জিন যুক্ত করার মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো এবং শহরের রাস্তায় গাড়ি চালানো আরও সহজ করা। মারুতির সুইফট ও ডিজায়ার মডেলেও এই ইঞ্জিনটি ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
ফিচার ও সুরক্ষায় বড় আপডেট
নতুন ব্যালেনো ফেসলিফটে দেওয়া হয়েছে বড় ১০.১-ইঞ্চি ইনফোটেইনমেন্ট টাচস্ক্রিন এবং আপডেট করা ইউজার ইন্টারফেস। এছাড়া ওয়্যারলেস অ্যানড্রয়েড অটো, ওয়্যারলেস অ্যাপল কারপ্লে, ওয়্যারলেস ফোন চার্জার, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল, ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট এবং ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সিএনজিচালিত এই প্রাইভেট কার সবচেয়ে বেশি মাইলেজ দেয়
নিরাপত্তার দিক থেকে নতুন ব্যালেনোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো লেভেল-২ এডিএএস (ADAS) প্রযুক্তি, যার মধ্যে রয়েছে রিয়ার ক্রস ট্রাফিক অ্যালার্ট, ব্লাইন্ড স্পট ওয়ার্নিং এবং সেফ এক্সিট ওয়ার্নিং। পাশাপাশি গাড়িটিতে ৬টি এয়ারব্যাগ, ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম, হিল স্টার্ট অ্যাসিস্ট, ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল এবং আইএসওফিক্স চাইল্ড সিট অ্যাঙ্করের মতো আধুনিক ফিচার রয়েছে।
দাম ও বাজার প্রতিদ্বন্দ্বিতা
নতুন মারুতি সুজুকি ব্যালেনো ফেসলিফটের প্রারম্ভিক দাম ধরা হয়েছে ৬.১০ লাখ রুপি (এক্স-শোরুম), যা সিগমা ভ্যারিয়েন্টের জন্য প্রযোজ্য। তবে উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টগুলোর দাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বাজারে হুন্ডাই আই২০, টাটা অল্ট্রোজ এবং টয়োটা গ্লানজার মতো জনপ্রিয় মডেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে এই নতুন হ্যাচব্যাকটিকে।
এজেড




