পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের আকাশছোঁয়া দামের কারণে সাধারণ মানুষ সিএনজি গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন। কম খরচে যাতায়াতের জন্য এই গাড়ি অত্যন্ত ভালো একটি বিকল্প হলেও কিছু ছোটখাটো ভুলের কারণে সিএনজির মাইলেজ অনেকটাই কমে যেতে পারে। যদি আপনার গাড়িটিও আগের তুলনায় কম মাইলেজ দিতে শুরু করে, তবে কয়েকটি সহজ বিষয় মাথায় রেখে সহজেই মাইলেজ বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। টায়ার প্রেশার থেকে শুরু করে এয়ার ফিল্টার এবং স্পার্ক প্লাগের মতো যন্ত্রাংশের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ গাড়ির জ্বালানি দক্ষতার ওপর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সিএনজি সিলিন্ডারের অতিরিক্ত ওজনের কারণে গাড়ির পেছনের অংশে বাড়তি চাপ থাকে। এমন অবস্থায় টায়ারে হাওয়া কম থাকলে রাস্তার সঙ্গে ঘর্ষণ বেড়ে যায় এবং গাড়ি সচল রাখতে ইঞ্জিনকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। ফলস্বরূপ সিএনজির ব্যবহার বেড়ে মাইলেজ কমে যায়। তাই প্রতি সপ্তাহে টায়ারের হাওয়ার চাপ অবশ্যই পরীক্ষা করুন এবং তা সঠিক মাত্রায় রাখুন। টায়ার প্রেশার ঠিক থাকলে গাড়ি চালানোর সময় ইঞ্জিনের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ অনেকটাই কমে যায়।

ইঞ্জিন সঠিকভাবে সচল রাখতে পর্যাপ্ত বাতাসের প্রয়োজন হয়। এয়ার ফিল্টারে অতিরিক্ত ধুলাবালি জমে গেলে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা দারুণভাবে ব্যাহত হয়। তাই প্রতি পাঁচ হাজার কিলোমিটার অন্তর এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা কিংবা প্রয়োজনবোধে তা বদলে ফেলা উচিত। তাছাড়া সিএনজি জ্বালানোর জন্য পেট্রোলের তুলনায় বেশি স্পার্কের প্রয়োজন হয়। পুরনো বা নোংরা স্পার্ক প্লাগের কারণে গাড়ি ঝাঁকুনি দিতে পারে এবং গ্যাসের খরচ বহুগুণ বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত বিরতিতে স্পার্ক প্লাগ এবং সিএনজি কিটের টিউনিং পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
গাড়ি চালানোর ভুল ধরনও মাইলেজ কমে যাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ। হঠাৎ করে জোরে অ্যাক্সিলারেটর চাপা এবং ঘনঘন ব্রেক কষলে সিএনজির খরচ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। ভালো মাইলেজ পেতে হলে সর্বদা স্থির গতিতে গাড়ি চালানো এবং সঠিক সময়ে গিয়ার পরিবর্তন করা দরকার। সাধারণত ঘণ্টায় পঞ্চাশ থেকে সত্তর কিলোমিটার স্থির গতিতে গাড়ি চালালে ভালো মাইলেজ বজায় রাখা সহজ হয়। তাই দ্রুত গতিবেগ বাড়ানো এবং বারবার অপ্রয়োজনে ব্রেক করা থেকে বিরত থাকুন।
আরও পড়ুন: তীব্র রোদে পার্ক করা গাড়ি দ্রুত ঠান্ডা করার উপায়
গ্যাস ভরার সময়ের ওপরও সিএনজির পরিমাণ অনেকটা নির্ভর করে। ভোরবেলা কিংবা রাতের দিকে আবহাওয়ার তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। ঠান্ডা তাপমাত্রায় গ্যাস বেশি সংকুচিত হতে পারে, ফলে সিলিন্ডারে সঠিক ও পূর্ণ চাপে গ্যাস ভরা সম্ভব হয়। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো নিয়ম করে মেনে চললে কোনো রকম বাড়তি খরচ ছাড়াই সিএনজি গাড়ির মাইলেজ অনেকাংশে বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব, যা প্রতিদিনের যাতায়াতের জ্বালানি খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
এজেড





