ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মোটরযান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টিভিএস মোটর কোম্পানি স্কুটার ও বাইকের বাজারে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে ব্র্যান্ডটির সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মডেল জুপিটার। এই ধারাবাহিকতায় এবার আকর্ষণীয় নতুন লুক ও উন্নত ফিচারে বাজারে এসেছে টিভিএস জুপিটার ডুয়াল-টোন স্পেকট্রাল রেঞ্জ। দৃষ্টিনন্দন নতুন রঙ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনে তৈরি এই স্কুটারটি ক্রেতাদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। নতুন এই স্কুটারের এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে ৮৯ হাজার ৮২৫ রুপি থেকে।
নতুন এই সংস্করণে দুটি আকর্ষণীয় রঙ যুক্ত করা হয়েছে, যার নাম স্পেকট্রাল ব্লু এবং স্পেকট্রাল কপার। এগুলোর ডুয়াল-টোন ফিনিশ স্কুটারটিকে দিয়েছে সম্পূর্ণ নতুন ও প্রিমিয়াম একটি রূপ। ডিজাইনের ক্ষেত্রে এতে ম্যাচিং ইনার প্যানেল, নতুন ফিনিশযুক্ত সিট এবং পার্সিয়াল ক্রোম মিরর ব্যবহার করা হয়েছে। ১১০ সিসি স্কুটার সেগমেন্টে ডুয়াল-টোন ট্রিটমেন্টের সঙ্গে এমন স্পেকট্রাল রঙের ব্যবহার এই প্রথম দেখা গেল।

স্কুটারটির বাহ্যিক ও কার্যক্ষমতার দিক থেকেও কিছু নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে আধুনিক টার্ন ইন্ডিকেটর যুক্ত করা হয়েছে, যা ক্রমান্বয়ে আলো জ্বলে চমৎকার একটি লাইটিং সিগনেচার তৈরি করে। চালক ও পেছনে বসা যাত্রীর আরাম নিশ্চিত করতে আগের চেয়ে দীর্ঘ ও প্রিমিয়াম সিট এবং ইন্টিগ্রেটেড ব্যাকরেস্ট দেওয়া হয়েছে, ফলে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ হবে আরও স্বস্তিদায়ক। এছাড়া দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধার জন্য ৩৩ লিটার ধারণক্ষমতার বিশাল আন্ডার-সিট স্টোরেজ রাখা হয়েছে, যেখানে সহজেই দুটি হেলমেট রাখা সম্ভব।
আরও পড়ুন: ইলেকট্রিক স্কুটার ও বাইক নিয়ে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া সম্ভব?
প্রযুক্তির দিক থেকেও স্কুটারটি বেশ সমৃদ্ধ। এতে স্মার্টএক্সকানেক্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে নেভিগেশন, কল ও এসএমএস অ্যালার্টের মতো সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি মোবাইল চার্জ করার জন্য রয়েছে ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট। স্কুটারের ইঞ্জিনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, এতে আগের মতো ১১৩.৩ সিসি সিঙ্গেল সিলিন্ডার ফোর-স্ট্রোক পেট্রোল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এই ইঞ্জিন থেকে ৭.৯ হর্সপ পাওয়ার এবং ৯.৮ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন হয়।

অতিরিক্ত পারফরম্যান্স ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য এতে টিভিএস আইজিও অ্যাসিস্ট প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা অ্যাক্সিলারেশন এবং তেল খরচ কমাতে সাহায্য করে। ফুয়েল ইকোনমির দিক থেকে এই স্কুটারটি দারুণ প্রশংসনীয়। এআরএআই অনুমোদিত তথ্য অনুযায়ী এর মাইলেজ প্রতি লিটারে ৬১.২ কিলোমিটার। এছাড়া বাস্তব ক্ষেত্রে এটি শহরে প্রতি লিটারে ৫০.২ কিলোমিটার এবং মহাসড়কে ৫৬.৪ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম।
এজেড




