পেট্রোল পাম্পে গিয়ে অনেকেই ১০০ বা ৫০০ টাকার সরল অংকের বদলে ১১০, ১২০ বা ৫২০ টাকার মতো অদ্ভুত অংকের তেল ভরেন। অনেক চালকেরই ধারণা, এভাবে তেল নিলে পাম্পের জালিয়াতি বা কম তেল দেওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে আদতে কি এই ধারণার কোনো ভিত্তি আছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক তেল কেনাবেচার আসল রহস্য।
পাম্পের মেশিনগুলো যেভাবে কাজ করে, পেট্রোল বা ডিজেলের পরিমাপের সঙ্গে তার প্রক্রিয়াটি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সাধারণত পাম্পের মেশিনগুলোতে রাউন্ড ফিগার বা নির্দিষ্ট অংকের (যেমন- ১০০, ২০০, ৫০০ বা ১০০০ টাকা) কোড সেট করা থাকে। এর জন্য কর্মচারীদের সুবিধার্থে ‘ওয়ান বাটন সিস্টেম’ বা দ্রুত চাপ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে, যার ফলে সময় বাঁচে ও পরিশ্রম কমে।
অনেকেরই ধারণা থাকে, কর্মচারীরা রাউন্ড ফিগারের সুযোগ নিয়ে কারচুপি করতে পারে, তাই তারা ১১০ বা ৫২০ টাকার মতো অংক বলে থাকেন। কিন্তু জ্বালানি পাম্পের মূল হিসাব নির্ধারিত হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়মে।

মেশিনের আসল হিসাব যেভাবে হয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট্রোল পাম্পের মেশিনগুলো মূলত লিটারের ভিত্তিতে ডিজাইন করা। এর ভেতরের ‘ফ্লো মিটার’ প্রতি লিটারের হিসাব নিখুঁতভাবে কষে। আপনি যখন টাকার অংকে তেল চান (যেমন- ৫০ টাকা বা ১১০ টাকা), তখন মেশিনের নিজস্ব সফটওয়্যার সেই টাকাটিকে লিটারে কনভার্ট বা রূপান্তর করে।
আপনি যদি ১১০ বা ১২০ টাকার মতো অপ্রচলিত অংকে তেল কেনেন, তখন গণনার সময় মেশিনটিকে অনেক ক্ষেত্রে দশমিক বা রাউন্ড অফ করতে হয়। ধরা যাক, আপনার টাকায় ১০.২৪ লিটার তেল পাওয়ার কথা, কিন্তু হিসাবের রাউন্ড অফ বা মেশিনের টেকনিক্যাল প্রক্রিয়ার কারণে সেটি ১০.২ লিটারে গিয়ে ঠেকতে পারে। অর্থাৎ, অদ্ভুত অংকের টাকা বললেই যে আপনি সঠিক পরিমাণ তেল পাবেন, তার কোনো বৈজ্ঞানিক বা নিশ্চিত প্রমাণ নেই। এর পুরোটাই নির্ভর করে পাম্পের মেশিনের ওপর।

কোনটা লাভজনক ও সচেতন গ্রাহকের করণীয়?
টাকার অংকের চেয়ে সবসময় নির্দিষ্ট লিটারে (যেমন-১ লিটার, ২ লিটার বা ৫ লিটার) পেট্রোল বা অকটেন কেনাটাই সবচেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত ও নিরাপদ। কারণ মেশিনের মূল কাঠামো বা প্রোগ্রামিং লিটারের পরিমাপ ধরেই তৈরি করা হয়।
আরও পড়ুন: ১০০, ২০০, ৫০০ টাকার পেট্রোল কেন ভরবেন না জানুন
তাই অহেতুক ১১০ বা ১২০ টাকার মতো অদ্ভুত অংকের হিসাব না কষে সরাসরি লিটারের হিসেবে তেল নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। পাশাপাশি, তেল ভরার সময় সবসময় মেশিনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে রিডিং শূন্য (‘০’) আছে কি না, তা ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।
এজেড




