অফিস-কলেজে রোজ যাতায়াতের জন্য দারুণ বিকল্প এই বাইক। ১ লিটার পেট্রোলে চলবে ৬০ কিলোমিটার। আপনি যদি ১২৫ সিসি সেগমেন্টে একটি নতুন বাইক কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে টিভিএস রাইডার আপনার জন্য একটি দুর্দান্ত বিকল্প হতে পারে। স্পোর্টি লুক, শক্তিশালী ইঞ্জিন, ভালো মাইলেজ এবং আধুনিক ফিচারের কারণে এই বাইকটি তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। শহরে অফিস বা কলেজে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হলে এই বাইকটি সেই চাহিদা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। তবে বাইক কেনার আগে ইঞ্জিন, মাইলেজ, ব্রেকিং সিস্টেম, ফিচার এবং দাম সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি, যাতে নিজের বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
টিভিএস রাইডার-এ রয়েছে ১২৪.৮ সিসি সিঙ্গল-সিলিন্ডার, এয়ার ও অয়েল-কুলড ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন প্রায় ১১.২ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ১১.৭৫ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। এর সঙ্গে রয়েছে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স, যা শহরের যানজটের রাস্তায় যেমন সহজে চালানো যায়, তেমনই হাইওয়েতেও ভালো গতি তুলতে সাহায্য করে। কম গতিতেও ইঞ্জিন মসৃণ পারফরম্যান্স দেয় এবং প্রয়োজনে দ্রুত অ্যাক্সিলারেশনও পাওয়া যায়। ভারতের টিভিএস রাইডার-এর ড্রাম ব্রেক ভ্যারিয়েন্টের এক্স-শোরুম দাম ৮৩,৪১০ রুপি থেকে শুরু। বাংলাদেশে এই মোটরসাইকেলের দাম ১ লাখ ৭০ হাজার। এর একটি এফআই ভার্সন রয়েছে। যার দাম ১ লাখ ৯০ হাজার।

বর্তমানে বাইক কেনার সময় মাইলেজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংস্থার দাবি, টিভিএস রাইডার প্রতি লিটারে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে পারে। নিয়মিত সার্ভিসিং এবং সঠিকভাবে চালালে অনেক ব্যবহারকারী ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার প্রতি লিটার পর্যন্ত মাইলেজও পেয়ে থাকেন। ফলে জ্বালানির খরচ কম হয় এবং প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য এটি সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে।
শুধু মাইলেজ বা পারফরম্যান্স নয়, ফিচারের দিক থেকেও টিভিএস রাইডার এই সেগমেন্টের অনেক বাইককে টক্কর দেয়। এতে রয়েছে ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, যেখানে গতি, জ্বালানির লেভেল, ট্রিপ মিটারসহ বিভিন্ন তথ্য দেখা যায়। এছাড়া রয়েছে এলইডি হেডলাইট, ইউএসবি চার্জিং পোর্ট এবং ইঞ্জিন স্টার্ট-স্টপ সিস্টেম। উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায় টিএফটি ডিসপ্লে, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, কল ও এসএমএস অ্যালার্ট, টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন এবং ভয়েস অ্যাসিস্ট-এর মতো আধুনিক ফিচার।
টিভিএস রাইডার বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে উপলব্ধ হওয়ায় ব্রেকিং সিস্টেমেও পার্থক্য রয়েছে। বেস ভ্যারিয়েন্টে ড্রাম ব্রেক দেওয়া হয়েছে, আর উচ্চতর ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে ফ্রন্ট ডিস্ক ব্রেক। কিছু ভ্যারিয়েন্টে সিঙ্গল-চ্যানেল এবিএস-ও রয়েছে, যা হঠাৎ ব্রেক করলে বাইক পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমায়। যারা নিয়মিত হাইওয়েতে চলাচল করেন বা বেশি নিরাপত্তা চান, তাদের জন্য ডিস্ক ব্রেক ও এবিএস-যুক্ত ভ্যারিয়েন্ট ভালো বিকল্প।

টিভিএস রাইডার-এর সিট লম্বা ও আরামদায়ক। ফলে চালক এবং পেছনে বসা যাত্রী উভয়েরই দীর্ঘ সফরে ক্লান্তি কম হয়। বাইকটির ওজনও তুলনামূলক কম হওয়ায় শহরের যানজটে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পাশাপাশি সাসপেনশন সেটআপ খারাপ রাস্তাতেও আরামদায়ক রাইডিংয়ের অভিজ্ঞতা দেয়। প্রতিদিন যদি ৩০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাতায়াত করতে হয় এবং ভালো মাইলেজ চান, তাহলে টিভিএস রাইডার একটি উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী এবং প্রথমবার বাইক কিনতে চলা ক্রেতাদের জন্য এটি বেশ আকর্ষণীয়।
আরও পড়ুন: হোন্ডা ৫০০ সিসির রোডস্টার মোটরসাইকেল আনল
বাইক কেনার আগে ঠিক করে নিন কোন ভ্যারিয়েন্টটি আপনার প্রয়োজন। বাজেট কম হলে বেস মডেল বেছে নিতে পারেন। তবে বেশি ফিচার এবং উন্নত নিরাপত্তা চাইলে ডিস্ক ব্রেক ও ব্লুটুথ-যুক্ত ভ্যারিয়েন্টের জন্য কিছুটা বেশি খরচ করা লাভজনক হতে পারে। পাশাপাশি আপনার শহরে সার্ভিস সেন্টারের সংখ্যা, স্পেয়ার পার্টসের সহজলভ্যতা এবং অন-রোড দাম সম্পর্কেও আগে থেকে খোঁজ নিয়ে নিন।
এজেড




