লেটেস্ট মডেলের আইফোন কিনতে গেলে কয়েক লাখ টাকা লাগে। অথচ বাজারে হোন্ডা এমন এক মোটরসাইকেল এনেছে যার দাম আইফোনের চেয়েও কম। সম্প্রতি বাজারে এসেছে হোন্ডা লিভোর নতুন সংস্করণ।
স্টাইল এবং দুর্দান্ত মাইলেজের পারফেক্ট কম্বিনেশন হল হোন্ডা লিভো। মধ্যবিত্তের বাজেটে তৈরি এই কমিউটার বাইকে রয়েছে শক্তিশালী ১১০ সিসি ইঞ্জিন, ইএসপি টেকনোলজি, এসিজি স্টার্টার এবং কম্বি ব্রেক সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক ফিচার। রোজকার যাতায়াতে আরামদায়ক রাইডিংয়ের জন্য এটি নিত্যযাত্রীদের সেরা পছন্দ।
বর্তমান সময়ে পেট্রোল ও অকটেনের দাম যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়াটা স্বাভাবিক। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন নিজেদের কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য দুই চাকার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য একটি সাশ্রয়ী বাইক অত্যন্ত জরুরি।
এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ভারতের বাজারে কমিউটার বাইকের চাহিদা সবসময় তুঙ্গে থাকে। ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় টু-হুইলার প্রস্তুতকারক সংস্থা হোন্ডা নিত্যযাত্রীদের এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের অন্যতম সেরা মডেল হোন্ডা লিভো। এই বাইকটি একদিকে যেমন দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, ঠিক তেমনই এর স্পোর্টি লুক তরুণ প্রজন্মকেও দারুণভাবে আকর্ষণ করে। রোজকার যানজট এবং খারাপ রাস্তায় নিশ্চিন্তে যাতায়াতের জন্য এই বাইকটি এক বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে উঠেছে।

হোন্ডা লিভোর আকর্ষণীয় ডিজাইন ও স্পোর্টি লুক
সাধারণত কমিউটার বাইক বলতে আমাদের চোখের সামনে একটি খুব সাধারণ এবং সাদামাটা বাইকের ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু হোন্ডা লিভো এই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এর ডিজাইন অত্যন্ত আধুনিক এবং স্পোর্টি। এই বাইকের সামনে রয়েছে শার্প হেডল্যাম্প কাউল এবং ফুয়েল ট্যাঙ্কের দুইপাশে রয়েছে মাস্কুলার ট্যাঙ্কের শ্রাউড, যা বাইকটিকে একটি প্রিমিয়াম লুক দেয়। এর পাশাপাশি বাইকের বডিতে থাকা আকর্ষণীয় গ্রাফিক্স এটিকে রাস্তার অন্যান্য সাধারণ বাইকের থেকে আলাদা করে তোলে। বাইকটির ব্ল্যাক-আউট ইঞ্জিন এবং অ্যালয় হুইল এর স্পোর্টি আবেদনকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যারা কম বাজেটের মধ্যে একটি স্টাইলিশ বাইক খুঁজছেন, তাদের জন্য এই ডিজাইন এক কথায় অনবদ্য।
শক্তিশালী ইঞ্জিন ও উন্নত পারফরম্যান্স
যেকোনো বাইকের মূল আকর্ষণ হলো তার ইঞ্জিন। হোন্ডা লিভো বাইকে একটি অত্যন্ত রিফাইন্ড এবং শক্তিশালী ১১০ সিসির ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোর-স্ট্রোক, সিঙ্গেল সিলিন্ডার ইঞ্জিনটি দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য যথেষ্ট পাওয়ার এবং টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। হোন্ডার বিশ্বস্ত ইঞ্জিন হওয়ার সুবাদে এর পারফরম্যান্স অত্যন্ত স্মুথ। সবথেকে বড় কথা হলো, এই বাইকে কোম্পানির নিজস্ব ইএসপি টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রযুক্তির কারণে ইঞ্জিনের ঘর্ষণ অনেকটাই কম হয়, যার ফলে ইঞ্জিনের আয়ু বৃদ্ধি পায় এবং রাইডিং অভিজ্ঞতা অনেক বেশি আরামদায়ক হয়। ট্রাফিকে বারবার গিয়ার পরিবর্তন করার ক্ষেত্রেও এই ইঞ্জিন খুব মসৃণভাবে কাজ করে।

অত্যাধুনিক ফিচার যা নজর কাড়বে
নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে হোন্ডা লিভো বাইকে একাধিক আধুনিক ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এই বাইকের ড্যাশবোর্ডে রয়েছে একটি চমৎকার ডিজিটাল-অ্যানালগ কনসোল। এই মিটারে স্পিডোমিটারটি অ্যানালগ হলেও, এর সাথে থাকা ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ফুয়েল গেজ, ট্রিপ মিটার এবং সার্ভিস ডিউ ইন্ডিকেটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। বাইকটি স্টার্ট করার ক্ষেত্রে কোনো রকম আওয়াজ ছাড়া যাতে ইঞ্জিন চালু হয়, তার জন্য এতে এসিজি স্টার্টার প্রযুক্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য এই বাইকে রয়েছে সিবিএস বা কম্বি ব্রেক সিস্টেম প্রযুক্তি। এর ফলে পেছনের ব্রেক চাপলে সামনের ব্রেকও সমানুপাতিক হারে কাজ করে, যা বাইককে স্কিড করার হাত থেকে রক্ষা করে। চাকায় ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত মানের টিউবলেস টায়ার, যা রাস্তায় পাংচার হওয়ার দুশ্চিন্তা থেকে রাইডারকে মুক্তি দেয়।
পকেটে স্বস্তি দেওয়া দুর্দান্ত মাইলেজ
কমিউটার বাইক কেনার আগে ক্রেতারা যে বিষয়টির উপর সবথেকে বেশি জোর দেন, তা হলো মাইলেজ। আর এই দিক দিয়ে হোন্ডা লিভো তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কড়া টেক্কা দেয়। হোন্ডার উন্নত ইঞ্জিন এবং ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেমের কারণে এই বাইকটি থেকে অনায়েসেই প্রতি লিটারে ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটারের দুর্দান্ত মাইলেজ পাওয়া যায়। শহরের ট্রাফিক হোক বা ফাঁকা হাইওয়ে, সব জায়গাতেই এই বাইকটি জ্বালানি সাশ্রয় করতে সক্ষম। প্রতিদিনের অফিস যাতায়াত বা ছোটখাটো কাজের জন্য এই বাইক ব্যবহার করলে পেট্রোল খরচের দিক থেকে পকেটে অনেকটাই স্বস্তি পাওয়া যায়।

আরামদায়ক রাইডিং ও সাসপেনশন
রাস্তার খানাখন্দ এবং দীর্ঘক্ষণ বাইক চালানোর কারণে যাতে রাইডারের কোনো শারীরিক কষ্ট না হয়, সেদিকে হোন্ডা বিশেষ নজর দিয়েছে। হোন্ডা লিভো বাইকের সিটটি বেশ লম্বা এবং চওড়া, যার ফলে চালক এবং সহযাত্রী দুজনেই খুব আরামদায়কভাবে বসতে পারেন। সিটের কুশনিং অত্যন্ত উন্নত মানের হওয়ায় পিঠে বা কোমরে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। বাইকটির সামনের চাকায় রয়েছে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনের চাকায় ফাইভ-স্টেপ অ্যাডজাস্টেবল টুইন শক অ্যাবজরবার ব্যবহার করা হয়েছে। এই উন্নত সাসপেনশন সিস্টেম ভাঙাচোরাও রাস্তাতেও খুব ভালোভাবে ঝাঁকুনি শোষণ করে নেয়। এছাড়া বাইকের গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স যথেষ্ট বেশি হওয়ায় স্পিড ব্রেকার বা উঁচু-নিচু রাস্তায় বাইকের নিচে আঘাত লাগার কোনো ভয় থাকে না।
বাজারে হোন্ডা লিভোর দাম ও ভ্যারিয়েন্ট
ক্রেতাদের বাজেট এবং পছন্দের কথা মাথায় রেখে হোন্ডা এই বাইকটিকে দুটি প্রধান ভ্যারিয়েন্টে বাজারে লঞ্চ করেছে। এর একটি হলো সাধারণ ড্রাম ব্রেক ভ্যারিয়েন্ট এবং অন্যটি হলো তুলনামূলক উন্নত ডিস্ক ব্রেক ভ্যারিয়েন্ট। যারা একটু বেশি নিরাপত্তা চান, তারা সামনের চাকায় ডিস্ক ব্রেক যুক্ত মডেলটি অনায়াসেই বেছে নিতে পারেন। দামের দিক থেকেও বাইকটি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রাখা হয়েছে। ভারতের বাজারে এই বাইকটির এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে আনুমানিক ৭৮ হাজার রুপি থেকে শুরু করে ৮২ হাজার রুপির আশেপাশে। রাজ্য এবং ডিলারশিপ অনুযায়ী এই দামের সামান্য রদবদল হতে পারে।
আরও পড়ুন: কিস্তিতে কিনুন রয়্যাল এনফিল্ড ক্ল্যাসিক ৩৫০ মডেল
কেন কিনবেন এই বাইক
সবশেষে বলা যায়, যারা প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং একই সাথে স্টাইলিশ দুচাকার বাহন খুঁজছেন, তাদের জন্য হোন্ডা লিভো একটি দুর্দান্ত বিকল্প। হোন্ডার মতো বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের ইঞ্জিন, নজরকাড়া ডিজাইন, উন্নত ইএসপি টেকনোলজি এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এর অভাবনীয় মাইলেজ এই বাইকটিকে কমিউটার সেগমেন্টে একটি অন্যতম সেরা পছন্দ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আপনি যদি আপনার কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক মূল্য পেতে চান এবং দীর্ঘদিনের জন্য একটি পারফেক্ট বাইক কিনতে চান, তবে নির্দ্বিধায় হোন্ডা লিভোর কথা বিবেচনা করতে পারেন।
এজেড




