প্রতিদিন অফিস বা ব্যবসার কাজে যাতায়াতের জন্য একটি সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য মোটরসাইকেল আমাদের জীবনের অন্যতম প্রধান প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বাজারে জ্বালানির চড়া দামের কথা মাথায় রেখে বেশিরভাগ মানুষই এমন বাইক খোঁজেন, যা ভালো মাইলেজের পাশাপাশি বাজেটবান্ধব হবে। আপনিও যদি কম বাজেটে হোন্ডা (Honda) কোম্পানির একটি দুর্দান্ত বাইক কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে এই তালিকাটি আপনার জন্য অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে।
হোন্ডার বিশ্বস্ত ইঞ্জিন এবং চমৎকার জ্বালানি সাশ্রয়ী ক্ষমতার কারণে ভারত ও বাংলাদেশের বাজারে এই ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে। এই তালিকায় হোন্ডার সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং সেরা ৫টি বাইকের দাম, ইঞ্জিন ও মাইলেজের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো, যাতে আপনি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা বাইকটি বেছে নিতে পারেন।
হোন্ডা শাইন ১০০ (Honda Shine 100)
ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্য: এটি হোন্ডা কোম্পানির সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং সাধারণ মানের কমিউটার বা নিয়মিত যাতায়াতের উপযোগী মোটরসাইকেল। ভারতের দিল্লিতে এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে প্রায় ৬৫,৬৪২ রুপি থেকে। এর গঠন বেশ স্লিম বা হালকা এবং চমৎকার ডিজাইনের হওয়ায় শহরের জ্যামের মধ্যে যাতায়াত করা খুবই সহজ। বাইকটিতে আধুনিক অ্যালয় হুইল, বেশ লম্বা ও আরামদায়ক সিট এবং একটি অ্যানালগ মিটার কনসোল দেওয়া হয়েছে।
ইঞ্জিন ও মাইলেজ: এই বাইকে রয়েছে ৯৮.৯৮ সিসির এয়ার-কুলড ফুয়েল-ইনজেক্টেড ইঞ্জিন, যা ৭.৩৮ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ৮.০৪ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। এটি প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম।
নিরাপত্তা: বাইকটির চাকার সুরক্ষায় দুই দিকেই ড্রাম ব্রেকের পাশাপাশি হোন্ডার বিশেষ কম্বি ব্রেকিং সিস্টেম (CBS) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা হঠাৎ ব্রেক কষলেও মোটরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

হোন্ডা শাইন ১০০ ডিএক্স (Honda Shine 100 DX)
ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্য: যারা সাধারণ মডেলের চেয়ে একটু গর্জিয়াস এবং আধুনিক লুকের বাইক পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই ডিএক্স বা লাক্সারি মডেলটি আনা হয়েছে। এর এক্স-শোরুম দাম রাখা হয়েছে প্রায় ৭২,১৪৬ রুপি। এর মূল ডিজাইন স্ট্যান্ডার্ড শাইন ১০০-এর মতো হলেও, এতে নতুন চমৎকার বডি গ্রাফিক্স বা স্টিকার এবং অতিরিক্ত কয়েকটি রঙের বিকল্প পাওয়া যাবে। ফিচারের মধ্যে এতে যুক্ত হয়েছে সাইড-স্ট্যান্ড কাট-অফ অ্যালার্ম এবং ক্লিয়ার-লেন্স ইন্ডিকেটর বা পরিষ্কার সিগন্যাল লাইট।
ইঞ্জিন ও মাইলেজ: এই বাইকেও একই বিশ্বস্ত ৯৮.৯৮ সিসির ইএসপি (eSP) ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৬০ থেকে ৬৪ কিলোমিটারের মতো দারুণ মাইলেজ দেয়, যা মধ্যবিত্ত বা বাজেট ক্রেতাদের জন্য খুবই সাশ্রয়ী।
নিরাপত্তা: নিরাপত্তার দিক থেকে এই মডেলেও কম্বি ব্রেকিং সিস্টেমসহ (CBS) শক্তিশালী ড্রাম ব্রেক দেওয়া হয়েছে।
হোন্ডা লিভো (Honda Livo)
ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্য: স্পোর্টি এবং স্টাইলিশ বাইকপ্রেমীদের জন্য এটি ১১০ সিসি সেগমেন্টের একটি দুর্দান্ত মোটরসাইকেল। এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে ৮২,৮৯৭ রুপি থেকে। এর পেশিবহুল ফুয়েল ট্যাংক এবং আকর্ষণীয় ট্যাংক শ্রাউড একে একটি প্রিমিয়াম লুক এনে দেয়। এই বাইকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল, গিয়ার পজিশন ইন্ডিকেটর, সার্ভিস রিমাইন্ডার বা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের সতর্কবার্তা এবং সাইলেন্ট স্টার্ট (ACG) প্রযুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বৃষ্টিতে মোটরসাইকেল কতক্ষণ চালানো নিরাপদ? ইঞ্জিনের সুরক্ষায় করণীয়
ইঞ্জিন ও মাইলেজ: লিভোতে রয়েছে ১০৯.৫১ সিসির আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ওবিডি-২বি (OBD-2B) কমপ্লায়েন্ট ইঞ্জিন, যা ৮.৭৯ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ৯.৩ নিউটন মিটার টর্ক দিতে পারে। এই বাইকটি লিটারপ্রতি অনায়াসে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে পারে।
নিরাপত্তা: উন্নত নিয়ন্ত্রণের জন্য এর সামনের চাকায় ২৪০ মিলিমিটারের ডিস্ক ব্রেক (ঐচ্ছিক) এবং পেছনের চাকায় ড্রাম ব্রেক রয়েছে, যা সিবিএস (CBS) প্রযুক্তির সাথে চমৎকার ব্রেকিং নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে।
হোন্ডা শাইন ১২৫ (Honda Shine 125)
ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্য: ভারতের ১২৫ সিসি ক্যাটাগরির অন্যতম জনপ্রিয় ও তুমুল বিক্রিত বাইক হলো হোন্ডা শাইন। এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে ৮২,২৫৩ রুপি থেকে। এর চমৎকার এবং ক্লাসিক ডিজাইন, সাথে ক্রোম ফিনিশিং একে একটি অভিজাত লুক দিয়েছে। এর বিশেষ ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স, সাইলেন্ট স্টার্টার বা শব্দহীন স্টার্ট ব্যবস্থা, হ্যালোজেন হেডল্যাম্প এবং একটি পরিচ্ছন্ন অ্যানালগ মিটার ক্লাস্টার।
ইঞ্জিন ও মাইলেজ: এতে অত্যন্ত নিখুঁত ১২৩.৯৪ সিসির পরিশীলিত ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা ১০.৭৮ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ১১ নিউটন মিটার টর্ক তৈরি করে। শহর কিংবা হাইওয়ে—যেকোনো পথেই এই বাইকটি প্রতি লিটারে প্রায় ৫৫ থেকে ৬৪ কিলোমিটার মাইলেজ দেয়।
নিরাপত্তা: রাইডারের সুরক্ষার জন্য এর সামনের চাকায় চমৎকার ডিস্ক ব্রেকের বিকল্প সুযোগ এবং ইকুয়ালাইজার সুবিধাসহ সিবিএস (CBS) ব্রেকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
হোন্ডা ইউনিকর্ন (Honda Unicorn)
ডিজাইন ও বৈশিষ্ট্য: হোন্ডা ইউনিকর্ন মূলত এর দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং অত্যন্ত মসৃণ পারফরম্যান্সের জন্য সুপরিচিত। এই বাইকটির ডিজাইন বেশ ক্লাসিক এবং এর পেশিবহুল ফুয়েল ট্যাংক একে একটি রাজকীয় লুক দেয়। এর লম্বা ও একখণ্ডের আরামদায়ক সিট চালক ও পেছনের যাত্রী—উভয়ের জন্যই যাতায়াত আরামদায়ক করে তোলে। দূরপাল্লার ভ্রমণের ঝাঁকুনি এড়াতে এর সামনের চাকায় উন্নত মানের টেলিস্কোপিক সাসপেনশন দেওয়া হয়েছে।
ইঞ্জিন ও মাইলেজ: এতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৬২.৭১ সিসির শক্তিশালী সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন, যা প্রতিদিনের যাতায়াতে পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করে। ৫-স্পিড গিয়ারবক্স থাকার কারণে শহরের জ্যামে ঘন ঘন গিয়ার পরিবর্তন করার ঝামেলা অনেকটাই কমে যায় এবং ইঞ্জিনের আয়ুও বাড়ে।
এজেড




