শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

সিএনজিচালিত গাড়ি চালান? গরমে দুর্ঘটনা এড়াতে যে ৫টি বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম

শেয়ার করুন:

সিএনজিচালিত গাড়ি চালান? গরমে দুর্ঘটনা এড়াতে যে ৫টি বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
সিএনজিচালিত গাড়ি চালান? গরমে দুর্ঘটনা এড়াতে যে ৫টি বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

দেশজুড়ে চলছে তীব্র দাবদাহ। পারদ চড়তে চড়তে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। আবহাওয়ার এমন চরম বৈরী অবস্থায় মানুষের পাশাপাশি যানবাহনেরও অতিরিক্ত যত্ন ও বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে সাশ্রয়ী খরচ এবং চমৎকার মাইলেজের কারণে যারা সিএনজি (CNG) চালিত গাড়ি ব্যবহার করছেন, এই তীব্র গরমে তাদের সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে। 

গ্রীষ্মের এই খরতাপে সিএনজি সিলিন্ডার ও গ্যাস লাইনের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় ত্রুটিপূর্ণ সিস্টেম থেকে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে মারাত্মক বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড। তাই এই আবহাওয়ায় নিরাপদ থাকতে সিএনজি গাড়ি চালকদের পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা জরুরি।


বিজ্ঞাপন


tata_20260514_103533194

গ্রীষ্মকালে সিএনজি গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো কোনো অবস্থাতেই গ্যাসের ট্যাঙ্ক সম্পূর্ণ বা ফুল লোড করা যাবে না। তীব্র গরমের কারণে সিলিন্ডারের ভেতরে থাকা গ্যাস স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি প্রসারিত হয়, যার ফলে সিলিন্ডারের অভ্যন্তরীণ চাপ বিপজ্জনক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। ট্যাঙ্কে যদি গ্যাস প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত খালি জায়গা না থাকে, তবে উচ্চ চাপের কারণে সিলিন্ডার ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ঝুঁকি এড়াতে অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞরা গরমের দিনগুলোতে ট্যাঙ্কের ধারণক্ষমতার চেয়ে অন্তত ২ থেকে ৩ কেজি কম গ্যাস পূর্ণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

গাড়ির ভেতরে বা আশেপাশে সামান্যতম গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলেও সেটিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। যেকোনো সময় গ্যাসের মৃদু গন্ধ আসাও সিএনজি লিকেজের স্পষ্ট সংকেত হতে পারে। এমন পরিস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই কালবিলম্ব না করে দ্রুত গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে এবং অনতিবিলম্বে কোনো অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে পুরো গ্যাস সিস্টেমটি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করাতে হবে। মনে রাখতে হবে, অবহেলিত ছোট একটি লিকেজই পরবর্তীতে যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার রূপ নিতে পারে।

cng


বিজ্ঞাপন


তীব্র গরমে সিএনজি গাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এর পাইপলাইন, রেগুলেটর, ফিটিংস এবং ভালভ নিয়মিত বিরতিতে পরীক্ষা করা আবশ্যক। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে গ্যাস লাইনের পাইপ বা সংযোগস্থলে ফাটল ধরা, মরিচা পড়া কিংবা ঢিলা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এসব ত্রুটি ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তা পরিবর্তন করে নেওয়া উচিত। অনুমোদিত দক্ষ মেকানিক দ্বারা সময়মতো সার্ভিসিং করালে একদিকে যেমন গাড়ির শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে ইঞ্জিনের পারফরম্যান্সও দারুণ থাকে। এর পাশাপাশি সিলিন্ডারের উচ্চ চাপ ধারণক্ষমতা যাচাই করতে নির্দিষ্ট সময় পর পর 'হাইড্রো টেস্ট' বা জলীয় চাপ পরীক্ষা সম্পন্ন করা জরুরি, কারণ একটি পুরনো বা দুর্বল সিলিন্ডার প্রচণ্ড গরমে চলন্ত বোমার সমান বিপজ্জনক হতে পারে।

আরও পড়ুন: বিক্রি হবে মাত্র ৩০টি গাড়ি, এলো মিনি কুপার এস জিপি ইন্সপায়ার্ড এডিশন

সিএনজি চালিত গাড়ির ইঞ্জিন সাধারণ পেট্রোল বা ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রায় কাজ করে থাকে। গরমের দিনে এই তাপমাত্রা আরও দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা ইঞ্জিনের উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাড়ির এয়ার ফিল্টার এবং স্পার্ক প্লাগ সবসময় পরিষ্কার ও সচল রাখা জরুরি। ত্রুটিপূর্ণ স্পার্ক প্লাগের কারণে গাড়ির শক্তি কমে যায় এবং ইঞ্জিন অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একই সাথে নোংরা বা জ্যাম হয়ে থাকা এয়ার ফিল্টার গাড়ির মাইলেজও বহুগুণে কমিয়ে দেয়।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর