জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম আর পরিবেশ দূষণ নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন অটোমোবাইল শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ‘হাইব্রিড মোটরসাইকেল’। গাড়ি বা কারের ক্ষেত্রে হাইব্রিড প্রযুক্তি বেশ পুরনো হলেও, এখন এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দুই চাকার যানবাহনেও। মূলত জ্বালানি তেলের সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের নিশ্চয়তা দিতেই এই প্রযুক্তির উদ্ভাবন।
হাইব্রিড মোটরসাইকেল আসলে কী?
বিজ্ঞাপন
সহজ কথায় বলতে গেলে, যে মোটরসাইকেলে দুটি ভিন্ন শক্তির উৎস (জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুৎ) একত্রে কাজ করে, তাকেই হাইব্রিড মোটরসাইকেল বলা হয়। এতে একটি চিরাচরিত পেট্রোল বা গ্যাসোলিন ইঞ্জিন থাকে এবং এর পাশাপাশি থাকে একটি বৈদ্যুতিক মোটর ও ব্যাটারি প্যাক।
এটি যেভাবে কাজ করে
হাইব্রিড মোটরসাইকেল সাধারণত তিনটি মোডে কাজ করতে পারে-
১. ইলেকট্রিক মোড: কম গতিতে বা যানজটে চলার সময় এটি ব্যাটারি চালিত মোটর ব্যবহার করে চলে। ফলে এক ফোঁটা তেলও খরচ হয় না।
বিজ্ঞাপন
২. পেট্রোল মোড: যখন হাইওয়েতে বেশি গতির প্রয়োজন হয়, তখন এটি সরাসরি ইঞ্জিনের শক্তিতে চলে।
৩. কম্বাইনড মোড: এটি এমন এক প্রযুক্তি যেখানে ইঞ্জিন এবং মোটর উভয়েই শক্তি সরবরাহ করে। এতে বাইকের টর্ক বা পিকআপ অনেক বেড়ে যায় এবং তেলের ওপর চাপ কম পড়ে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, অনেক হাইব্রিড বাইকে ব্যাটারি আলাদা করে চার্জ দিতে হয় না; বাইক যখন তেলের ইঞ্জিনে চলে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ব্যাটারি চার্জ হতে থাকে। একে বলা হয় ‘সেলফ চার্জিং’ প্রযুক্তি।

হাইব্রিড বাইকের সুবিধা
জ্বালানি সাশ্রয়: সাধারণ বাইকের তুলনায় হাইব্রিড বাইক প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি মাইলেজ দিতে পারে।
পরিবেশবান্ধব: তেলের দহন কম হওয়ায় এটি বায়ুমণ্ডলে কার্বন নিঃসরণ অনেক কমিয়ে দেয়।
অতিরিক্ত শক্তি: ইলেকট্রিক মোটরের তাৎক্ষণিক টর্ক বা শক্তির কারণে বাইকের এক্সিলারেশন অনেক স্মুথ এবং শক্তিশালী হয়।
আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলের মাইলেজ কমে যাচ্ছে? জানুন মাইলেজ বাড়ানোর উপায়
রেঞ্জ অ্যাংজাইটি নেই: সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক বাইকের মতো চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় এখানে নেই। চার্জ শেষ হলেও তেল দিয়ে অনায়াসে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্ভাবনা
বাংলাদেশে বর্তমানে ফুয়েল ইনজেকশন (FI) প্রযুক্তির বাইক জনপ্রিয় হচ্ছে। হাইব্রিড প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে চালু হলে ঢাকার মতো যানজটপূর্ণ শহরে এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ যানজটে যখন বাইক দাঁড়িয়ে থাকে বা ধীরে চলে, তখন ইলেকট্রিক মোড ব্যবহার করে প্রচুর জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
এজেড




