সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

মোটরসাইকেলে জ্বালানি সাশ্রয়ে স্মার্ট রাইডিং কৌশল

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

মোটরসাইকেলে জ্বালানি সাশ্রয়ে স্মার্ট রাইডিং কৌশল
মোটরসাইকেলে জ্বালানি সাশ্রয়ে স্মার্ট রাইডিং কৌশল

বর্তমান সময়ে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান সংকট মোটরসাইকেল চালকদের জন্য একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন দীর্ঘ পথ যাতায়াত করেন, তাদের পকেটে এর বড় প্রভাব পড়ছে। তবে একটু সচেতন হয়ে এবং রাইডিংয়ের অভ্যাসে ছোট কিছু পরিবর্তন এনে বাইকের মাইলেজ নাটকীয়ভাবে বাড়ানো সম্ভব। আপনার প্রতিদিনের সফরকে সাশ্রয়ী ও স্মার্ট করে তুলতে নিচে ৫টি কার্যকরী কৌশল আলোচনা করা হলো।

১. সঠিক গিয়ার পরিবর্তন ও স্মুথ এক্সিলারেশন


বিজ্ঞাপন


অনেকেই মনে করেন দ্রুত গতিতে চালালে তেল বেশি খরচ হয়, কিন্তু আসলে গতি বাড়ানোর পদ্ধতিতে তেলের খরচ নির্ভর করে। হুটহাট থ্রটল ঘোরানো বা বারবার হার্ড ব্রেক করলে ইঞ্জিনে তেলের চাপ বাড়ে।

5_6f7da213-b7c3-4e06-9151-21a7730a02d8

পরামর্শ: বাইকের ইঞ্জিনের আরপিএম (RPM) অনুযায়ী সঠিক গিয়ার ব্যবহার করুন। কম গিয়ারে ইঞ্জিন খুব বেশি টেনে চালাবেন না। স্মুথ বা মসৃণভাবে গতি বাড়ালে ইঞ্জিন কম জ্বালানি খরচ করে।

২. টায়ারের এয়ার প্রেশার বা বায়ুর চাপ ঠিক রাখা


বিজ্ঞাপন


মাইলেজ কমে যাওয়ার একটি প্রধান কিন্তু অবহেলিত কারণ হলো টায়ারে কম বাতাস থাকা। টায়ারে বাতাস কম থাকলে রাস্তার সঙ্গে ঘর্ষণ বেড়ে যায়, ফলে চাকা ঘুরাতে ইঞ্জিনকে বাড়তি শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। এতে জ্বালানি খরচ অনেক বেড়ে যায়।

পরামর্শ: সপ্তাহে অন্তত দুইবার টায়ারের প্রেশার চেক করুন। প্রস্তুতকারক কোম্পানির নির্দেশিত সঠিক প্রেশার বজায় রাখলে ৫-১০% পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব।

iamroadsmart-surreybrandphotography_75of140_copy

৩. ট্রাফিক সিগন্যালে ইঞ্জিন বন্ধ রাখার গুরুত্ব

আমাদের শহরের জ্যামে পড়ে অনেকটা সময় আইডল অবস্থায় ইঞ্জিন চালু থাকে। নাসা বা বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার মতে, যদি ৩০ সেকেন্ডের বেশি সময় বাইক দাঁড়িয়ে থাকে, তবে ইঞ্জিন বন্ধ রাখাই শ্রেয়।

পরামর্শ: সিগন্যালে লম্বা সময়ের জন্য আটকে থাকলে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিন। আধুনিক অনেক বাইকে 'অটো স্টার্ট-স্টপ' ফিচার থাকে, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে দারুণ কাজ করে।

৪. চেইন এবং এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখা

বাইকের চেইন যদি লুজ বা অপরিচ্ছন্ন থাকে এবং এয়ার ফিল্টারে ধুলাবালি জমে থাকে, তবে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা কমে যায়। ময়লা এয়ার ফিল্টারের কারণে ইঞ্জিন পর্যাপ্ত বাতাস পায় না, ফলে দহনের জন্য সে বেশি পরিমাণ তেল টেনে নেয়।

পরামর্শ: নিয়মিত চেইন পরিষ্কার করে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন এবং প্রতি ১,০০০-১,৫০০ কিলোমিটার পর পর এয়ার ফিল্টার চেক করুন।

bike_pic

৫. অপ্রয়োজনীয় ওজন কমানো এবং ছায়ায় পার্কিং

বাইকে বাড়তি ওজন মানেই ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ। এ ছাড়া প্রচণ্ড গরমে সরাসরি রোদে বাইক পার্ক করলে তেলের ট্যাঙ্কি থেকে জ্বালানি বাষ্পীভূত (Evaporation) হয়ে উড়ে যেতে পারে।

পরামর্শ: বাইকে অপ্রয়োজনীয় ভারী কিছু বহন করবেন না। সম্ভব হলে দিনের বেলা ছায়াযুক্ত স্থানে বাইক পার্ক করার চেষ্টা করুন যাতে ফুয়েল ট্যাঙ্কি ঠান্ডা থাকে।

আরও পড়ুন: মোটরসাইকেল তেল বেশি 'খাচ্ছে' কি না যেভাবে বুঝবেন

জ্বালানি সাশ্রয় করা মানে শুধু টাকা বাঁচানো নয়, এটি পরিবেশের ওপর কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সাহায্য করে। উপরের এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার মাসিক যাতায়াত খরচ যেমন কমবে, তেমনি বাইকের ইঞ্জিনের আয়ুও বৃদ্ধি পাবে। আজ থেকেই শুরু হোক আপনার 'স্মার্ট রাইডিং'।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর