ঢাকা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা রোধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সম্প্রতি বিআরটিএ-র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা লাইসেন্সে উল্লিখিত নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি ব্যতীত ভিন্ন মোটরযান চালালে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনের কঠোর প্রয়োগ ও দণ্ড
বিজ্ঞাপন
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে-
লাইসেন্সবিহীন চালনা: বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি পাবলিক প্লেসে মোটরযান চালাতে পারবেন না।

ভিন্ন ক্যাটাগরি: কোনো চালক যে শ্রেণির (যেমন: মোটরসাইকেল বা হালকা যান) লাইসেন্স পেয়েছেন, সেই নির্দিষ্ট শ্রেণি ব্যতীত অন্য কোনো ক্যাটাগরির মোটরযান চালাতে পারবেন না।
বিজ্ঞাপন
শাস্তি: যদি কোনো ব্যক্তি এই আইন লঙ্ঘন করেন, তবে ধারা ৬৬ অনুযায়ী তিনি অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
লাইসেন্স বাতিল: চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বা অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় গাড়ি চালালে কর্তৃপক্ষ ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা প্রত্যাহার করার ক্ষমতা রাখে।
আরও পড়ুন: অকটেনের গাড়ি কি পেট্রোলে চলে? ভুল জ্বালানি ব্যবহারে ইঞ্জিনের যে ক্ষতি
কেন এই কড়াকড়ি?
বিআরটিএ-র পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেকে লাইসেন্স ছাড়াই অথবা ভিন্ন ক্যাটাগরির গাড়ি চালাচ্ছেন। এছাড়া বিশৃঙ্খলভাবে অতিরিক্ত গতিতে ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে সড়কে মৃত্যুর মিছিল ও পঙ্গুত্বের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মানুষের মূল্যবান জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থেই এই আইনি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়।
মালিক ও চালকদের প্রতি অনুরোধ
কর্তৃপক্ষ সকল মোটরযান চালককে নিজ নিজ লাইসেন্সের শর্ত মেনে গাড়ি চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। একইসঙ্গে পরিবহন মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা লাইসেন্সবিহীন বা ভুল ক্যাটাগরির চালকের হাতে যানবাহন তুলে না দেন। অন্যথায় মালিক ও চালক উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এজেড

