ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি পেতে গাড়িতে উঠেই আমরা এসি চালিয়ে দিই। কিন্তু জ্বালানি তেলের বর্তমান বাজারে প্রিমিয়াম পেট্রোল বা অকটেনের যে দাম, তাতে এসি চালানোর আগে পকেটের হিসাবটা কষে নেওয়া জরুরি। ১ লিটার জ্বালানিতে ঠিক কতক্ষণ এসি চালানো সম্ভব, তা নিয়ে অনেকের মনেই কৌতূহল রয়েছে। তেলের খরচ এবং এসির কার্যকারিতা নিয়ে চমকপ্রদ কিছু তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো-
তেলের খরচ কিসের ওপর নির্ভর করে?
বিজ্ঞাপন
১ লিটার জ্বালানিতে গাড়ি কতক্ষণ ঠাণ্ডা থাকবে, তা মূলত নির্ভর করে গাড়ির মডেল, ইঞ্জিনের ক্ষমতা (CC) এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। সাধারণত বড় ইঞ্জিনের গাড়িতে এসি চালালে জ্বালানি বেশি খরচ হয়।
ছোট বনাম বড় গাড়ির হিসাব
গবেষণা ও ব্যবহারিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে:
ছোট গাড়ি (Sedan/Hatchback): ১ ঘণ্টা এসি চালিয়ে রাখলে সাধারণত ০.২ থেকে ০.৪ লিটার জ্বালানি খরচ হয়। অর্থাৎ, ১ লিটার জ্বালানিতে আপনি প্রায় আড়াই থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত এসি চালাতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
এসইউভি (SUV) বা বড় গাড়ি: বড় গাড়ির ক্ষেত্রে ১ ঘণ্টায় প্রায় ০.৫ থেকে ০.৭ লিটার জ্বালানি খরচ হয়। ফলে ১ লিটার জ্বালানিতে এসি চলবে ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা।
চলন্ত বনাম স্থির গাড়ি
অনেকে মনে করেন চলন্ত অবস্থায় এসি চালালে তেল বেশি পোড়ে, কিন্তু ধারণাটি ভুল। বরং ট্রাফিক জ্যামে বা গাড়ি স্থির অবস্থায় ইঞ্জিন চালু রেখে এসি চালালে জ্বালানি বেশি খরচ হয় (ঘণ্টায় প্রায় ০.২ থেকে ০.৫ লিটার)। কারণ চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বেশি থাকে। এছাড়া পুরনো ইঞ্জিনের গাড়িতে এসি চালালে জ্বালানি খরচের হার অনেকটাই বেড়ে যায়।
গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়ে কিছু জরুরি টিপস
১. গরম বাতাস বের করা: গাড়ি চালু করার পরপরই এসি না ছেড়ে জানালা খুলে দিন। ভেতরের গরম বাতাস বেরিয়ে গেলে এসি দ্রুত ঠাণ্ডা করতে পারবে।
২. রিসার্কুলেশন মোড: গাড়ি ঠাণ্ডা হয়ে এলে এসির 'রিসার্কুলেশন মোড' চালু করুন। এতে বাইরের গরম বাতাস ভেতরে না ঢুকে ভেতরের ঠাণ্ডা বাতাসই পুনরায় ব্যবহৃত হয়, ফলে ইঞ্জিনের ওপর চাপ কম পড়ে।
৩. স্থির অবস্থায় বিরতি: দীর্ঘ সময় ট্রাফিক জ্যামে বা সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকলে এসি বন্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
মনে রাখবেন: গাড়ির এসি ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে এবং সঠিক সময়ে সার্ভিসিং করালে জ্বালানি খরচ ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।
এজেড
