শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

৪৮ বছর পর বদলালো ইঞ্জিনের নিয়ম: পিস্টন রিংয়ের নতুন স্ট্যান্ডার্ড জারি

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

৪৮ বছর পর বদলালো ইঞ্জিনের নিয়ম: পিস্টন রিংয়ের নতুন স্ট্যান্ডার্ড জারি

দীর্ঘ ৪৮ বছর পর ভারতের অটোমোবাইল শিল্পে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে। ১৯৭৭ সালের পুরনো নিয়ম বাতিল করে ইন্টারনাল কমবাশ্চন ইঞ্জিন (ICE)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘পিস্টন রিং’-এর জন্য নতুন বিআইএস (BIS) স্ট্যান্ডার্ড জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস-এর এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো যানবাহনের কার্বন নির্গমন হ্রাস, জ্বালানি সাশ্রয় এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যন্ত্রাংশগুলোকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা।

পিস্টন রিং কেন ইঞ্জিনের জন্য অপরিহার্য?


বিজ্ঞাপন


একটি ইঞ্জিনের সিলিন্ডারে পিস্টন যখন ওঠানামা করে, তখন এই পিস্টন রিংগুলো তেলের স্তর নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক পিচ্ছিলতা (Lubrication) বজায় রাখে। এটি অতিরিক্ত তেলকে ক্র্যাঙ্ককেসে ফিরিয়ে দেয়, যার ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানির কার্যকর দহন ঘটে এবং ঘর্ষণ কমে যায়। পিস্টন রিং উন্নত হলে ইঞ্জিনের শক্তি বাড়ে এবং ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

নতুন নিয়মে কী কী পরিবর্তন আসছে?

নতুন নির্দেশনায় পিস্টন রিংয়ের উপাদানের গুণগত মান, ডাইমেনশনাল টলারেন্স এবং পরীক্ষার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। ভারতের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় ১৪ শতাংশই আসে পরিবহন খাত থেকে, যা এই পরিবর্তনের ফলে অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পেট্রোল-অকটেন বোতলে ভরে রাখলে ঘটতে পারে বিস্ফোরণ


বিজ্ঞাপন


শিল্প খাতে প্রভাব

মারুতি সুজুকি, টাটা মোটরস, মাহিন্দ্রা এবং হুন্দাইয়ের মতো বড় কোম্পানিগুলো আগে থেকেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলে। তাই তাদের জন্য এই নতুন নিয়ম বড় কোনো চ্যালেঞ্জ হবে না। তবে ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি যন্ত্রাংশ নির্মাতাদের (MSME) নতুন প্রযুক্তি ও সরঞ্জামে বিনিয়োগ করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় যন্ত্রাংশকে বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।

forged-vs-cast-pistons-sti-which-should-you-pick-7699836

ইভি বিপ্লবের পথে সহায়ক পদক্ষেপ

বর্তমানে ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV)-এর জনপ্রিয়তা বাড়লেও বাজারে এখনো পেট্রোল ও ডিজেলচালিত যানবাহনের আধিপত্য বেশি। এই স্ট্যান্ডার্ড আপডেট করার অর্থ হলো আইসিই ইঞ্জিনগুলোকে আরও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করে তোলা। এটি কেবল প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, বরং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।

এজেড

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর