বিশ্বে যুদ্ধের প্রভাবে হু হু করে বাড়ছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর, যার ফলে আসন্ন দিনগুলোতে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা প্রকট হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমদানিকৃত ব্যয়বহুল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে 'সোলার সিস্টেম' বা সৌরশক্তি এখন সময়ের দাবি।
অন-গ্রিড বনাম অফ-গ্রিড: কোনটি আপনার জন্য?
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে সোলার সিস্টেম স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধানত দুটি পদ্ধতি জনপ্রিয়:
অন-গ্রিড সোলার সিস্টেম (On-Grid): এই পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল সরাসরি সরকারি বিদ্যুৎ গ্রিডের সাথে যুক্ত থাকে। দিনের বেলা সোলার থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর অতিরিক্ত অংশ গ্রিডে পাঠিয়ে দেওয়া যায় (নেট মিটারিং), যা আপনার বিদ্যুৎ বিল বিপুল পরিমাণে কমিয়ে আনে। এতে ব্যাটারির প্রয়োজন হয় না।

অফ-গ্রিড সোলার সিস্টেম (Off-Grid): এটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ব্যবস্থা। এখানে দিনের বেলা সোলার প্যানেল থেকে আসা বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা হয় এবং সেই সঞ্চিত বিদ্যুৎ রাতে বা মেঘলা দিনে ব্যবহার করা হয়। যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই বা ঘনঘন লোডশেডিং হয়, সেখানে এটিই সেরা সমাধান।
বিজ্ঞাপন
ঘরের ছোট-বড় সব যন্ত্রই এখন চলবে সৌরশক্তিতে
প্রযুক্তির কল্যাণে এখন সোলার পাওয়ার কেবল লাইট বা ফ্যান চালানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাজারে বর্তমানে আধুনিক সব বৈদ্যুতিক গৃহস্থলী যন্ত্রপাতি পাওয়া যাচ্ছে যা সরাসরি সৌরশক্তিতে চলে। যেমন—
ভারী যন্ত্র: উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সোলার ইনভার্টারের মাধ্যমে এখন ফ্রিজ, এসি এবং টেলিভিশন অনায়াসেই চালানো সম্ভব।

যাতায়াত: জ্বালানি তেলের দাম থেকে বাঁচতে বাজারে এসেছে সোলার চালিত স্কুটার এবং গাড়ি।
অন্যান্য: এছাড়া সোলার পাওয়ার ওয়াটার মোটর বা পাম্প কৃষিকাজে বিপ্লব ঘটাচ্ছে। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সোলার গিজার বা ওভেনও এখন সহজলভ্য।
আরও পড়ুন: এই সোলার প্যানেল রাতেও বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে
ব্যক্তিগত পর্যায়ে বা শিল্প-কারখানায় সোলার প্যানেল স্থাপন করলে কেবল মাস শেষের বিদ্যুৎ বিলই কমবে না, বরং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে দেশকে জ্বালানি নিরাপত্তায় সহায়তা করা সম্ভব। পরিবেশবান্ধব এই সবুজ শক্তিই হতে পারে আগামীর আধুনিক বাংলাদেশের চালিকাশক্তি।
এজেড

